মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবিওয়ালারা

একটি ছবি হাজারো বাক্যের থেকে বেশি শক্তিশালী। ছবি স্থির-মৌন হতে পারে, কিন্তু তার প্রকাশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং তীব্র। একটিও শব্দ ব্যয় না করে অজস্র শব্দের তৈরী গভীর অনুভূতি তৈরী করতে সক্ষম। কোন কোন ছবি দেখে আমরা বাকরুদ্ধ হই, কখনও আবেগে আপ্লুত হই আবার কখনওবা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে আমাদের সত্ত্বা।

পেশার জন্যে হোক কিংবা ভালো লাগার কারণেই হোক, প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে যন্ত্রের সহজলভ্যতায় চিত্রগ্রাহক এর সংখ্যা বেড়েছে। অজস্র রঙ্গিন ঝকঝকে ছবির ভিড়ে দুর্দান্ত কিছু মুহূর্ত প্রায়শই আমাদের চোখে পড়ে। মুগ্ধতা সেসব মানুষের জন্য, তাদের অনবদ্য-অন্তর্ভেদী দৃষ্টির জন্য, খুব সাধারণ মুহুর্তের মাঝে থেকেও অসাধারণত্ব খুঁজে বের করার ক্ষমতার জন্য।

বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নন্দনকানন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেশাধরানো রুপের মুগ্ধতায় বিভোর হয়ে তা ফ্রেমবন্দীতে নেমেছেন অনেক তরুণ।বোটানিকাল গার্ডেন,ফরেস্ট্রি,সেন্ট্রাল ফিল্ড,শহীদ মিনার,কাটা পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য বন্দী করতে বিরামহীন পরিশ্রম করেন চবি’র স্বপ্নবিলাসী তরুণরা।আর ২২০০০ শিক্ষার্থীর হৃদয়ের স্পন্দন ভালোবাসার শাটল ট্রেন তো আছেই।বিশ্ববিদ্যালয়ে ফটোগ্রাফি ক্লাবও রয়েছে।

শখ থেকে শুরু হলেও ফটোগ্রাফি নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা করছেন অনেকেই।ফটোগ্রাফি নিয়ে ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ তৌকির আহমেদ জানান, ”গতানুগতিক চাকরির বাইরেও এমন অনেক পেশা আছে যেখানে ভালোভাবে উপার্জন ও সম্মান আদায় করা সম্ভব। এরকমই একটি পেশা হলো ফটোগ্রাফি। এখানে নিজের দক্ষতার পাশাপাশি শৈল্পিক জ্ঞানের সমন্বয়ে যে কেউ গড়তে পারেন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।ফটোগ্রাফির মতো বিজ্ঞানভিত্তিক শিল্প পৃথিবীতে বিরল।”

চবি ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, কেউ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ওয়েডিং ফটোগ্রাফার (বিয়ের ছবি তোলা) হিসেবেও কাজ করছেন কেউ কেউ।জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গ্যালারীতে প্রদর্শিত হচ্ছে কারো কারো তোলা ছবি।

পড়াশোনা শেষ করার পর বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী গতানুগতিক পেশার পেছনেই ছুটে থাকেন। এদের মধ্যে কেউ চাকরি করে প্রতিষ্ঠিত হন, আবার কেউবা বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন।ফটোগ্রাফি পেশায় নিজের দক্ষতার পাশাপাশি শৈল্পিক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। বর্তমানে এই পেশার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া। সেই সঙ্গে বাড়ছে অনলাইন পত্রিকার পরিধি। ফলে এসব ক্ষেত্রে সৃষ্টি হচ্ছে ফটোগ্রাফারদের কর্মসংস্থান।