মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রামের রাউজানে ভাতিজার হাতে ফুফু খুন: ২৪ দিনপর ঘটনা ফাঁস

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীর ঊনসত্তরপাড়া গ্রামের নুর আয়শা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ গৃহবধূ কুসুম আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রেখেছে। এই ঘটনায় নিহত নুর আয়শার একমাত্র পুত্র আবদুল মুবিন মামাতো ভাই শেখ কামালসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে গতকাল শনিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পরকীয়া থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। পাহাড়তলী ইউনিয়নের লস্কর উজির দিঘির পার্শ্ববর্তী ঊনসত্তরপাড়া গ্রামের পাহাড়পাদদেশে নির্জন একটি ঘরে দেড় বছরের শিশু সন্তান সাইমা আকতারকে নিয়ে বৃদ্ধ শাশুড়ির সাথে বসবাস করতেন প্রবাসীর স্ত্রী কুসুম আকতার (২৬)। তারা এখানে আছেন বিগত প্রায় সাত বছর থেকে।

দুই বছর আগে নুর আয়শার একমাত্র প্রবাসী পুত্র দেশে এসে আবার কুয়েত প্রবাসে যায়। কুসুমদের ছয় বছরের বিবাহিত জীবনে প্রায় চার বছর ছেলে সন্তান ছিল না। সর্বশেষ তাদের ঘরে আসে কন্যা সন্তান। তার নাম সাইমা আকতার (২)। এলাকার লোকজন বলেছেন নিহত বৃদ্ধা নুর আয়শার বাপের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক পাঁচ’শ গজ দূরে। নুর আয়শার ভাইপো শেখ কামাল তাদের ঘরে যাওয়া আসা করতো।

জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে নির্জন বসতঘরে খুন হয় কুসুমের শাশুড়ি নুর আয়শা (৭০)। সকালে পুত্রবধূ কুসুম প্রতিবেশীদের ডেকে বলেছেন তার শাশুড়ি ঘুমের মধ্যে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে। তিনি এই সংবাদ জানায় প্রবাসী স্বামীকেও। মার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে পরদিন দেশে ফিরে আসে একমাত্র পুত্র আবদুল মুবিন প্রকাশ মনা। তিনি এসে মায়ের দাফন স¤পন্ন করেন।

এই ঘটনার ২৩ দিনের মাথায় ১৫ অক্টোবর স্বামীর কাছে কুসুম প্রকাশ করে শাশুড়ির মৃত্যুর তথ্য। কুসুম জানায় তার শাশুড়ির ভাইপো শেখ কামাল (২৩) সহ অপর এক সহযোগী মিলে গলা টিপে তার ফুফুকে হত্যা করেছে।

এসময় কুসুম দাবি করে হত্যাকারীরা তাকে ঘটনা প্রকাশ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় তিনি এতদিন ঘটনা প্রকাশ করেননি। রাতে এই ঘটনা স্ত্রীর কাছে শুনে সকালে উঠে প্রবাসী স্বামী মনা পাড়া প্রতিবেশিদের কাছে জানায়। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ করা হয় পুলিশের কাছে। গত ১৭ অক্টোবর ঘটনা তদন্ত করতে আসে থানা পুলিশ। যাওয়ার পথে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় গৃহবধু কুসুমকে।

এদিন রাতে মামাতো ভাই শেখ কামালসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দেয় নিহতের পুত্র আবদুল মোবিন। মা’র খুনের মামলার বাদির অভিযোগ তার মামাতো ভাই শেখ কামাল আগে তাদের বাড়িতে থেকে কাজকর্ম করতো। তার আচরণে অসন্তুষ্ট ফুফু তাকে বাড়িতে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

সর্বশেষ মাঝে মধ্যে আসা যাওয়ার কথা শুনে প্রবাস থেকে ফোনে শেখ কামালকে তাদের বাড়ি না যাওয়ার জন্য তিনি নিষেধ করেছিলেন। তবে শেখ কামালের বোন ফটো আকতার দাবি করেন ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে অন্য এক যুবকের পরকীয়া রয়েছে।

সেই যুবকটিই কুসুমের সহায়তায় তার ফুফুকে হত্যা করেছে। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে কুসুম তার ভাইয়ের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনা শুনে গত শুক্রবার থেকে শেখ কামাল বাড়িতে আসছে না বলে তার বোন ফটো জানায়।

থানার ওসি তদন্ত মোহাম্মদ আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন ঘটনা তদন্তে পুলিশ কাজ করছে। গৃহবধূ কুসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি জানান নিহতের লাশ উঠিয়ে ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।