মেইন ম্যেনু

চার বেসরকারি ভার্সিটির শতাধিক ছাত্র নিখোঁজ!

চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্র দীর্ঘদিন নিখোজ থাকার সন্ধান পেয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। মাত্র তিনদিন ধরে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পান। তাদের নিখোজ থাকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে ও ঈদের দিন শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ দুটি ঘটনায় নিহত হামলাকারীদের অধিকাংশই বিত্তশালী পরিবারের সন্তান এবং তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পড়ূয়া ছাত্র। এই ঘটনার পরেই সরকারের শীর্ষ মহল থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশব্যাপী নিখোজ তরুণদের ব্যাপারে অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। পুলিশ, র‌্যাবসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। মাত্র তিনদিনের অনুসন্ধানে চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এতসংখ্যক ছাত্র নিখোজ থাকা তাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই নিখোজ ছাত্রদের মধ্যে ৯৫ ভাগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিভাবকদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙখলা বাহিনীকে কিছুই জানানো হয়নি। খবর দৈনিক ইত্তেফাকের।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা বলেন, আমরা ভাবতে পারিনি নামি-দামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এমনভাবে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়বে এবং জবাই করে সাধারণ মানুষকে হত্যা করবে এটা বিবেকবান মানুষের কাজ নয়। ওই সকল ছাত্রদের ৯০ ভাগই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত একশ্রেণীর কর্মকর্তাদের সন্তানও রয়েছে। ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শ্রেণীর শিক্ষকও জঙ্গি প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তারা মেধাবী ছাত্রদেরকে টার্গেট করে এবং এসব ছাত্ররা কি পছন্দ করে। শিক্ষকরা ওই সকল বিষয়ে তাদের চাহিদা নানা কৌশলে পূরণ করে থাকে। এই সমস্ত নানা কৌশলে নানা ছলনায় ছাত্রদেরকে শিক্ষকের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাদেরকে জঙ্গি তৎপরতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন শিক্ষকরা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে জানান যে, ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয়, ইংলিশ মিডিয়ামের এক শ্রেনীর শিক্ষক সক্রিয়ভাবে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত। আর এই সকল বিশ্ববিদ্যালয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে বহি:বিশ্বের কোন কোন দেশ জঙ্গি কার্যক্রমের জন্য মোটা অংকের অনুদান দিয়ে থাকে।

এই অনুদানকে পরবর্তীতে জাহির করা হয় এই সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো বহি:বিশ্বের ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরাও জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে শিক্ষার নামে জঙ্গি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। অনুসন্ধানে এ ধরনের তথ্য বেরিয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খরা বাহিনীর দুই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশব্যাপী জঙ্গিদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হল দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায়। তাহলে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাসূমহ কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন কিংবা তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের ম“দাতাও রয়েছেন। অপর এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে মাঠ পর্যায়ে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে এক শ্রেনীর কর্মকর্তা টাকা কামানোর ধান্দা নিয়ে ব্যস্ত।

রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদ ধরে রাখার জন্য বা বদলি হয়ে আসার জন্য লেনদেন নিয়ে ব্যস্ত। আর এই সুযোগ নিচ্ছেন জামাত-শিবির মর্তাদশের একশ্রেনীর কর্মকর্তাদের একটি গ্রুপ। তারা আওয়ামী বা সরকার দলীয় লোক সেজে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন। তাদের এই ধরনের দলবাজি এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনেই খোদ রাজধানীতেই সহজেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অভিজাত এলাকায়, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

ইতিমধ্যে একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতার সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ শুরু হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে ৯২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৬২টি স্কুল মিডিয়াম স্কুল রয়েছে। এ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের বেশিরভাগ মালিকও উচ্চবিত্ত পরিবার ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। এই সমস্ত স্কুলে শিক্ষার অন্তরালে কি ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয় তা স্বয়ং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এর খোঁজ রাখে না। গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত জঙ্গিদের পরিচয় মেলার পর শীর্ষ প্রশাসন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে নিখোজ ছাত্রদের তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে র‌্যাব, পুলিশ ও তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে অনুসন্ধান শুরু করে।

র‌্যাবের ইন্টিলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কার্যক্রম সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে চলবে।

ধানমন্ডি এলাকায় একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ছিলো জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই স্কুল প্রতিষ্ঠাতা একজন একটি পবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিনি হিযবুত তাহরীর একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তার স্ত্রী ওই স্কুলটি পরিচালনা করতেন। এই স্কুলের আরো তিনটি শাখা রয়েছে। মোহাম্মদপুর, গুলশান ও উত্তরায়। দশ জঙ্গির ছবিসহ প্রকাশিত তালিকার একজন জুবায়ের রহিম। তিনি এই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তার পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী ধানমন্ডিতে তার বাসায় গিয়ে দেখা যায় ওই ঠিকানাটি তার নয়। তিনি পাসপোর্টে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। তার পিতার নাম বজলুর রহিম।

ডিএমপি পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, উক্ত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সম্পর্কে অবহিত। এছাড়া রাজধানীর সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল মিডিয়াম স্কুলে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়, রাজধানীর বাহিরের সকল এসপিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট জেলার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানোর।