মেইন ম্যেনু

চার নদীর পানি দূষণমুক্তে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্প নগরীর পাশের নদীর দূষণ বন্ধে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নদীতে চামড়ার বর্জ্য ও বিষাক্ত পানির প্রবাহ বন্ধ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। সোমবার হেমায়েতপুর চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শন শেষে অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রাইসুল আলম মণ্ডল এ আলটিমেটাম দেন। নদীগুলো হলো বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদ।

এ প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, ‘আজ রাতের মধ্যে হেমায়েতপুর চামড়া শিল্প নগরীর সব দূষিত পানি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ট্রিটমেন্ট চলছে। প্রয়োজনে তা আরও বৃদ্ধি করা হবে। যেকোনো মূল্যেই আমরা রাজধানীর চার নদীকে দূষণমুক্ত করব।’

পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চার নদ-নদীর বিভিন্ন স্থানের পানির মান পরীক্ষা করে আসছে। পরীক্ষার ফলাফল থেকে দেখা গেছে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) মানের উন্নতি নেই। পানি জীবের জীবনধারণের জন্য কতটা উপযোগী, এর মান নির্ধারণ করা হয় ডিওর মাধ্যমে। জলাধারের প্রতি লিটার পানিতে ডিওর পরিমাণ অন্তত ৫ মিলিগ্রাম না হলে তা জীবনধারণের অনুপযোগী বলে বিবেচিত হয়।

পবার গবেষণায় দেখা গেছে, এখন নদীগুলোতে ডিওর মাত্রা বেশিরভাগ জায়গায় ১ মিলিগ্রামের নিচে নেমে এসেছে। পানি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ঢাকার পাশের নদ-নদীর দূষণ চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। নদ-নদীর দূষণ রক্ষায় যারা কাজ করত, তারা কার্যকর কিছু করতে পারেনি। পবা এই চার নদ-নদীর ১১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে পানি তুলে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করে। এ বছর ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই পরীক্ষা করা হয়। নদ-নদীর পানি নিয়ে ২০১৪ সাল থেকেই পরীক্ষার কাজ করছে পবা।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাটে ডিওর পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। পরের বছর এবং চলতি বছরের মার্চ মাসে ডিও আগের মতোই অর্থাৎ শূন্য দশমিক ১৫তেই রয়েছে। তুরাগ নদের আশুলিয়া বিআইডব্লিউটিএর টার্মিনালে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিও ছিল ১ দশমিক ১১ শতাংশ। এ বছর ওই জায়গায় ডিও ছিল শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ।

ঢাকা ওয়াসার দ্বিতীয় শোধনাগারের পানি আসে শীতলক্ষ্যা থেকে। কিন্তু শীতলক্ষ্যার পানি প্রাণহীন। ২০১৪ সালে শীতলক্ষ্যার সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে পানিতে ডিও ছিল শূন্য দশমিক ১৯। এ বছরও তাই। বালু নদের পরিস্থিতিও অন্যগুলোর মতোই। এ নদের ডেমরা বাজার এলাকায় ২০১৪ সালে ডিও ছিল শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ, এ বছর তা দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ১২ শতাংশে।

গবেষণা পরিচালনা করেন পবার সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান। তিনি দূষণের তিনটি উৎসের কথা উল্লেখ করেন। এর প্রধান উৎস হলো পয়োবর্জ্য। ঢাকায় পয়োবর্জ্যের পরিমাণ ১৪ লাখ ঘনমিটার। এর মাত্র ৫০ হাজার ঘনমিটার পরিশোধন হয়, বাকিটা যায় নদীতে। দ্বিতীয় উৎস হাজারীবাগ ট্যানারির ২২ হাজার কিউবিক মিটার তরল বর্জ্য। তৃতীয় উৎস হলো বিভিন্ন কলকারখানার ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য।

পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, নদীর পানি দূষণমূক্ত করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে লক্ষ্যে আমরা একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। শিগগিরই তার সুফল আসতে শুরু করবে বলে তিনি জানান।