মেইন ম্যেনু

চাকরির জন্য মানুষ এত নিচে নামতে পারে? ইসিকে রিজভী

ভোটকেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোটের মহোৎসবের মধ্য দিয়ে সারাদেশের ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় পরিষদ ইতিহাসে আজ মঙ্গলবার প্রথম দফায় ভোট হচ্ছে দেশের ৭৭১ ইউনিয়ন পরিষদে।

দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আমরা যে শঙ্কা ব্যক্ত করেছিলাম, তা শতভাগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই কেন্দ্র দখল করে প্রায় সারাদেশে ভোট জালিয়াতির অভিন্ন চিত্র প্রত্যক্ষ করা গেছে।’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্সিগঞ্জ, ভোলা, বরিশাল ও পিরোজপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলার ইউপি নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরেন রিজভী।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় রিটানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিলেও তারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে।’

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সমালোচনা করে বিএনপির এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘চাকরির জন্য মানুষ যে এতো নিচে নামতে পারে, তাদের না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। অথচ প্রশাসনের মাধ্যমে শাসক দলের সন্ত্রাসীদের দমাতে পারলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হতো।’

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে নোয়াখালীর এক ছাত্রদল নেতা ফজলে রাব্বি রাজিবকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে-এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এর জন্য একদিন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাব দিতে হবে।’ ফজলে রাব্বি রাজিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট উৎসব শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৭১৭ ইউপিতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের মূল লড়াই হচ্ছে আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষের মধ্যে।

নির্বাচনী এলাকায় মাঠে টহলে রয়েছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি সদস্য। তাৎক্ষণিক সাজা দিতে সঙ্গে রয়েছেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।