মেইন ম্যেনু

চিকিৎসক অভি একের নামে বহু অনিয়ম!

মো: কামাল হোসেন জনি : আক্তার হোসেন অভি। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার। কোর্স করেছেন ডি.এ (ডিপ্লোমা এনেসথেসিয়া) অজ্ঞানের উপর। ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করছেন পি.জি.টি মেডিসিন ও কার্ডিওলাজি) যার কোন সার্টিফিকেট নেই। মেডিসিন, হৃদরোগ, বক্ষব্যাধি, ডায়াবেটিস্ ও শিশু রোগের উপর রোগী দেখেন। তার হাতে রোগী, সাধারণ মানুষ, কর্মচারি ও সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়াসহ অনৈতিক কাজ করার অভিযোগও রয়েছে। কেউ তার হাত থেকে রক্ষা পায় নাই। চেম্বারে গেলে শুনতে হয় বিভিন্ন বকানি-ঝকানি।

গত ১৮ এপ্রিল সোমবার নাঙ্গলকোট গ্রামের হাবিবুল্লার ছেলে শামসু তার ভাগিনা শাফায়েত (১০) কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ডাক্তার দেখানোর জন্য বর্হি-বিভাগে থেকে একটি টিকেট কাটেন। টিকেটে ভূলবশত ১৪৮ কক্ষে দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আক্তার হোসেন অভি কাছে আসেন। মামা শামসু ডাক্তার অভিকে বলেন স্যার টিকেটে ভূল হয়েছে ভাগিনা শাফায়েতকে শিশু ডাক্তার দেখাতে হবে। আপনি শিশু ডাক্তারের কাছে রেফার করেন। কিন্তু ডাক্তার অভি রোগিকে রেফার না করে ঘন্টার পর ঘন্টা নানা তাল-বাহানা করেন। শামসু টিকেট ফেরত চাইলে ডাক্তার অভি তাকে দালাল ও চোর বলে অকথ্য ভাষায় গাল-মন্দ করেন। এ সময় চিকিৎসা নিতে আসা ডাক্তারের কক্ষে ও লাইনে থাকা রোগিরা হতভম্ব হয়ে সংঘর্ষ ভেদে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়নন্ত্রনের আনে।

হাসপাতালে সাপ্লাই থাকা দামি ইনজেকশান সেপ্টিয়াক্সন ২এম ও ১এম সহ বিভিন্ন দামি ওষুধ না লিখে কমিশনের মাধ্যমে নি¤œমানের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ লিখলে নার্স মমতাজ ও আউলিয়া তার প্রতিবাদ করলে, ডাক্তার অভি নার্সদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধমকি দেয়।

তোমাদের কাজ করার দরকার নেই বাড়িতে চলে যাও। এখানে কাজ করতে হলে আমার কথা শুনতে হবে। আমি রোগীদের যে কোম্পানির ওষুধ লেখবো তোমরা তা আনার জন্য বলবে। নাইলে কারো চাকরি থাকবে না ?

গত ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ১১ টার সময় দৈনিক সংবাদ পত্রিকার নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাখাওয়াত হোসেন ডাক্তার আক্তার হোসেন অভির কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করার জন্য গেলে অভি বলেন এখন আমার সময় নাই। আপনি পরে আসেন। অথচ তিনি নিজ কক্ষে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে বসে গল্প করতে থাকেন। তিনি বলেন সরকার আমাকে চাকরি দিয়েছে তোমাদের কাগজপত্রে সত্যায়িত করার জন্য নয়। তুমি বড় স্যারের কাছে যাও। বিভিন্ন সময় সত্যায়িত করতে আসা লোকদের অশুভ আচরণ করেন।

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে বেশ সখ্যতা ডাক্তার অভির। সম্প্রতি জিসকা কোম্পনির এম আর মনিরের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কাজে ডাক্তার অভিকে দিঘম্বর অবস্থায় হাতে নাতে ধরে পেলে মনির। লোক-লজ্জার ভয়ে মনির চাকরি ছেড়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে দেশের বাড়ি ফরিদপুর চলে যায়। এ নিয়ে তখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমলোচনার ঝড় বয়ে। জানা যায়, এখনও অনেক মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে।

চিকিৎসক অভি যখন রোগী দেখার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪৮ নং কক্ষে আসলে দালাল শাহজালাল ও সারোয়ারসহ কক্ষের ভিতরে ৩ জন ও বাহিরে ৩ জন দালাল রাখেন। অভির কাছে নামে-বেনামে বহি-বিভাগের টিকেট থাকে। দালালেরা হাসপাতালে কোন রোগী নিয়ে আসলে ডাক্তারের কাছে থাকা টিকেটে রোগীর নাম লিখে দেন। অভি রোগীকে দেখে কোন ওষুধ না লিখে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল পাঠান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ আসা এমনি একজন রোগী জোড্ডা গ্রামের আব্দুল অহিদ (৬০) গত ১৭ এপ্রিল রোববার বর্হি বিভাগে টিকেটের জন্য লাইনে দাড়ালে দালাল সারোয়ার অহিদকে বলেন আপনার টিকেট লাগবেনা। আমি ডাক্তার দেখিয়ে দিবো ? এ কথা বলে দালাল ডাক্তার অভির কাছে নিয়ে যায়। অভি রোগী অহিদকে কোন ওষুধ না লিখে এক্স-রে, রক্ত ও প্রসাব পরীক্ষা দিয়ে পপুলার ডায়গনষ্টিক হাসপাতালে পাঠান। ময়ূরা গ্রাম থেকে আসা সফিকের স্ত্রী হোসনা (৩৫) এভাবে এক্স-রে পরীক্ষা দিয়ে নাঙ্গলকোট মেডিকেল সেন্টার পাঠায়।

জানা যায়, রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে এসব প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠালে ৪০/৫০ ভাগ কমিশন পান ডাক্তার।
ভিলাস-বহুল জীবন-যাপন তার: বাসায় সরকারি কোয়াটারে নিয়ম-বহির্ভূত ভাবে সি সি ক্যামরা ও এসি স্থাপন।

এ ব্যাপারে শনিবার ডাক্তার মো: আক্তার হোসেন অভি সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি বলেন আপনার পত্রিকার রেজি: আছেনি ও তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়টি অস্বিকার করেন।