মেইন ম্যেনু

চিকিৎসা সেবার দৃষ্টান্ত ডাক্তার এবায়দুল্লাহ : ৪০ বছরে ফি ৫ থেকে ১০ টাকায়

মাত্র ৫ টাকা ফি করে গ্রহন প্রায় ৪০ বছর যাবত সাধারন মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ এবাদুল্লাহ। তার কাছে সেবাই পরম ধর্ম। সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষই যেন তার কাছ থেকে সেবা নিতে পারে এমনই ব্রত লালন করে দীর্ঘ চার দশক যাবত চিকিৎসা পেশার সাথে রয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় নিজের চেম্বারের বাইরেও দিন-রাত যখনই তাকে দরকার পড়বে পাওয়া যায়।

সুদীর্ঘ সরকারি চাকরি জীবনে সাতক্ষীরার সবার প্রিয় ডাঃ মোঃ এবাদুল্লাহ মেডিকেল অফিসার থেকে পদোন্নতি পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং চাকরির শেষ পর্যায়ে সিভিল সার্জন হয়ে অবসরে গেলেও তার প্রাইভেট প্রাকটিসের ফি কখনও বাড়েনি। ৪০ বছর আগে রোগী প্রতি যে ফি নির্ধারন করেছেন তিনি এখনও রোগী প্রতি সেই ফি নেন। অন্য চিকিৎসকদের মতো নেই লোভ-লালসা।

সাতক্ষীরা শহরের আমতলা এলাকার প্রফেসর মনিরুজ্জামান মনি জানান, শহরে প্রাইভেটভাবে যেসব এমবিবিএস ডাক্তাররা রোগী দেখেন তারা ৫-৬শ টাকা ফি গ্রহন করেন। কিন্তু ডাক্তার এবাদুল্লাহ প্রায় বিনামূল্যে দীর্ঘ ৪০ বছর চিকিৎসাসেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।

আলাপকালে সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর মহল্লার বাসিন্দা সাবেক সিভিল সার্জন ও এমবিবিএস ডাক্তার এবাদুল্লাহ বলেন, ১৯৭৭ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে মেডিকেল অফিসার হিসাবে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন। এরপর ১৯৮০ সালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১০ সালে তিনি অবসর হন করেন।

তিনি আরও জানান, সরকারী দায়িত্ব পালনকালীন সময় তিনি অফিস শেষে দিনের বাকি সময়টা তার নিজস্ব চেম্বারে ৫ টাকা ফি নিয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্তরের মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। যা আজো অব্যাহত রেখেছেন। তবে সম্প্রতি ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা ফি নির্ধারন করেছেন।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাক্তার সালেহ আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডাক্তার মো: এবাদুল্লাহ চিকিৎসা সেবাতে সমাজে যে অবদান রেখেছেন তা সত্যিই অসামান্য। এমবিবিএস পাশ করার থেকে অদ্যবধি ৫ টাকা ফি গ্রহন করে সমাজের সাধারন মানুষের সেবা যাচ্ছেন। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।