মেইন ম্যেনু

চার বছর বয়সেই নবম শ্রেণিতে ভর্তি, বিস্ময় প্রতিভার নাম অনন্যা…

শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই বাস্তব। চার বছরের অনন্যা যে সত্যিই অন্যরকম। কোনও প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই এই শিশুটি গড়গড় করে রামায়ণ, মহাভারত পড়তে পারে।

বয়স মাত্র চার। এই বয়সের শিশুরা সাধারণত প্লে-স্কুল ছেড়ে মন্টেসরিতে প্রবেশের ছাড়পত্র পায়। লখনউয়ের বাসিন্দা চার বছরের অনন্যা বর্মাও এবারে স্কুলে যাবে। কিন্তু প্রেপ-১ বা সমমানের কোনও ক্লাস নয়, অনন্যাকে সরাসরি নবম শ্রেণিতে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এখন শুধু সরকারি সিলমোহরের অপেক্ষা।

শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই বাস্তব। চার বছরের অনন্যা যে সত্যিই অন্যরকম। কোনও প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই এই শিশুটি গড়গড় করে রামায়ণ, মহাভারত পড়তে পারে। হনুমান চালিসা পাঠ করাও তার কাছে জলভাত। যে স্কুলে অনন্যাকে ভর্তি করা হবে, সেই স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী এই শিশুটির বিশেষ নজর প্রয়োজন। বিশেষত অঙ্কের উপর জোর দিতে চান স্কুলের শিক্ষকরা। চার বছরের শিশুকে সরাসরি নবম শ্রেণিতে ভর্তি করার জন্য রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে আবেদনও করা হয়েছে স্কুলের পক্ষ থেকে।

যদিও অনন্যার পরিবারে এমন বিস্ময় নতুন কিছু নয়। কারণ অনন্যার দিদি সুষমা মাত্র সাত বছর বয়সে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করে লিমকা বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছিল। অনন্যার দাদা দেশের কনিষ্ঠতম কম্পিউটার গ্র্যাজুয়েট হয়ে ২০০৭ সালে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা সুষমার থেকে এখন নিজেই যেচে পড়াশুনো শিখে নিচ্ছে ছোট্ট অনন্যা।

ছেলেমেয়েদের এমন অবিশ্বাস্য প্রতিভার জেরে বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপারভাইজারের চাকরি পেয়েছেন অনন্যার বাবা তেজ বাহাদুর। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, ছেলে-মেয়েদের খ্যাতির জন্যই এই চাকরি পেয়েছেন তিনি। তেজ বাহাদুরের কথায়, ‘একটা সময় ছিল যখন আমি আমার সন্তানদের পড়াশেোনার খরচ জোগাড় করতে পারতাম না। আর এখন ওদের জন্যই আমার ভবিষ্যতও সুনিশ্চিত হয়েছে। এটা ভগবানের কৃপা ছাড়া কিছু নয়।’