মেইন ম্যেনু

চাঁদের হাসি স্কুলের ‘ঈদ উপহার’ পেয়ে উচ্ছ্বসিত পথশিশুরা

সেহরীর শেষ সময় ঘুম ভাঙ্গায় দুই লোকমা ভাত ও সামান্য পানি খেয়েই রোজার নিয়ত করেছি।বিকেল ৩টায় সমাজকর্মী উদয় ভাইয়ের কল পেয়ে বেরিয়ে গেলাম ক্লান্ত শরীর নিয়েই।গন্তব্য ধানমন্ডি থেকে মালিবাগ রেলগেট।হেঁটে রওয়ানা দিলাম।

রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে একসময় আমরা একটি গাছ দেখলাম।উদয় ভাই গাছটি দেখি বললো ঐ গাছের নিচে আমাদের স্কুল।গাছের নিচে মোটা প্লাস্টিকের বিছানার উপর অনেকগুলো শিশু বসেছে।সামনের দেওয়ালে দুটি ব্যানার দেখলাম।এটিতে লেখা ‘চাঁদের হাসি স্কুল’।অন্যটিতে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানের অতিথিদের নাম।ঢাবির অধ্যাপক মজিবুর রহমান স্যার ও আমার নাম!

‘দুই বছর আগে মগবাজার ও মালিবাগ রেলগেট এলাকার ভাসমান সুবিধাহীন শিশুদের অক্ষর জ্ঞান দিতে স্কুলটি শুরু করে মাহমুদুল্লাহ উদয় ও রাজিয়া খাতুন নামের দুই তরুণ তরুণী।পরে তাদের সাথে যুক্ত হয় সুজিত তানবীর ফোরকান নামের তিন তরুণ।যারা চাকুরী ও পড়াশুনার ফাঁকে সময় বের করে পাঠ দান করে এই স্কুলে।,

চাঁদের হাসি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা উদয় ভাই অপেক্ষামান শিশু শিক্ষার্থীদের জানালেন তোমাদের কে ঈদ উপহার(নতুন জামা)+ঈদ সালামী(নতুন টাকা) দেওয়া হবে।মহুর্তে শিশুদের মুখে হাসি ফুটে উঠলো।উদয় ভাই একজন মানবফুলের নাম ধরে ডাকছে,আমি উপহার ও সেলামীর খামটি মানব ফুলটির হাতে তুলে দিচ্ছি।লাজুক চোখে সেগুলো নিয়ে ওরা খুলে উল্টে পাল্টে দেখছে।আর মিটিমিটি হাসছে।কারো মুখে টোল পড়া হাসি,কারো ফোকলা দাঁতের হাসি, কারো জগত জয়ের হাসি! যে হাসির কাছে ম্রিয়মান জগতের সকল সৌন্দর্য ।এই হাসি আমাদের আগামীর।এই হাসি ফুলে।মানব ফুলের।

এই মানব ফুলগুলোর সামনে আমায় কথা বলতে বলা হয়।আমি এতটাই আপ্লুত হয়ে গেলাম,মুখে কথা আসছিল না!তবু কিছু কথা বলেছি।বড় স্বপ্ন দেখলে কি লাভ ,পড়াশুনা কেন করবে,পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার উপকারিতা,কাজ ও পড়াশুনার সমন্বয় ইত্যাদির নিয়ে সহজ ভাবে অতিসাধারণ কিছু কথা বলেই শেষ করেছি বক্তব্য।স্যারদের উৎসাহে শিশুরা একসাথে সবাই তালি দিয়ে,একসাথে হেসে উঠলো সবাই!

হ্যাঁ,এই হাসি ক্লান্তিদূর করে।হৃদয় প্রশান্ত করে।আমি এমন তৃপ্তির হাসি দেখতে ক্লান্তিহীন ছুটে চলতে পারি,শত সহস্র মাইল পথও…

আলাউদ্দীন আদর-এর ফেসবুক পেইজ থেকে নেওয়া


 






মন্তব্য চালু নেই