মেইন ম্যেনু

চিনি দিয়ে চার্জ হবে ফোন

মোবাইল ফোনের চার্জ যদি এক চামচ চিনি দিয়ে এক ঘণ্টা বাড়ানো যায় তবে ব্যাপারটা মজারই হবে। চিনি দিয়ে ব্যাটারির চার্জ বৃদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ায় এমনটাই দেখা গেছে। যদিও চিনি দিয়ে চালিত ব্যাটারির ওপর এই পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সাধারণ ব্যাটারিতে এ প্রক্রিয়া কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে গবেষকরা। এই প্রক্রিয়াতে চার্জের ধরণ হবে নিম্নমানের।

চার বছর আগে ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিউট অফ টেকনোলজির (এম আই টি) একজন প্রতিভাবান গবেষক একটি কার্বন ন্যানোটিউব তৈরি করেছিল যার উভয় প্রান্ত দাহ্য পদার্থ দ্বারা আবৃত ছিল। চিনি ব্যবহার করে কার্বন ন্যানোটিউবকে উত্তপ্ত করা হতো যা বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি করত। আগের পরীক্ষা গুলো থেকে স্বল্প পরিমাণের বিদ্যুৎ পাওয়া গিয়েছিল।

এম আই টির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল স্ট্র্যানো নতুন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যে প্রক্রিয়াতে সহস্রগুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব। এম আই টির প্রতিবেদন অনুসারে স্ট্র্যানোর দল নতুন একটি ডিভাইস আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে যা দিয়ে সম পরিমাণ শক্তি ‘পাউন্ডের জন্য পাউন্ড’ উৎপন্ন করা সম্ভব। এটি একটি জুইস মেশিনের মতো।

স্ট্র্যানো বলেন, ‘ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আমি আগ্রহ থেকে এই প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলাম। তবে বাণিজ্যিকভাবেও এই পদ্ধতিতে অগ্রসর হওয়া যাবে।’ এখানে কৌশলটি হলো নির্দিষ্ট দুরত্বের মধ্যে বহনযোগ্য শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া যা লিথিয়াম আয়ন এবং ফুয়েল সেলে কার্যকর থাকে। এ প্রযুক্তিটি এজন্যই অবিস্মরণীয় যে এ ব্যাপারে বিগত সময়ে কোন গবেষণা হয় নি।’

যখন এই গবেষণা শুরু হয়েছিল তখন অনেকগুলো দাহ্য পদার্থ দিয়ে এই পরীক্ষণ চালানো হয়েছিল। কিন্তু গবেষক দল দেখলো চিনি থেকে প্রাপ্ত শর্করা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তাপ পাওয়া যায় যা থেকে বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। তারগুলোকে উত্তপ্ত করার জন্য মূলত তাপের প্রয়োজন হয়।

এই আবিষ্কারের সবচেয়ে মজার দিক হলো এতে শক্তির কোন অপচয় হয় না। অন্যকথায় শক্তির উৎসের ডিভাইস গুলো শেলফে দীর্ঘদিন পরে থাকলেও শক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিতে আরও বেশি শক্তি পাওয়ার উপায় নিয়ে গবেষণা করছেন গবেষকরা।