মেইন ম্যেনু

চলতি মেয়াদেই ৯ মেগা প্রকল্প শেষ করতে চায় সরকার

রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে নেওয়া ৯টি মেগা বা বৃহৎ প্রকল্প চলতি মেয়াদেই শেষ করতে চায় সরকার। প্রকল্পগুলোর অগ্রগিত পর্যালোচনায় গতকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট আটজনমন্ত্রী, ঢাকার দুই মেয়র এবং চার সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কাজের মান ঠিক রেখে এই মেগা প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে গত সোমবার (১৫ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের একটি চিঠি দেওয়া হয়। সেই চিঠিতে ঢাকা সার্কুলার রুট, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টঙ্গী ও ঢাকা-মাওয়া রেললাইন, টঙ্গী- নারায়ণগঞ্জ পাতাল রেল, ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি), বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঝিলমিল- মগবাজার ও আশুলিয়া- বাইপাইল ফ্লাইওভার, শান্তিনগর- ঢাকা- মাওয়া ফ্লাইওভার, গুলশান- বনানী- বারিধারা লেক প্রকল্পসহ আরো কিছু প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্যসহ বুধবার (গতকাল) দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৫ এস এম তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অর্থমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী, নৌপরিবহনমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং সেতু বিভাগের সচিবকে মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির তথ্য নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত হতে বলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকালের বৈঠকে উপস্থিত একজন জানান, নয়টি প্রকল্পই রাজধানীকে কেন্দ্র করে নেওয়া। এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে এমন কয়েকটি রয়েছে, সেগুলোর মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। এর পরও কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এর একটি ঢাকা সার্কুলার রুট। এটি ২০০০ সালে ইস্টার্ন বাইপাস প্রকল্পের নামে নেওয়া হয়েছিল। রাজধানীর যানজট কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এর চারপাশে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ করার কথা এ প্রকল্পের অধীনে। প্রকল্পটিতে সরকারের বেশ কিছু টাকা খরচও হয়েছে। কিন্তু এখনো বাস্তবায়ন কিছুই হয়নি। অন্য প্রকল্পগুলোও বেশ আগে নেওয়া হয়েছে। আলোচিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজেও শ্লথ গতি। প্রধানমন্ত্রী এসব প্রকল্পের খোঁজখবর নিয়েছেন। কাজ শেষ হতে বিলম্ব হওয়ার কারণও জানতে চেয়েছেন।

বৈঠকের বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, রাজধানীকে কেন্দ্র করে নেওয়া এসব প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় নাগরিক সেবার মান বাড়ছে না। এটি একটি সত্য কথা। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিআরটি ও এমআরটি প্রকল্পগুলো। এ প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে রাজধানীতে গণপরিবহনে একটি শৃঙ্খলা আসবে। নাগরিক সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।

জাফর আহমেদ জানান, মেগা প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে মান ঠিক রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নিতেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন।






মন্তব্য চালু নেই