মেইন ম্যেনু

চলছে ফাঁসির ক্ষণ গণনা

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরে আর কোন আইনি বাঁধা নেই। যার ফলে এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ক্ষণ গণনা করছে কারা কতৃপক্ষ।

রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল সোমবার কারাগারে পৌঁছানোর পর ফাঁসি কার্যকরে প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। নিজামীকে রায় পড়ে শোনানো হয়েছে। এখন নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নিলে সরকারের নির্ধারণ করা সময়ে কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে।

সোমবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে বিচারপতির সইয়ের পর সন্ধ্যায় লাল কাপড়ে মোড়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। জেল সুপার জাহাঙ্গীর আলম রায়ের কপি গ্রহণের পর নিজামীকে তা পড়ে শোনান। নিজামী পূর্ণাঙ্গ রায় শোনার পর কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। রায় পড়ার সময় তিনি স্বাভাবিক ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি এখন প্রাণভিক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জেলকোডের ৯৯১ বিধি অনুসারে ৭ বা ২১ দিনে দণ্ড কার্যকরের নিয়ম মতিউর রহমান নিজামীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তাই তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে দিন ক্ষণ গণনা চলছে।

এর আগে গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বাকি শুধু প্রাণভিক্ষার সুযোগ

দণ্ড কার্যকরের আগে যুদ্ধাপরাধী নিজামীর শেষ আইনি সুযোগ ছিল রিভিউ আবেদন। তা খারিজের মধ্যদিয়ে আইনি লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি হয়েছে। এখন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে শেষ সুযোগে দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন।

আসামি তা না চাইলে বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা না পেলে সরকার দিনক্ষণ ঠিক করে কারা কর্তৃপক্ষকে ফাঁসি কার্যকরের নির্দেশ দেবে।

রিভিউ খারিজের পর স্ত্রী, ছেলে-মেয়েরা কাশিমপুরে গিয়ে নিজামীর সঙ্গে একবার সাক্ষাত্ করেছেন। তবে সে সময় তারা নিজামীর প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

গত ২৯ মার্চ মতিউর রহমান নিজামী রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এরপর ৩ মে আবেদনের শুনানি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শেষ হয়। ৫ মে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি করে সর্বোচ্চ আদালত।

হত্যা, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবরে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে নিজামী আপিল করার পর, গত ৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রাখার মাত্র তিনদিনের মাথায় ২১ নভেম্বর মধ্যরাতে তাদের দু’জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ করার ৫ দিনের মাথায় তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। আর যুদ্ধাপরাধের দায়ে প্রথম মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয় রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার মাত্র ১০ ঘণ্টা পরই।