মেইন ম্যেনু

চায়ের দোকান থেকে হোটেল মালিক রাজিয়া সুলতানা

সংগ্রামের আরেক নাম রাজিয়া সুলতানা। মাত্র ৫শ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলেন জীবন সংগ্রাম। এখন তিনি স্বাবলম্বী। তবে দুই সন্তান আর সংসার নিয়ে বিস্তর স্বপ্ন সুলতানার। এজন্য কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত অবদি তার নিজস্ব হোটেলে সব কাজ একাই করেন সুলতানা। জীবন সংগ্রামে তাকে উৎসাহিত স্থানীয়রা। তারা বলেন, সুলতানা আমাদের এলাকার গর্ব।

সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের চছপাড়া গ্রামের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা। দুই ভাই এবং পাঁচ বোনের মধ্যে ছোট রাজিয়া সুলতানা। সাংসারিক অভাবে লেখাপড়ায় এসএসসি টপকাতে পারেননি।

৮ বছর আগে বিয়ে হয় পঞ্চগড় শহরের রামেরডাংগা মহল্লায়। স্বামী রিকশাচালক সুমন বাবু। বিয়ের পরদিন থেকে সংসারের অভাব আর দৈন্যদশা দেখে হতাশ হন সুলতানা। নতুন সংসারের এক বছরের মাথায় বড় বোনের কাছে মাত্র ৫শ টাকা ধার নিয়ে বাড়ির পাশে চা বিস্কুট বিক্রি শুরু করেন।

এরপর শুরু হয় সুলতানার দীর্ঘ জীবন সংগ্রাম। চা দোকানের ক্রেতা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মহল্লার প্রতিবেশিরা। অন্যের জায়গায় তৈরিকৃত চা বিস্কুটের ছোট দোকানটি ৭ বছরে ছোট্ট হোটেলে রুপান্তরিত হয়েছে। এখন তার হোটেলে পরাটাসহ দুপুর এবং রাতের খাবার পাওয়া যায়। তার হাতে বানানো পরাটা শহরের যে কোনো বড় হোটেলের চেয়ে স্বাদে কম না।

তিনি হোটেলে রান্নাসহ সব কাজ একাই করেন। সংসারের ঘানি টানতে কোনো কর্মচারী রাখতে পারেন নি। তবে স্বামীকে ৩ বছর আগেই এক লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনে দিয়েছেন অটোরিকশা। সে এখন দুই সন্তানের জননী। সৌরভ হোসেন রাতুল শিশু শ্রেণিতে পড়ে এবং সানজিদা আক্তার স্বপ্নার বয়স ৩ বছর।

সংসারে এখন আর অভাব নেই। রয়েছে সংসার আর সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন। সুলতানার স্বপ্ন নিজের জায়গায় মানসম্মত খাবার হোটেল আর নিজের একটি ছোট্ট বাড়ি করার। স্বপ্ন দেখেন সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার। বাবা বা মার মতো তাকে যেন কষ্ট করতে না হয়। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার এই স্বপ্ন সহজেই পূরণ হবে বলে মনে করেন প্রতিবেশিরা।

প্রতিবেশি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সুলতানা আমাদের গর্ব। তার মতো সংগ্রামী নারী সচরাচর দেখা যায় না। তার হাতের রান্নাও ভালো। সুন্দর স্বাদের পরাটা বানাতে পারেন সুলতানা। আমরা সংসারের হাল ধরার বিষয়ে অবাগ হই। ইচ্ছে করলে একজন নারী যে, পুরুষদের মতোই কাজ করতে পারেন সুলতানা তার উজ্বল উদাহারণ।

সংগ্রামী নারী সুলতানা রাজিয়া বলেন, ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল কিছু একটা করার। অভাবের কারণে ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারিনি। বিয়ের পরও সেই অভাবেই পরেছিলাম। অন্যের বাসায় কাজ করার চেয়ে ছোট করে হলেও নিজেই কিছু একটা করা দরকার। এই ভেবেই চা বিক্রি শুরু করি। এখন সংসারে আর অভাব নেই। স্বামী সংসার নিয়ে ভালোই আছি।

সুলতানার স্বামী সুমন বাবু জানান, আমার কষ্ট কমিয়ে দিয়েছে সুলতানা। পুরুষের পাশাপাশি একজন নারীও যদি কর্মক্ষেত্রে সমান ভূমিকা রাখে তাহলে খুব সহজেই উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করেন সুমন বাবু।