মেইন ম্যেনু

চলছে বিজয় উল্লাসের প্রস্তুতিও

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি রায় কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। আজ রাতেই তাকে ঝুলিয়ে দেয়া হতে পারে। এ খবর পেয়ে প্রচুর লোকজন কারাগার প্রঙ্গণে এসে ভিড় জমাচ্ছে। তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে খুশির উচ্ছ্বাস।

নিজামীর ফাঁসি উপলক্ষে বিজয় উল্লাস করতে ছুটে এসেছেন নূর হোসেন। জানা যায়, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। যা মূলত গঠিত হয়েছিল টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর এলাকা নিয়ে।

নূর হোসেন জানান, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই তিনি চলে আসেন ময়মনসিংহে। সেখানে কিছুদিন ট্রেনিংয়ের পর চলে যান ভারতের তুরাগে। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর মূল যুদ্ধে অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি জানালেন নিজামীর নির্যাতনের কথা।

নিজামীকে সামনে থেকে দেখেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ একদম সামনে থেকে দেখসি, মহিলাদের উপর অত্যাচার চালাত আর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের প্রত্যক্ষভাবে সহোযোগিতা করছে সে। সেই ক্ষোভ মিটাইতেই আসছি। আজ আমাদের খুশির দিন।’

আসমা আক্তার নামের একজনকে কি জন্য এসেছেন এখানে জিজ্ঞাসা করতেই বলেন, ‘দেশ যুদ্ধাপরাধীমুক্ত হচ্ছে, দেশের প্রতি যে দায় ছিল তা আজ শোধ হবে। আর সেই ইতিহাসে সাক্ষী হতে এসেছি।’

এছাড়াও অনেক সাধারণ জনগণকেও অধীর আগ্রহে জেলগেটে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার সব রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা (গণমাধ্যম) দেখেছেন, প্রতিবারই রায় কার্যকর করার সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনেসহ আশপাশের রাস্তায় যানজটসহ সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’