মেইন ম্যেনু

চিনে নিন আপনার মেরুদন্ডের ব্যথাকে

বাংলাদেশের প্রায় সব নারী-পুরুষের শরীরেই একটি সমস্যা দেখা দেয় কিছুদিন পরপর। আর সেটা হচ্ছে মেরুদন্ডের ব্যথা। কারো কারো ক্ষেত্রে ব্যাপারটা খুব স্বাভাবিক আর সহজ হলেও সবার ক্ষেত্রে সেটা নয়। অনেক সময় এই মেরুদন্ডের ব্যথাই হয়ে উঠতে পারে একজন মানুষের কাল। আর তাই আজ চলুন জেনে আসি মেরুদন্ডের ব্যথার টুকিটাকি সম্পর্কে। পড়ুন আর মিলিয়ে নিন কোনটি আপনার।

মেরুদন্ডের ব্যথা সাধারণত দুরকমের হয়। মেকানিকাল আর ইনফ্লামেটোরি। আর ভিন্ন ভিন্ন নামের অধিকারী এই দুই রকমের ব্যথার প্রকৃতি আর চিকিৎসাও আলাদা আলাদা।

মেকানিকাল ব্যথা কেন হয়?

সাধারণত কোথাও থেকে আঘাত পেলে এই ব্যথা হয়ে থাকে। এছাড়াও বসার অব্যবস্থা, হঠাৎ কোন হাড়ে টান পড়া, দৈহিক বিচিত্র ভঙ্গীও হতে পারে মেকানিকাল ব্যথার কারণ।

ইনফ্ল্যামেটোরি ব্যথা কেন হয়?

চিনে নিন আপনার মেরুদন্ডের ব্যথাকে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে গেলে সেক্ষেত্রে এই প্রকৃতির ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধক কোষগুলো অনেকটা বিভ্রান্ত হয়ে যায় আর আক্রমণ করে বসে শরীরের সুস্থ-সবল পেশীগুলোকেই। ফলে তৈরি হয় এই ব্যথা। এটা ছোঁয়াচে ব্যথা। একটি স্থান থেকে শুরু হয়ে অন্যখানে ছড়িয়ে পড়ে বলে এই প্রদাহকে ইনফ্লামেটোরি বলে থকে।

কীভাবে বুঝবেন?

এটাই তো ভাবছেন যে কীভাবে মেকানিকাল আর ইনফ্লামেটোরি ব্যথাকে আলাদা করে চিনতে

পারবেন। নীচে এদের বৈশিষ্ট্যগুলো দেওয়া হল।

মেকানিকাল-

১. এটি যে কোন বয়সেই শুরু হতে পারে।

২. চুলকানি আর বাধা দেওয়ার অনুভূতি হতে পারে।

৩. সকালে বেশি সমস্যা তৈরি করে। তবে খানিকটা বিশ্রাম নিলেই সেরে যায়।

ইনফ্লামেটোরি-

১. কমবয়স থেকে শুরু করে ৪০ বছর বয়সের আগে দেখা দেয় এই ব্যথা।

২. তিন মাসের কম সময় ধরে টানা ব্যথা থাকে।

৩. বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে না, বরং রাতের বেলা, বিশেষ করে রাতের শেষ অর্ধেকে এসে ব্যথার পরিমাণ বেড়ে যায়।

কতটা সমস্যার?

মেরুদন্ডে ব্যথা খুব ছোটখাটো কারণে হয়ে থাকলেও এই একটিমাত্র কারণেই আপনার সমস্ত শরীর আক্রাণ্ত হতে পারে। তাও আবার খুব ভয়াবহভাবে। এই সাধারণ ব্যথাই আপনাকে নিয়ে যেতে পারে ক্যান্সার, টিউমর, সংক্রমণসহ আরো নানাবিধ বাজে রোগের দিকে। ভাবছেন কী করে বুঝবেন আপনার মেরুদন্ডের ব্যথা শরীরের জন্যে নেতিবাচক নাকি নয়? সবচাইতে ভালো এ ব্যাপারে চিকিৎসকই বলতে পারবে যদিও, তবু-

১. ৬ সপ্তাহ ধরে ব্যথা চলতে থাকলে

২. আপনার বয়স ২০ এর নীচে কিংবা ৫০এর উপরে হলে

৩. জ্বর থাকলে

৪. মেরুদন্ডের উপরের অংশে ব্যথা ছড়ালে ( ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা )

৫. ওজন খুব বেশি কমে গেলে

৬. ব্যথা একই রকমভাবে হতে থাকলে

বুঝে নেবেন যে আপনার মেরুদন্ডের ব্যথাটি গুরুতর পর্যায়ে চলে গিয়েছে এবং সেটার জন্যে এক্ষুণি আপনার চিকিত্সকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।