মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রামে স্বামীর পরিবারের নির্যাতনে গৃহবধূ বীথির বৈদ্যের মৃত্যু

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ার মেয়ে বীথি বৈদ্য(২৫) স্বামী পবিারের সদস্যদের নির্যাতনে মারা গেছে। বীথির কাকাতো ভাই রুবেল বৈদ্য জানিয়েছে স্বামী ননদ, শাশুরী, ননদের জামাই মিলে তার বোনকে তারা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে।

জানা যায়, পুলিশ এই ঘটনায় বীথির স্বামী মিন্টু দে ও ননদ সুমি, ননদের স্বামী তপন দে ও শাশুরী বকুল দে কে গ্রেফতার করলেও পরে শেষের দুজনকে ছেড়ে দিয়েছে। স্বামী ও ননদকে আদালতে সোপর্দ করেছে। বীথি মারা যাওয়ার কারণ সম্পর্কে স্বামী পরিবারের পক্ষে দাবি করেছে টেবিল থেকে পা পিছলে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। আবার কেউ বলেছে ঘরের পাখার সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।

জানা যায় বীথির বিয়ে হয়েছিল দু’বছর আগে শহরের চকবাজার ফুলতলা এলাকার মিন্টু দে এর সাথে। মিন্টু ওই এলাকার মৃত বাবুল দে এর পুত্র। বীথির মা রাণু বৈদ্য অভিযোগ করেছে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বীথির স্বামী ননদ সুমি নির্যাতনে বীথি মারা যায় বিকাল পাঁচটায়।

হত্যাকারীরা বীথির বাপের বাড়ির লোকজনকে না জানিয়ে তড়িগড়ি করে দাহ করে ফেলতে অভয়মিত্র মহাশ্মশানে নিয়ে। সেখান থেকে রাত পৌনে আটটার দিকে মেয়ের কাকা কৃষ্ণকে বীথির ননদ সুমি ফোনে জানায় বীথি ঘরে টেবিল থেকে পড়ে গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসার নেয়া হচ্ছে। পরে বীথির স্বামী মিন্টু শ্যালক রাজুকে জানায় বীথি আত্মহত্যা করেছে।

তাই পুলিশকে না জানিয়ে দাহ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনা শুনে বীথির আত্মীয় স্বজন দ্রুততার সাথে অভয়মিত্র শ্মশান এলাকায় গিয়ে লাশ দাহ করতে বাঁধা দেয়। তারা বিষয়টি বাকলিয়া থানাকে অবহিত করলে পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পরে তার লাশ আবার অভয়মিত্র শ্মশানে নিয়ে দাহ করা হয়। জানা যায় এই ঘটনায় বীথির বাবা অনন্ত বৈদ্য বীথির হত্যার অভিযোগ করে বাকলিয়া থানায় অভিযোগ পত্র দিয়েছেন। তিনি হত্যার জন্য দায়ি করেছেন স্বামী মিন্টু দে, ননদ সুমি দে, শাশুরী বকুল দে ও ভগ্নিপতি তপন দে ’কে।

থানার এস আই ফারুকুল ইসলাম বলেছেন এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান করা হয়েছে। তদন্তের পর আরো কেউ জড়িত প্রমান পাওয়া গেলে তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে। মামলা নথিভূক্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। উল্লেখ্য গৃহবধু বীথির অর্চনা দে পরশি নামের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।