মেইন ম্যেনু

চাঁদের বুকে ফেলে আসা অদ্ভুত সব জিনিস

কিছু জিনিসের প্রতি মানুষের মনে বরাবরই এক ধরনের আবেগ বা আসক্তি কাজ করে। সেই প্রাচীনকাল থেকে চাঁদের প্রতি মানুষের আসক্তি, ঘোর বা বিভ্রম রয়েছে। নিঃসন্দেহে চাঁদের আলো মানুষের ভালো লাগতো। প্রাচীন মানুষ একসময় বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াত। তারা দেখত যে দিনের বেলায় আলোয় আলোকিত থাকে ভুবন, জলন্ত সূর্যকে তারা দেখতে পেতো। সূর্য চলে গেলেই অন্ধকার। কিন্তু কোনো কোনো রাতে ঘুটে ঘুটে অন্ধকরের বদলে এক ধরনের নরম আলো ঘিরে থাকে পৃথিবীকে। তারা নিশ্চয়ই অবাক হয়ে আলোর এই উৎসের দিকে তাকাতো আর ভাবতো এই আলোর রহস্যটা কি?

চাঁদের আলোর প্রতি আধুনিক মানুষের যে ঘোর, সেটা আসলে এই প্রাচীন ঘোর। এই ঘোর মানুষের ডিএনএতে স্থায়ী ভাবে গেঁথে গেছে। ঘোর থেকেই একসময় মানুষ আবিষ্কার করেছে চাঁদের নিজস্ব আলো নেই, তার যে আলো সেটা ধার করা আলো। কিন্তু এই আবিষ্কারে মানুষের ঘোর কাটেনি। মানুষ চাঁদকে ছুয়ে দেখতে চায়। এটা আনন্দের ব্যাপার যে সহজে মানুষের ঘোর কাটে না, মানুষ সহজে হাল ছাড়ে না। বেঘোরে পড়ে মানুষ পাড়ি দিয়েছে চাঁদে, পূরণ করেছে প্রজন্মান্তরের স্বপ্ন।

2016_02_21_16_57_41_RPw96QZxRmTopXOPYUVCgZlB2tNaM5_original

সবমিলিয়ে ৩০০ ঘণ্টা চাঁদের বুকে কাটিয়েছে মানবজাতি। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার এপোলো-১১ হচ্ছে ইতিহাসের প্রথম মহাকাশযান যেটা ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মানুষ নিয়ে চাঁদে অবতরণ করে। তারও ৬ ঘণ্টা পরে ২১ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের বুকে পা রাখেন। তার পরপরই সেখানে যোগ দেন দ্বিতীয় চন্দ্র মানব বাজ অলড্রিন। তারা দুজনে মিলে চাঁদে ঘোরাঘুরি করেন ২১ ঘণ্টা এবং ৩৬ মিনিট। এপোলো-১১ এর পর আরও পাঁচ বার চন্দ্র অভিযানে গেছে এপোলো। শেষদিকের অভিযানগুলোতে মানুষ চাঁদে থেকেছে ৩ দিন পর্যন্ত।

মানুষ যেখানেই যায় সেখানেই কিছু না কিছু ফেলে আসে। যে সময়টা মানুষ চাঁদে কাটিয়েছে সেই সময়েও তারা দুনিয়ার জিনিসপত্র ফেলে এসেছে সেখানে। চাঁদের পাথর সাথে করে নিয়ে আসার জন্য মহাকাশযানের ভেতরের অনেক জিনিস সেখানে নামিয়ে রেখে এসেছে। আবার চাঁদের কিছু জায়গায় খুজলে দেখা যাবে সেখানে মানুষ রেখে এসেছে স্রেফ শরীরের বর্জ্য পদার্থ। এমনকি, কি পরিমাণ বর্জ্য পদার্থ রেখে এসেছে সেই হিসাবও তারা রেখেছে। এপোলো অভিযানে যে ১২ জন নভোচারী চাঁদে গিয়েছিলেন তারা সবমিলিয়ে ৯৬ প্যাকেট মল-মুত্র-বমি রেখে এসেছেন সেখানে। পৃথিবীর অন্য কোনো প্রাণী নিজেদের মল-মুত্র-বমির হিসাব রাখে না, মানুষ রাখে।

2016_02_21_17_00_19_o7IrVeG4yN76UbNBgQ0qjR9IGVPoib_original

হ্যাসেলব্লাড ফিল্ম ক্যামেরা

ফেলে আসা দ্রব্যের মধ্যে আরও মূল্যবান জিনিস রয়েছে। যেমন, ১২টি ছবি তোলার হ্যাসেলব্লাড ফিল্ম ক্যামেরা। ছবি তোলার পর নভোচারীরা ক্যামেরার ফিল্মটি সাথে করে নিয়ে এসেছেন পৃথিবীতে কিন্তু ক্যামেরা ফেলে এসেছেন চাঁদে। নভোচারীদের প্রত্যেকে এই কাজটি করেছে, শুধু এপোলো-১৪ এর এডগার মিশেল ছাড়া। তিনি ক্যামেরা ফেলে আসেন নি। ফেলে না আসার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, আসার সময় তাড়াহুড়ায় ক্যামেরা থেকে ফিল্ম বের করার সময় পাননি। না করে বোধ হয় ভালোই করেছিলেন। কারণ, তার এই ক্যামেরাটি ২০১৪ সালে নিলামে বিক্রি হয়েছে ৭ কোটি ২৮ লাখ টাকায়।

এছাড়া ডক্টর জর্জ ক্যারুথারসের নকশা করা একটি স্বর্ণ মোড়া টেলিস্কোপ রয়ে গেছে চাঁদে। যতগুলো জিনিস মানুষ চাঁদে ফেলে এসেছে তার বেশিরভাগই সূর্যের তেজস্ক্রিয়তায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কোনটা যদি অক্ষত থাকে তাহলে শুধুমাত্র এই টেলিস্কোপের গোল্ড প্লেটিংয়ের কারণেই চার দশক পরেও এটি অক্ষত থাকবে।

2016_02_21_17_01_43_XFQw3xS6nEovFwUEqcK2GCgbErb3sy_original

জর্জ ক্যারুথারসের গোল্ড প্লেটেড টেলিস্কোপ

নাসার ৬টি চন্দ্র অভিযানে যে ৬টি মার্কিন পতাকা পুতে রেখে আসা হয়েছে চাঁদে, সেগুলোও এখন রং উঠে ধবধবে সাদা হয়ে যাওয়ার কথা। তাছাড়া ৬টি পতাকা খুঁটিতে ভর করে দাঁড়িয়েও নেই, দাঁড়িয়ে আছে মোট ৫টি। কারণ এপোলো-১১ নভোচারীরা নিয়ন্ত্রণ মডিউলে ফিরে আসার সময় তাদের ধাক্কায় পতাকার খুঁটি কাত হয়ে পড়ে যায়।

2016_02_21_17_03_08_GKmzRDped9ghE3kAJfQxy4vygliwsZ_original

চার্লস ডিউকের পারিবারিক ছবি

তবে সবচেয়ে অদ্ভুত যে জিনিসটি পড়ে রয়েছে চাঁদের বুকে সেটা হচ্ছে এপোলো -১৬ এর নভোচারী চার্লস ডিউকের একটি পারিবারিক ছবি। তিনি চাঁদে যাবেন আর তার পরিবার পৃথিবীতে থেকে যাবে তা তো হবে না। পরিবারের লোক ছবি তুলে তার সাথে দিয়ে দিয়েছিলেন যাতে তার সাথে সাথে তারাও নামতে পারেন চাঁদে। তবে এই ছবিটিও এতদিনে ঝাপসা হয়ে যাওয়ার কথা। শুধুমাত্র ছবির উল্টো পিঠে পরিবারিক যে স্বাক্ষরটি রয়েছে সেটা হয়তো এখনো অক্ষত থাকবে। সেখানে লেখা আছে- ‘ছবিতে যাদেরকে দেখা যাচ্ছে তারা পৃথিবী নামক গ্রহের নভোচারী চার্লস ডিউকের পরিবার। চাঁদের মাটিতে নেমেছে ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে।’

2016_02_21_17_05_25_lSvHNyWwzfjtHMJB6wlWeG1bMFKJWu_original



« (পূর্বের সংবাদ)