মেইন ম্যেনু

চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে আপনি কি সচেতন

চীনের চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) দুর্ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু নিয়ে চলছে বিশ্বব্যাপী আলোচনা। বাংলাদেশের শপিং মলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চলন্ত সিঁড়ি নিয়েও আছে প্রশ্ন। যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শপিং মল ও প্রতিষ্ঠানে চলন্ত সিঁড়ি এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এসব ব্যবহার করেন। কোনো চলন্ত সিঁড়ি নিয়মিত দেখভাল না করলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে কাভার (সিঁড়ি থেকে নেমে পা দেয়ার স্থান) সরে যাওয়া অন্যতম। এতে ব্যবহারকারী সিঁড়ি থেকে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। অনেকে আবার চলন্ত সিঁড়িতে উঠে সিঁড়ি ভাঙলেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া শাড়ি, ওড়না কিংবা পরিধেয় কাপড় সিঁড়ির ফাঁকে আটকে গিয়েও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

দেশের এই সব চলন্ত সিঁড়িতে নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা সতর্কতা। চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহারকারীদের সচেতন করারও কোনো উদ্যোগ নেই। আর ব্যবহারকারীরাও জানে না চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহারে কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

রোববার রাজধানীর দুটি মার্কেটে খোঁজ-খবর নিয়ে পাওয়া গেল আতঙ্কের খবর। মার্কেটগুলোর চলন্ত সিঁড়ি যারা দেখাশুনা করেন, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান। এসব কাজ তারা দেখে দেখেই শিখেছেন। সিঁড়ি নষ্ট হলে তারাই ঠিক করেন। আর এ জন্য নাকি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দরকার নেই বলেও দাবি করেন তারা।

রাজধানীর রাপা প্লাজায় গিয়ে জানা গেছে, এ মার্কেটে চলন্ত সিঁড়ি দেখাশুনা করার জন্য টেকনিক্যাল কোনো শাখা নেই। এ মার্কেটের চলন্ত সিঁড়ি দেখাশুনা করেন মিলন ও মশিয়ার নামের দু’জন ব্যক্তি। এদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তারা এর আগে তারা ‘মান বাংলাদেশ লিমিটেডে’ কর্মরত ছিলেন। পরে সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই তাদের এখানে যোগোযোগ করে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এ কাজ প্রকৌশলীদের হলেও তাদের সাথে কথা বলে জানা গেল, এখানে চলন্ত সিঁড়ি দেখাশুনা করার জন্য প্রকৌশল শাখা নেই। তারা প্রশ্ন রাখেন, ‘পড়াশুনা করে এখানে এসে কে দারোয়ানের চাকরি করবে?’

রাজধানীর মিরপুর-নিউমার্কেট সড়কের ধানমন্ডিতে অবস্থিত প্রিন্স প্লাজা। এই মার্কেটে চলন্ত সিঁড়ি দেখাশুনা করার জন্য প্রকৌশল সেকশন আছে, কিন্তু তা ‘ধার করা’। একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি আছে। তারা মাসে, দু’মাসে একবার আসেন। মূলত, ছয়তলা এ ভবনের চলন্ত সিঁড়ি দেখাশুনা করেন জিয়াদ ও মুরসালিন নামের দু’জন । জিয়াদ এ মার্কেটে কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মার্কেটে মাসে একবার ইঞ্জিনিয়ার এসে চলন্ত সিঁড়ি পরীক্ষা করে যান। কিছু সমস্যা থাকলে তা ঠিক করেন ইঞ্জিনিয়ার’। তবে এ বিভাগের বাইরে মূল ভবন দেখাশুনা করার জন্য আলাদা একজন প্রকৌশলী আছেন। তবে তিনি চলন্ত সিঁড়ি দেখার কাজ করেন না।

জিয়াদ বলেন, ‘চলন্ত সিঁড়ির কাজগুলো দেখতে দেখতে শিখেছি। আলাদা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমি কিছু শিখিনি।’

চলন্ত সিঁড়ি সরবরাহকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মান বাংলাদেশ লিমিটেডের’ ডিজাইন ইনচার্জ মো. কাওসার মিয়া বলেন, সচেতনতার অভাবে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর নিরাপত্তা দেখার জন্য দক্ষ জনবলেরও অভাব আছে।’ তবে তার দাবি, তাদের সরবরাহ করা চলন্ত সিঁড়িতে কোনো ত্রুটি নেই। সমস্যাগুলো হয় যেসব প্রতিষ্ঠানে এসব সিঁড়ি বসানো হয় তাদের অবহেলার কারণে।

তিনি দাবি করেন, চলন্ত সিঁড়ির কাভারে নামার পর কোনো কারণে স্থানচ্যুত হলে সিঁড়ি বন্ধ হয়ে যাবে। আর এ কারণে কেউ পড়ে ব্যথা পেতে পারেন তবে মারা যাবেন না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলন্ত সিঁড়ির দুর্ঘটনা এড়াতে শপিং মলে বা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ প্রকৌশলী থাকা দরকার। সেই সাথে প্রয়োজন জনগণের কাছে চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতামুলক বার্তা পৌঁছে দেয়া। তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। প্রিয়