মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রামের গহিরায় কোরবানীর পশুর হাটে বাধা দেওয়ায় ইউএনও লাঞ্ছিত

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গহিরা কালাচান্দ চৌধুরী বাজারের কোরবানীর পশুর হাটে সরাতে গিয়ে আয়োজকদের হাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাউজানের গহিরা চিকদাইর ইউনিয়নের দক্ষিন সর্তা এলাকার আওতাধীন কালাচান্দ চৌধুরী বাজারে কোরবানীর পশুর হাট বসানোর জন্য গহিরা-চিকদাইর-দলইনগর এলাকার লোকজন কয়েকদপে প্রস্তুতি নিয়ে কোরবানীর পশুর হাট বসায়।

চিকদাইর ইউনিয়নের কোরবানীর পশুর হাট কালাচান্দ চৌধুরী হাটের উত্তরাংশে সর্তা খালের ব্রীজের উত্তরে গহিরা দলইনগর এলাকায় বসানোকে কেন্দ্র করে গহিরা দলইনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোরবানীর পশুর হাটের আয়োজক গহিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বাশি। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুল প্রদীপ চাকমার কার্যালয়ে একাধিকবার বৈঠক করে। বৈঠকে চিকদাইর ইউনিয়নের আওতাধিন দক্ষিন সর্তা কালাচান্দঁ চৌধুরী বাজার চিকদাইর এলাকায় কোরবানীর পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে গহিরা ইউনিয়নের কোরবানীর পশুর হাট গহিরা দলইনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসানোর সিদ্ধান্তে উপণিত হয়। ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার ও গতকাল ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার কালচান্দ চৌধুরী বাজার ও গহিরা দলইনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোরবানীর পশুর হাট বসে। গহিরা কালচান্দ চৌধুরী বাজারে কোরবানীর পশুর হাটের আয়োজক নাজিম ও তার পক্ষের লোকজন কালাচান্দ চৌধুরী বাজারের উত্তাংশে গহিরা দলইনগর এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধিন অদুদ চৌধুরী সড়কের দু’পার্শ্বে কোরবানীর পশুর হাট বসে।

কালাচান্দঁ চৌধুরী হাটের কোরবানীর পশুর হাট একই দিনের হওয়ায় গহিরা ইউনিয়নের দলইনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোরবানীর পশুর হাট জমে উঠেনি। গতকাল বুধবার কালাচান্দঁ চৌধুরী কোরবানীর পশুর হাটে কোরবনীর পশুর বাজারের উত্তরাংশে অবৈধভাবে কোরবানীর পশুর হাট অবৈধ ভাবে বসানোর অভিযোগ তুলে সকাল ১১টায় রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুল প্রদীপ চাকমা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি দিপক কুমার রায় সড়কের পার্শ্বে গরুর বাজার সরাতে গেলে কোরবানীর বাজারের আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুল প্রদীপ চাকমাকে লাঞ্ছিত করে।

এসময় নির্বাহী অফিসারকে থানা পুলিশ জনতার হাত থেকে উদ্ধার দ্রুত গাড়ীতে তুলে উপজেলায় পাঠিয়ে দেন। পরে রাউজান থানা পুলিশের ধাওয়ার মুখে কোরবানীর বাজারের আয়োজক কমিটিসহ লোকজন দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে কোরবানীর পশুর হাট ঐ স্থানে বসে।

এই ঘটনার ব্যাপারে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুল প্রদীপ চাকমা বলেন, সড়কের উপর অবৈধভাবে কোরবানীর পশুর বাজার সরাতে গেলে কোরবানীর বাজারের অয়োজনকারী লোকজন আমার উপর চড়া হলে পুলিশের ধাওয়ার মুখে তারা পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার ব্যাপারে কালাচান্দ চৌধুরী পশুর হাটের আয়োজনকারী নাজিমের ভাই নাসির জানান, গহিরা কালাচান্দ চৌধুরী বাজাটি প্রায় ১৫-২০ বছর থেকে কোরবানীর পশুর বাজার আয়োজন করে আসছে। ঐতিহ্যবাহী গরুর বাজারটি সরিয়ে নেওয়ার নির্বাহি অফিসার কর্তৃক গরুর কুটি কেটে ফেলে।

এসময় এলাকার লোকজন উত্তেজিত হলে পুলিশের হস্তক্ষেপে তা নিরসন হয়। এ ঘটনার ব্যাপারে রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কোরবানীর পশুর হাটে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ এসে তা নিরসন করেন।