মেইন ম্যেনু

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিশাল সাফল্য, গবেষণাগারে তৈরি করা হচ্ছে কৃত্রিম রক্ত!

স্কটল্যান্ডের গবেষকরা কৃত্রিম পদ্ধতিতে রক্ত উৎপাদন করার ক্ষেত্রে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছেন৷ রক্তদানের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক সময় অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় চিকিৎসকদের৷ সেক্ষেত্রে কৃত্রিম রক্ত চমৎকার এক সুরাহা হতে পারে৷

অনেকেই নিয়মিত রক্তদান করতে যান৷ অনেকটা রুটিনের মতো৷ তবে এই পরিমাণ যথেষ্ট নয়৷ সব মিলিয়ে রক্তের সংরক্ষণ কম৷ বিশ্বব্যাপী রক্তদান প্রতিষ্ঠানগুলি রক্তদাতা পাওয়ার জন্য রীতিমত সংগ্রাম করছে, যাতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিতে রক্তের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করা যায়৷

রক্ত বিশুদ্ধ ও নিরাপদ হতে হবে

দানের আগে রক্ত বিশুদ্ধ ও নিরাপদ কিনা – তা পরীক্ষা করে দেখা হয়৷ রক্তে এইডস ও হেপাটাইটিসের মতো রোগের ভাইরাস আছে কিনা সে ব্যাপারে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়৷ এ কারণে বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তদানের অনুমতি দেওয়া হয় না৷ এই ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত কৃত্রিম রক্ত আদর্শ এক সমাধান৷

ব্যবহারযোগ্য, বিশুদ্ধ রক্ত, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত করার জন্য বিশ্বব্যাপী গবেষকরা কাজ করে যাচ্ছেন৷ স্টেমসেলের গবেষণায় উন্নতি হওয়ায় লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছেন তাঁরা৷ এডিনবরার ‘স্কটিশ সেন্টার ফর রেগেনেরাটিভ মেডিসিন’ তথা এসআরসিএম-এর গবেষকরা এক্ষেত্রে সাফল্য দেখাতে পেরেছেন৷ ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়ার জন্য আবেদনও করেছেন তাঁরা৷ গবেষকরা প্রথমে ভ্রূণের স্টেমসেল নিয়ে কাজ করেন, পরে এটিকে লোহিত কণিকায় রূপান্তর করেন৷

0,,6438970_4,00

প্রাপ্তবয়স্কদের স্টেমসেল থেকে তৈরি

এখন তাঁরা প্রাপ্তবয়স্কদের স্টেমসেলের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন৷ ‘‘এই সেল থেকেও লোহিত কণিকা প্রস্তুত করা যায়৷” বলেন প্রকল্পের পরিরচালক মার্ক টারনার৷ তবে এই সেলের বিভক্ত হওয়ার ক্ষমতা সীমিত বলে বিপুল পরিমাণে লোহিত কণিকা প্রস্তুত করা সম্ভব নয়৷

তবে গত কয়েক বছরে লক্ষ্য করা গিয়েছে, দেহের টিস্যু থেকেও স্টেমসেল বের করা সম্ভব৷ ‘‘আমরা এই স্টেমসেলকে গবেষণাগারে এমনভাবে প্রস্তুত করতে পারব, যা থেকে বিপুল পরিমাণে রক্তের সেল তৈরি হতে পারে৷” জানান গবেষক টারনার৷

২০০৯ সাল থেকে স্কটিশ গবেষকরা কৃত্রিম রক্ত প্রস্তুত করার ব্যাপারে গবেষণা করছেন৷ এসআরসিএম এবং ‘রোজলিন সেল’-এর যৌথ উদ্যোগে প্রচেষ্টাটি এগিয়ে যাচ্ছে৷ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে কর্মক্ষমতা আরো বাড়াতে চান তাঁরা৷ তবে উৎপাদনের খরচ যাতে আকাশচুম্বী হয়ে না ওঠে সে দিকেও লক্ষ্য রাখছেন গবেষকরা৷

খরচের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হয়

এক মিলিয়ন রক্তের সেলের জন্য এক মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হলে তা হবে অর্থহীন৷ এতে কারোরই লাভ হবে না৷

ব্রিটেনে কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে অনেক ভ্রূণ সৃষ্টি করা সম্ভব৷ জরায়ুতে স্থাপন করার আগে অতিরিক্ত ভ্রূণ সংরক্ষণ করে রাখা হয়৷ নির্দিষ্ট সময় পার হলে এগুলিকে গবেষণার কাজে দেওয়া হয়৷ অনেকে ভ্রূণকে গবেষণার কাজে ব্যবহার করার বিরোধী৷ তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই৷ বলেন ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির বায়োএথিসিস্ট জন হ্যারিস৷

‘‘প্রাপ্ত বয়স্কদের স্টেমসেল দিয়ে কাজ করলে নৈতিক দিক দিয়ে কোনো বাধা থাকে না৷ এই সেল ভ্রূণ থেকে নয়, বয়স্ক মানুষের ত্বকের সেল থেকে তৈরি৷ ‘‘এই সেলকে বিশেষ পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হয়, যা ভ্রূণের মতো হলেও ভ্রূণ নয়৷” জানান টারনার৷

ব্যবহারযোগ্য, বিশুদ্ধ রক্ত, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত করার জন্য বিশ্বব্যাপী গবেষকরা কাজ করে যাচ্ছেন

0,,17676648_403,00

রক্তের গ্রুপে মিল থাকতে হয়

কৃত্রিম রক্তকে জীবাণুমুক্ত, টেকসই, সুলভমূল্যের ও রোগীদের জন্য সহনযোগ্য হতে হবে৷ রক্ত দেওয়ার ব্যাপারে সামঞ্জস্যটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপের মধ্য মিল থাকতে হয়৷ ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দিলে রোগীর প্রচণ্ড সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে৷

কৃত্রিম রক্তের ক্ষেত্রে সে রকম সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কম৷ রোগীর ত্বক বা রক্তের নমুনা নিয়ে একই গ্রুপের রক্ত তৈরি করা সম্ভব৷

প্রতি বছর শুধু জার্মানিতেই প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন রক্তের ব্যাগ প্রয়োজন৷ যেমন দুর্ঘটনা হলে বা অপারেশনের ক্ষেত্রে৷ ক্যানসারের রোগীদের জন্যও রক্তের প্রয়োজন পড়ে৷ কেননা কেমোথেরাপি দেওয়া হলে প্রায়ই দেহ নতুন রক্ত তৈরি করতে পারে না৷ এ সব কারণে গবেষণাগারে রক্ত তৈরি হলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য হবে এক বিরাট পদক্ষেপ৷

সূত্র: ডিডাব্লউ