মেইন ম্যেনু

চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের স্ত্রী

উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের অসুস্থ স্ত্রী ফজিলাতুন নেসা। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী ফজিলাতুন নেসা প্রায় এক বছর ধরে চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভূগছেন। এদিকে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ব্যবহৃত বাইসাইকেলটি জাদুঘরে সংরক্ষণের দাবি উঠেছে।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের নূর মোহাম্মদের ৮০তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নূর মোহাম্মদ শেখ। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মায়ের নাম জেন্নাতুন্নেছা। বাল্যকালেই বাবা ও মাকে হারান তিনি। নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী ফজিলাতুন নেসা, ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে নড়াইলসহ যশোরে বসবাস করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী ফজিলাতুন নেসা প্রায় এক বছর ধরে তার বাম চোখে দেখতে পান না। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান তিনি। এ ছাড়া নূর মোহাম্মদের বসতভিটায় স্মৃতিস্তম্ভের পাশে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণেরও দাবি তার।

এ ব্যাপারে ফজিলাতুন নেসা বলেন, ‘শরীরের অবস্থা বিশেষ ভালো না। বাম চোখ দিয়ে দেখতে পারি না। আর ডান চোখে ঝাপসা দেখি। এ ছাড়া কোমর ও হাঁটুতে ব্যাথা অনুভব করি। এমনকি মাঝে মধ্যে লাঠি দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। দেশে চিকিৎসা করিয়ে কোনো লাভ হয়নি। এখন বিদেশে চিকিৎসা করিয়ে দেখতে চাই চোখ ভালো হয় কিনা।’

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের আত্মীয় (শ্যালক) নড়াইলের ডৌয়াতলা গ্রামের মশিয়ার রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যশোর থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে নূর মোহাম্মদ একবার বাড়িতে (নড়াইলের মহিষখোলা) আসেন। পরে যশোরে ফিরে যাওয়ার সময় সাইকেলটি আমার বড় ভাই অলিয়ার রহমানের কাছে রেখে যান তিনি। আমার ভাই সে সময় দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে নূর মোহাম্মদ শহীদ হওয়ায় আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। পরে সাইকেলটি সযতেœ সংরক্ষণ করেন আমার ভাই অলিয়ার রহমান। ভাইয়ের (অলিয়ার) মৃত্যুর পর তার ছেলে এমদাদুল হক সাইকেলটি ব্যবহার করছেন।’

সাইকেলটি নূর মোহাম্মদ স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।

গত ১০ ডিসেম্বর (২০১৫) সাইকেলটি নূর মোহাম্মদের স্ত্রী ফজিলাতুন নেসার কাছে হস্তান্তর করলে স্বামীর ব্যবহৃত সাইকেলটি স্পর্শ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সাইকেলটি সযতেœ সংরক্ষণের জন্য সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্টের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘২০০৮ সালে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’ এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পর বদলে গেছে নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিধন্য নূর মোহাম্মদ নগর। এর আগে ১৯৯৯ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মহাবিদ্যালয়। কলেজটি এমপিওভূক্ত হলে এলাকার উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস বলেন, ‘নূর মোহাম্মদের স্মৃতি রক্ষার্থে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে।

নূর মোহাম্মদের ৮০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামিকাল শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নূর মোহাম্মদ নগরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, স্মৃতিস্তম্ভে সম্মান প্রদর্শন, কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মৃতুবরণ করেন নূর মোহাম্মদ। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ২০০৮ সালে ‘মহিষখোলা’র নাম পরিবর্তন করে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়।