মেইন ম্যেনু

চালকের লম্বা ঘুম ও ট্রেনের বিলম্ব যাত্রা

একজন চালক যদি সারারাত ট্রেন চালিয়ে আসে, আবার ঘণ্টা দেড়েক বাদে তাকে ফের ট্রেন নিয়ে ছুটতে হয়, তাহলে তো সে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তেই পারে। যাত্রীরা ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে অপেক্ষারত, আর চালক তার আসনে বসে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। যাত্রীদের চিৎকার চেচামেচি এবং স্টেশনে হকারদের ডাকাডাকির শব্দও তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পরেনি বিন্দুমাত্র।

আন্তঃনগর কালনি এক্সপ্রেসের ট্রেনটি মঙ্গলবার ভোর ছয়টা ৪০ মিনিটে সিলেট থেকে ছেড়ে আসার কথা ছিল। যথাসময়ে যাত্রীরা উপস্থিতি, ট্রেনও স্টেশনে হাজির। তবে কী এমন ঘটলো যে ট্রেন চলছে না, থেমে আছে তো থেমেই আছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রেন চালক ও তার সহযোগীরা সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কোনো কিছুতেই টনক নড়ছে না তাদের।

পরে এক পর্যায়ে তাদের ঘুম ভাঙ্গে এভং চার ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। চালক ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে এরপর বেলা সাড়ে ১০টায় যাত্রা করেছে বলে জানা যায়।

পুরো ঘটনা জানার পর অনেক যাত্রীর বক্তব্য হচ্ছে- ঘুমের জন্য চালককে খুব বেশি দোষ দেয়া যায় না। কারণ মঙ্গলবার ভোর চারটা ৪৫ মিনিটে তিনি ওই একই ট্রেন নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছান। এর মাত্র দেড় ঘণ্টারও কম সময় পর আবারও ট্রেনটি নিয়ে ঢাকা ফেরার কথা ছিল, এটি কী কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব!

সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো রেল কর্তৃপক্ষ যারা সময়সূচি নির্ধারণ করে থাকেন, তাদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে কী কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না। রেল কর্তৃপক্ষের এহেন হেয়ালিপনায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ৩৫০জন যাত্রীকে।

বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক আরিফুর রহমান বলেন, ‘কালনি এক্সপ্রেস মূলত ঢাকা থেকে সিলেটে এসে পৌছায় বিকাল চারটায়। এরপর রাত সাড়ে দশটায় সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে এক দুর্ঘটনার কারণে এর সময়সূচিতে বিলম্ব ঘটেছে।’

ঢাকা থেকে সিলেটে ঘুরতে এসে ভুক্তভোগী এক যাত্রী জানায়, ‘এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। শেষ পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১০টায় ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করে। এরপরও চালক বা তাদের পক্ষ থেকে কেউ একবার দুঃখপ্রকাশও করেনি।’

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পর রাত আটটা ২০মিনিটে ট্রেনটি কমলাপুর রেল স্টেশনে পৌছায়।

এদিকে রেল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, একবার যাত্রার পর যথেষ্ঠ সময় চালকদের বিশ্রামের জন্য বরাদ্দ করে থাকে রেল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। এছাড়াও প্রত্যেক ট্রেনে বিকল্প চালক, চালকের সহকারী এবং গার্ড মজুদ থাকে। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়।

কিন্তু আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ‘ইঞ্জিন মাস্টার, সহকারী ইঞ্জিন মাস্টার এবং গার্ডের স্বল্পতার কারণে কালনি এক্সপ্রেসে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হয়নি। তবে চালক এবং চালকের সহকারীর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময় বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রেন বিলম্বের কারণে তারা সেই সময় পায়নি।’

এদিকে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কয়েকবছর ধরে রেলওয়ে বিভাগে নতুন নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। কয়েকবছর পর গতবছর নিয়োগ হলেও তারা এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি।

রেলওয়ের প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, গত বছর ২৩০ জন ইঞ্জিন মাস্টার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখনো ৭৬ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, গত চার বছর ধরে অবসরে যাওয়া চালক দিয়ে আমরা ট্রেন পরিচালনা করছি। তাদের চাকরির মেয়াদ চুক্তির ভিত্তিতে বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।