মেইন ম্যেনু

চলন্ত ট্রেনকেই নিজের বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন যে যুবতী!

স্টেশনে ট্রেন পৌঁছানোর পর একে একে সবাই নেমে পড়েন। সবারই তখন বাড়ি ফেরার তাড়া। তবে, ট্রেন থেকে নামার কোন তাড়াই যেন নেই ২৩ বছরের এক কলেজছাত্রীর। কারণ ট্রেনকেই নিজের বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন ওই যুবতী। স্নান, খাওয়া, পড়া, ঘুম – সবই চলছে ট্রেনে।

শুনতে অবাক লাগলেও, ট্রেনেই জীবনযাপন জার্মান যুবতী লিয়নি মুলারের। ট্রেনেও যে থাকা যায়, এই ভাবনাটা তাঁর মাথায় আসে বাড়িওয়ালার সঙ্গে ঝগড়ার পর। রোজ রোজ বাড়িওয়ালার খিটখিট সহ্য করতে না পেরে, একদিন তিনি ঠিক করেন, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়।’ তখনই তাঁর মাথায় খেলে যায় এক অভিনব ভাবনা। দেশের যেকোনও ট্রেনে বিনামূল্যে যাত্রা করার টিকিট কেটে নেন মুলার। তারপর পিঠে একটা ব্যাগে কিছু জামাকাপড়, কলেজের বইপত্র আর নিজের ট্যাবলেট কম্পিউটার নিয়ে ট্রেনে চড়ে বসেন তিনি। সেই শুরু। তখন থেকে ট্রেনেই স্নান, ট্রেনেই খাওয়া, ট্রেনেই পড়াশোনা।

ঘণ্টায় ১৯০ মাইল বেগে যখন ট্রেন ছুটছে, তখন হয়তো নিজের কম্পিউটারে কলেজের পেপার তৈরি করছেন মুলার। অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়ার পর থেকে এই রোমাঞ্চকর স্বাধীন জীবন তিনি চুটিয়ে উপভোগ করছেন। মুলার বলছেন, ‘ট্রেনে বাড়ির মতোই অনুভূতি হয়। কত নতুন শহর ঘুরতে পারি, কত নতুন বন্ধু হয়। এটা অনেকটা সবসময় ছুটি কাটানোর মতো।’

বাড়িভাড়া করে থাকার চেয়ে ট্রেনে কাটানোর খরচও অনেকটা কম পড়ছে মুলারের। তবে, সস্তায় থাকাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেছেন, ‘স্বাভাবিক জীবন যাপনের বাইরেও কিছু হয়, এই প্রশ্নটাই আমি মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে চাই। সবসময় আমাদের চারপাশে কিছু সুযোগ থাকে। আশেপাশেই অপেক্ষা করে থাকে রোমাঞ্চ, তবে হ্যাঁ, সেটা খুঁজে নিতে হবে নিজেকেই।’

ট্রেনে থাকার আরও একটা সুবিধে ভোগ করেন মুলার। তাঁর বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব যাঁরা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন, মাঝেমধ্যেই তাঁদের সঙ্গে দেখা করে আসেন মুলার। ট্রেন যখন যাঁর বাড়ির দিকে নিয়ে যায়, চলে যান তাঁর বাড়ি। রাতে সেখানে কাটিয়ে পরদিন সকালে আবার চেপে পড়েন ট্রেনে।

নিজের আন্ডারগ্র্যাজুয়েটের ফাইনাল পেপারটা ট্রেনে থাকার অভিজ্ঞতার উপরই তৈরি করছেন এই জার্মান যুবতী। এই অদ্ভূত রোমাঞ্চের স্বাদ একবার চেখে দেখবেন নাকি?
সূত্র: ইন্ডিয়ান টাইমস