মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রামে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার হুমকি

ভেজালবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতে হামলার পর এবার ওষুধের দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ওষুধ ব্যবসায়ীরা এ ঘোষণা দিয়েছেন।

তারা বলেছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে হামলার ঘটনায় কারাগারে পাঠানো ১২ জনকে মুক্তি না দিলে রোববার সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে সব ওষুধের দোকান বন্ধ রাখা হবে। সমাবেশে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি নূরুল গণি এ ঘোষণা দিয়েছেন। সমাবেশে স্থানীয় কাউন্সিলর জহরলাল হাজারীও উপস্থিত ছিলেন। জহরলাল হাজারী বাংলানিউজকে বলেন, একটা ঘটনা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সমঝোতার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ১২ জন গরীব কর্মচারিকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এতে ওষুধ ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা ধর্মঘট করার কথা বলছেন। আমরা চেষ্টা করছি যাতে একটা সমাধান হয়।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নগরীতে পাইকারি ওষুধ বিক্রয়ের সবচেয়ে বড় বাজার হাজারি লেইনের প্রবেশপথে কে সি দে রোডে একটি অভিযান চালাতে যান জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট রহুল আমিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট যাবার খবর পেয়ে হাজারি লেইনের কয়েক’শ দোকান বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন দোকান মালিক ও কর্মচারিরা। ওষুধ ব্যবসায়ী আশীষ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কয়েক’শ যুবককে এসময় ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে কে সি দে রোডে যেতে দেখা যায়।

কে সি দে রোডে গিয়ে তারা ম্যাজিস্ট্রেট এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের উপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াও হয়। তাদের ইট-পাটকেলে কর্তব্যরত দুই আনসার সদস্য মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১২ জন ওষুধের দোকানের কর্মচারিকে আটক করে। হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের অফিস সহকারি জামাল উদ্দিন বাদি হয়ে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চট্টগ্রাম কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সভাপতি সমীর কান্তি সিকদারসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। হামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দু’শ থেকে তিন’শ জন জড়িত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

বুধবার আটক ১২ জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সমাবেশে নূরুল গণি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্যায়ভাবে আমাদের দোকান মালিক ও কর্মচারীদের কারাগারে ঢুকিয়েছে। সমিতির ৩০ বছরের নেতা সভাপতি এস কে সিকদারকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যার মধ্যে মামলা প্রত্যহার ও গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। মামলা প্রত্যাহার না হলে আগামী রোববার সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত পুরো চট্টগ্রামে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখব। এরপর প্রয়োজনে সোমবার থেকে টানা কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সমাবেশে সমিতির চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি নুরুল আলম সিদ্দিকী, কার্যকরী সদস্য শিবু প্রসাদ দাশ ও কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দোলন কান্তি দাশ বক্তব্য রাখেন।