মেইন ম্যেনু

চারপাশে প্রেতাত্মা, হয়তো আপনিও একজন!

আপনার চারপাশে এমন অনেকেই থাকতে পারেন যারা আসলে অন্য শরীরে ভর করা পুরনো কোন আত্মা। হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে তাদের বিচরণ। হতে পারে সে আপনার পরিবারের কেউ, আপনার কোনো বন্ধু বা সহকর্মী। পৃথিবীতে আত্মার অবস্থান এমনটাই মনে করেন গবেষক ড. মার্গো কিটকার।

আধ্যাত্বিক বিষয় নিয়ে প্রায় ৩০ বছর গবেষণা করা মার্গো বলেন, সকল মানুষদের জীবন নিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা থাকে। কখনো নানা পরিস্থিতিতে সংগ্রাম করতে করতে তারা ক্লান্ত। কিন্তু তবু হাল ছাড়ে না। তাদের কারণেই যে পৃথিবী আজ অন্যরকম। এ রকম মানুষ যেকোনো বয়সেরই হতে পারে। শরীরের বয়স ২০ হোক কিংবা ৮০ তাদের আত্মার বয়স হয়তো অনেক বেশি। আপনি হয়তো জানেনই না ঠিক কতো বছর ধরে সে আপনার এলাকায় বসবাস করছে। অনেকদিন ধরেই সারাবিশ্বে ভিন্ন বয়সের কিংবা ভিন্ন চেহারার এই মানুষগুলোই পৃথিবীতে আছে বলে মনে করেন তিনি।

মার্গোর মতে, আপনি নিজেই এমন কোনো পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন যখন আপনার মনে হবে যে আপনি নিজেই পুরনো কোনো আত্মা। কখনোই কি এমন হয়নি যে সম্পূর্ণ অপরিচিত কারো সঙ্গে পরিচয়ের পরই খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেছেন। মনে হতে থাকে তার সঙ্গে বুঝি অনেকদিনের পরিচয়। হতেই তো পারে আপনাদের আত্মা সত্যিই অনেকদিন ধরে পরিচিত।

প্রথম দেখাতেই তো মনে হয় যে এই মানুষটির সঙ্গে বোধহয় আমি সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারবো। সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তি যখন খুব বেশি পরিচিত মনে হয় তখন বুঝে নিতে হবে যে হয়তো সত্যিই আপনার পূর্ব পরিচিত। আপনাদের আত্মা কোনোভাবে সংযুক্ত।

Old Soul

মানবসভ্যতার শুরু থেকেই ছিলো যুদ্ধ-বিগ্রহ। ছিলো হিংসা-বিদ্বেষ। যুদ্ধে অনেক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ ছিলো। যুদ্ধ করা সেই আত্মাই হয়তো এখন কোনো নারীর শরীরে। মনের অজান্তেই তার কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছে। কোনোকারণে তাদেরকে ভালো লাগছে না। এর কারণ হতে পারে আগের জনমে হয়তো তাদের মধ্যে বৈরিতা ছিলো। তাদের আত্মার, তাদের মূল সত্ত্বাতো এখনও বিদ্যমান।

কেউ হয়তো খুব পরিষ্কারভাবেই এ্ই ব্যাপারটি বুঝতে পারেন। কিন্তু কোনোভাবেই কারো সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে চান না। অন্যসব মানুষের চেয়ে আপনি যেকোনো কিছু খুব ভালোভাবে বুঝতে পারেন। আপনার দূরদর্শীতাও অনন্য। হতেই তো পারে আপনার আত্মা অনেকদিন পৃথিবীতে থেকে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে।

অভিজ্ঞ এসকল আত্মাদের হতাশ না হয়ে খুশি হওয়ার কথা বলেছেন মার্গো। তার মতে বৈশ্বিক এক শক্তি এসকল আত্মাদেরই সমর্থন করে। তাই বুকে সাহস রেখে যেকোনো কাজ করার পরামর্শ তার। তবে কাজের প্রতি আরো নিষ্ঠাবান ও ইতিবাচক হওয়া জরুরি। কাজের প্রতি সৎ থাকলে যেকোনো কঠিন কাজ সমাধা করা সম্ভব।

মার্গো বলেন, যদি আপনি নিজেকে নিয়ে চিন্তিত থাকেন আসলে পৃথিবীতে আপনার উদ্দেশ্য কি? তাহলে হয়তো আপনার মতো অন্য মানুষকে খুঁজে বের করা শুরু করতে হবে। সবাই হয়তো অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। সবাই একসঙ্গে থাকলে হয়তো অভিজ্ঞ ও পুরনো আত্মা’র বিষয়টি আপনার কাছে আরো পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

আপনি হয়তো উপলব্ধি করতে পারেন কোনো আধ্যাত্বিক শক্তি আপনার সঙ্গে আছে। যেই শক্তির মাধ্যমে কোনোভাবে আপনার কাজ সমাধা হয়ে যায় বা ইচ্ছেপূরণ হয় খুব সহজেই। কারণ বিশ্বের ইতিবাচক শক্তি আপনার সঙ্গে রয়েছে। আর এই শক্তি কোনোরকম নেতিবাচক কর্মকা্ণ্ডকে সমর্থন করে না। তাই আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া খারাপ কোনো কাজের জন্য হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশ্বাস রাখলে অবশ্যই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান মার্গো।

প্রায় সারাবিশ্ব ভ্রমণ করা এই গবেষক আরো জানান, অভিজ্ঞ আত্মাগুলো স্রস্টার সঙ্গে সরাসরিভাবে যুক্ত। তারা কখনোই তার অস্তিত্বে আস্থা হারায়নি। এবং সবসময়ই নিজের পছন্দমত কাজ করেছে। তারা জানে স্রস্টা সবসময়ই তার সঙ্গে রয়েছেন।

অভিজ্ঞ এই আত্মারা নিজেই আলোকবর্তিকা। তারা যেখানেই থাকেন অন্ধকারকে দূর করে আলোর পথ দেথাতে থাকেন। মানুষের সকল আবেগ দিয়ে ও বহু বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই আত্মারাই মূলত পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিতে ভূমিকা রাখছেন বলে জানান মার্গো।