মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রামের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে তামিমের পরিকল্পনা

১৯৯৭ সাল। মালয়েশিয়ায় সেদিন হল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৪১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেই অবস্থায় দলকে একাই সামনে থেকে টেনে তুলেছিলেন অধিনায়ক আকরাম খান। আকরামের ৬৮ আর নান্নুর ২২ রানে ভর করেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেদিনের সেই ম্যাচে আকরামের ফিফটি না এলে আইসিসি ট্রফির ফাইনালে উঠা হতো না বাংলাদেশের।

২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর; ২০০৫ সালে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়। কিন্তু এই টেস্টে এনামুল হক জুনিয়র ছয় উইকেট নিলেও; দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল ৩৫৫ বলে নাফিস ইকবালের ১২১ রানের শতরানটি। এই ম্যাচে শুধু নাফিস ইকবাল সেঞ্চুরি করেননি উইকেটে থেকেছেন ৪৭০ মিনিট। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের সাথে জড়িয়ে আছে আকরাম খানের ভাতিজা নাফিস ইকবালের দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরিটিও।

তবে চাচা, বড় ভাইকে ছাপিয়ে তামিম ইকবাল নিজেকে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য এক উচ্চতায়। টেস্ট, ওয়ানডে কি টি-টোয়েন্টি সব জায়গায় তার দাপুটে পদচারণা। সব শেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই শ রান করে তামিম নিজের নামটি তুলেছেন দেশের পক্ষে সর্বাধিক সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান তালিকার শীর্ষে।

নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফির পর পর সাতক্ষীরার সুপারম্যান মোস্তাফিজ। এভাবে একের পর এক জাতীয় ক্রিকেটার বেরিয়ে আসছে অন্যান্য জেলা শহর থেকে। কিন্তু সে হিসেবে যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা থাকা সত্বেও চট্টগ্রাম থেকে কোন ক্রিকেটার উঠে আসছেনা। অথচ এক সময় চট্টগ্রাম থেকে অনেক অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেলেছেন। ছিল গর্ব করার মতো এক ইতিহাস।

কিন্তু অনেক বছর হয়ে গেল তামিম ইকবালের পর জাতীয় দলে আর কোন চট্টগ্রামের ক্রিকেটারকে দেখা যাচ্ছে না। তামিম ২০০৭ সালে ওডিআই এবং ২০০৮ সালে টেস্টে অভিষিক্ত হওয়ার পর ধারাবাহিক ভাবে চট্টগ্রামের তেমন আর কেউ জাতীয় দলে স্থান করে নিতে পারেননি। এর মাঝে ২০১১ সালে চট্টগ্রামের নাজিমউদ্দিন সুযোগ পেলেও খুব একটা ভাল করতে না পারায় পরের বছরই বাদ পড়ে যান। তারপর থেকেই চলছে হতাশা।

Sports6

তবে এবার জাতীয় ক্রিকেট দলে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল। সেই পরিকল্পনা সফল করতে তামিম আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিজের পিতা সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় মরহুম ইকবাল খানের নামে বয়সভিত্তিক তিনটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

অনুর্ধ্ব ১৩, ১৫ ও ১৭ বয়স ভিত্তিক এই তিনটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করার মধ্যে দিয়ে চট্টগ্রামের প্রতিভাবান ক্রিকেটার খোঁজা হবে। যেটি পরপর তিন বছর টানা চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্য থেকে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের বাছাই করার কাজটি করবেন জাতীয় দলের এই ড্যাশিং ওপেনার।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সকালে জাতীয় ক্রিকেট লীগের চট্টগ্রাম বনাম রাজশাহীর মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন সময়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের চট্টগ্রাম নিয়ে তামিম ইকবাল তার এই পরিকল্পনার কথা জানান।

বাঁ-হাতি বাংলাদেশের তারকা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল জাতীয় দলে চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার পর সর্বশেষ চট্টগ্রাম থেকে আর কোনো খেলোয়াড় জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলেননি। আগে এক সময় চট্টগ্রামের একাধিক খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে খেললেও এখন সেটি মাত্র একজনে এসে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রামের সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে, জাতীয় দলে চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে আমি বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পাশাপাশি সেগুলো নিজেই জানালেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আমার বাবা মরহুম ইকবাল খানের নামে তিনটি বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চালু করব। আমার ধারণা অনুর্ধ্ব ১৩, ১৫ ও ১৭- বয়সভিত্তিক এই তিনটি টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে বেশ কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আমরা পাব। যেটি ধারবাহিকভাবে আমি তিন বছর আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

স্পন্সর নিয়েও আশাবাদী তামিম। তিনি আরো বলেন, ‘পরিকল্পনাটি প্রায় চূড়ান্ত হলেও মাঠ ও স্পন্সর নিয়ে এখনো কথাবার্তা চলছে। প্রাথমিকভাবে সাগরিকা মহিলা কমপ্লেক্স বা দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য টার্গেট করা হয়েছে। এছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় আশা করছি তারাও এই টুর্নামেন্টের স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করবে। আগামী ৫ জানুয়ারি আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। ওই দিন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা বা উদ্বোধনী ম্যাচ রাখার চিন্তা রয়েছে। এরপর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’

346859-akramkhan-1331151455-689-640x480

এসময় অরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ নুরুল আবেদীন নোবেল, কোচ মোমিনুল হক, কোচ মর্তুজা রায়হান মিঠু, সিজেকেএসের ক্রিকেট কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শওকত হোসেন প্রমুখ।

খান পরিবারের এই তিন ক্রিকেটারের সমালোচনা কম হয়নি। কিন্তু যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই দুই হাত ভরে দিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে।

সূত্রঃ আলোকিত বাংলাদেশ