মেইন ম্যেনু

চালের দাম বাড়াল পাটের বস্তা!

পাটের বস্তায় বাজারজাত করা বাধ্যতামূলক করায় চালের দাম বেড়ে গেছে। মণপ্রতি চালের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাকে সব ধরনের চালে কেজিপ্রতি দেড় থেকে দুই টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে।

ভালো মানের নাজিরশাইল এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৮-৫০ টাকায়। আর মানভেদে মিনিকেটের দাম ৪৩ থেকে ৪৬ টাকা। মোটা চালের দাম কিনতে খরচ হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩২ থেকে ৩৪ টাকা। এ ছিল গতকাল শনিবারের রাজধানীর চালের বাজারের চিত্র।

গত ডিসেম্বর মাস থেকে চাল বাজারজাতকরণে প্লাস্টিকের বদলে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

পাইকারি পর্যায় সূত্রে জানা গেছে, এক মণ চাল ধারণের জন্য একটি পাটের বস্তার দাম ৭০ টাকা। আর একই পরিমাণের জন্য প্লাস্টিকের বস্তার দাম ৩০ টাকা। পাটের বস্তা ব্যবহারের কারণে কার্যত মণপ্রতি চালের দাম বাড়ার কথা ছিল ৪০ টাকা। কিন্তু বেড়েছে এর দ্বিগুণ। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর বাদামতলী ও বাবুবাজার চাল আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন বলেন, ‘মিল পর্যায়ে বস্তার জন্য বাড়তি ৪০ টাকা দাম রাখা হচ্ছে। আমরা এর বেশি বাড়তি টাকা রাখছি না। শুধু বস্তার বাড়তি দামই রাখছি।’

তবে কারওয়ান বাজারের বাহার জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেন দাবি করেছেন, পাইকারি পর্যায়েই ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। ভোক্তা পর্যায়ে কোনো বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে না।

পাইকারি পর্যায়ে যা–ই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকেই এ বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। জানা গেছে, এক মণ ওজনের ভালো মানের নাজিরশাইল চালের দাম খুচরা পর্যায়ে ২৪৮০ থেকে ২৫০০ টাকা। আর মোটা চাল ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

উত্তরা সরকারি কর্মকর্তা তাপস চন্দ্র বোস গতকাল জানান, এ মাসে এক মণ চাল কিনতে গিয়ে বস্তার মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে বিক্রেতাকে বাড়তি ৮০ টাকা দিতে হয়েছে।

কিন্তু সরকারি হিসাবে, পাটের বস্তার চালের দাম বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের বাজারদরে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে নাজিরশাইল, মিনিকেট, পাইজাম ও স্বর্ণা (মোটা চাল) কোনোটির দাম বাড়েনি।

উত্তরায় শাকসবজির দাম কম: রাজধানীর প্রধান বাজার কারওয়ান বাজারের চেয়ে উত্তরার বাজারগুলোতে শাকসবজির দাম একটু কম। খুচরা পর্যায়ে দুই বাজারের মধ্যে শীতের শাকসবজির দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কম। সরেজমিনে ঘুরে দামের এ পার্থক্য দেখা গেছে। উত্তরা এলাকার আশপাশেই শাকসবজির চাষ হয়, সেখান থেকেই প্রতিদিন এখানে সবজি আসে। তাই পরিবহন ব্যয় কিছুটা কম পড়ে বিক্রেতার।
উত্তরার কুশল সেন্টার ও আশকোনার হাজি ক্যাম্প বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতের এক কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। মাঝারি আকারের এক জোড়া ফুলকপি মিলছে ৪০ টাকায়। ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যেই এক কেজি টমেটো পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া মাঝারি আকারের একটি বাঁধাকপি ২০-৩০ টাকা, লাউ ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪৫-৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এক কেজি মুলা ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ১০-১২ টাকা। একই পরিমাণ ধনেপাতার দাম ১০ টাকা।

এদিকে বিভিন্ন মানের ডালের দাম কেজিতে ৫-৬ টাকা করে বেড়েছে। মোটা ডাল এখন কেজিপ্রতি ১০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। আর ভালো মানের ডালের দাম ১৪০-১৪৫ টাকা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৪-৫ টাকা কমে এক কেজি দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৩০-৩২ টাকা ও ২৮-৩০ টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যে তেল, আলু, রসুন, আদা, ময়দার দাম খুব বেশি ওঠানামা করেনি।