মেইন ম্যেনু

চলন্ত গাড়িতে সেক্স, বান্ধবী মৃত, গ্রেপ্তার যুবক

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং সেই সঙ্গে উদ্দাম যৌনতার জেরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ব্রিটিশ তরুণী লিজা ওয়্যাটলিং। প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে গারদে ঠাঁই হয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মীনেশ পর্বতের (৩৬)।
বন্ধনহীন ফূর্তির জোয়ারে ভাসতে গিয়ে চরম দণ্ড দিতে হল ব্রিটিশ যুগলকে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মীনেশ পর্বতের সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল দুই সন্তানের জননী বছর আঠাশের লিজা ওয়্যাটলিং-এর। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে নিজের বিএমডব্লিউ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মীনেশ, সঙ্গী প্রেমিকা লিজা। পথ চলতে চলতে নাগাড়ে মদ্যপান করতে থাকেন প্রণয়ী যুগল। স্টিয়ারিংয়ে বসা অবস্থাতেই এর পর প্রেমিকার সঙ্গে শরীরী খেলায় মেতে ওঠেন যুবক। ছুটন্ত গাড়ির ভিতর শুরু হয় অবাধ যৌনক্রিয়া।
এই অবস্থায় গাড়ি চালাতে চালাতে আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন মীনেশ। ঘণ্টায় প্রায় ৯৬ কি. মি. গতিবেগে রাস্তার পাশের গার্ডওয়ালে ধাক্কা মারে গাড়ি। দরজা খুলে ছিটকে পড়েন লিজা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে উইন্ডশিল্ড ভেঙে মুখমণ্ডলে একাধিক কাচের টুকরো ঢুকে যায় মীনেশের। গাড়ির ভিতর থেকে যখন তাঁকে উদ্ধার করা হয়, যুবকের নিম্নাঙ্গে কোনও আব্রু ছিল না। নিডার শরীরের উর্দ্ধাংশে অন্তর্বাস থাকলেও নিম্নাংশে পোশাকের অস্তিত্ব ছিল না। হাসপাতালে চিকিত্‍সার পর ছাড়া পেলে মীনেশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়।
সম্প্রতি সেই মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের লিউইস ক্রাউন কোর্টের নির্দেশে ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে মীনেশ পর্বতের। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি পিটার গ্রিফিথস জানিয়েছেন, ‘লিজার মৃত্যুর জন্য মীনেশ পর্বত দায়ী। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জোরে গাড়ি চালানো এবং তার সঙ্গে যৌনক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্যই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তার দায় এড়াতে পারেন না।’
মীনেশ অবশ্য রায় ঘোষণার পর জানিয়েছেন, মদ্যপান করতে করতে গাড়ি চালালেও যৌনতায় লিপ্ত হননি। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার আগের মুহূর্তে লিজাকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাতে সফল না হওয়ায় গাড়ির দরজা দিয়ে বাইরে ছিটকে পড়েন প্রেমিকা।
রায় ঘোষণার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রয়াত লিজা ওয়্যাটলিং-এর পরিবার। তাঁদের মতে, এই অপঘাত মৃত্যুর কারণে রাতারাতি অনাথ হয়ে গিয়েছে লিজার দুই সন্তান। প্রতি রাতে ঘুম পাড়াতে আর সকালে স্বাগত জানাতে আর কোনও দিন মা’কে দেখতে পাবে না তারা।