মেইন ম্যেনু

“নারী কৃষকদের স্বীকৃতি ও অধিকার সংরক্ষনে জাতীয় প্রচারাভিযান” প্রচারাভিযান ২য় পর্যায়

চকরিয়াতে নারী কৃষকদের উপজেলা ফেডারেশন গঠিত, নারী কৃষকদের জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি দাবী

কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে শস্য, গবাদি পশু, হাঁস মুরগি, সবজি চাষ, মৎস্য চাষ, বনায়ন ইত্যাদি কাজে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমান অবদান রাখলেও সামাজিক ও ধর্মীয় গোড়ামীর কারনে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় নারীর অবদানকে সামাজিক ও রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হচ্ছে না। মানব সৃষ্ঠির আদিকাল থেকেই নারীরা কৃষির জন্য বীজ সংরক্ষন, বাড়ীর আঙ্গীনায় কৃষি কাজ করে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা বিধান করে আসছিল।

অন্যদিকে কৃষক যখন তার উৎপাদিত ফসল বাড়ীতে নিয়ে আসে তার পুরো দায়িত্বই নারীর হাতে। তারপরেও নারীর কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় নারী কৃষকের অবদান মুল্যয়িত না হওয়ায় নারীরা কৃষি কার্ড পাচ্ছে না, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষি ঋন পেতে পোহাতে হচ্ছে নানাবিধ ঝামেলা ও দীর্ঘসুত্রিতা, সরকারী খাস জমি বরাদ্দ পাচ্ছে না, এমনকি নারী কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বাজারে সরাসরি বিক্রি করার কোন সুযোগ পাচ্ছে না।

তাই আগামী অর্থ বছরের বাজেটে নারী কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দসহ নারী কৃষকদের জাতীয় ভাবে স্বীকৃতির দাবী জানানো হয়েছে। ৩০ মে ২০১৫ইং ককসবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার আইএসডিই বাংলাদেশ মিলনায়তনে স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশ এর উদ্যোগে “নারী কৃষকদের স্বীকৃতি ও অধিকার সংরক্ষনে জাতীয় প্রচারাভিযান” প্রচারাভিযান ২য় পর্যায় এ নারী কৃষকদের উপজেলা ফেডারেশন গঠন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত দাবী জানানো হয়।

সভায় মুল সহায়ক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের নুরী। আইএসডিই চকরিয়া কার্যালয়ের কর্মসুচি ব্যবস্থাপক মোঃ গিয়াস উদ্দীন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশনেন বিশিষ্ঠ নারী নেত্রী ও উপজেলা নারী উদ্যোক্তা পরিষদের সভানেত্রী উম্মে কুলসুম মিনু, জেলা মৎস্যজীবি ফেডারেশনের সভানেত্রী আনার কলি জলদাস, নারী নেত্রী দিলরুবা এরফান, রেজুত আরা, জন্নাতুল বকেয়া রেখা, নারী কৃষক আফরোজা বুলবুল প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় বক্তাগন বলেন নারী কৃষকদের অবদানকে স্বীকৃতি প্রদান ও নারী কৃষকরা যেন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সুযোগ সুবিধা পান সে জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংশোধনের দাবী জানান। নারীরা ঘরে বাইরে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ জীবন জীবিকায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখলেও উপাজিত সম্পদে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া ও যথাযথ মুল্যায়িত না হওয়ায় তাদের উপার্জিত সম্পদ একসময় তার স্বামীর মালিকানায় আবার কখনও সন্তানের মালিকানায় চলে যায়। ফলে নারী কখনও স্বামীর আবার কখনও পুত্র সন্তানের। তাই নারীর উপার্জিত সম্পদে নারীর মালিকানা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী।

মতবিনিময় সভা শেষে উম্মেকুলসুম মিনুকে আহবায়ক ও দিলরুবা এরফান, আনারকলি জলদাসকে যুগ্ন আহবায়ক, ডাঃ শাহানা বেগম, জন্নাতুল বকেয়া রেখা, রেজুত আরা, ফাতেমা বেগম, বোকেয়া বেগম বেবী, ফাতেমা বুলবুল, সেতারা বেগম, আফরোজা বুলবুল ও রিপু প্রভা নাথকে সদস্য করে আহবায়ক কমিটি গঠন করে নারী কৃষকদের উপজেলা ফেডারেশন গঠন করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা ফেডারেশনের নেতারা ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী কৃষককের সংগঠিত করার কাজ করবেন।



(পরের সংবাদ) »