মেইন ম্যেনু

চিরিরবন্দরে কাঙ্খিত পানি ও জায়গা না থাকায় পাট নিয়ে দিশেহারা কৃষক

মোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি: এখন পাট কাটার সময়। কিন্তু ডোবা ও নিচু জমিতে পাট জাগ দেয়ার মতো প্রয়োজনীয় পানি ও জায়গা না থাকায় চিরিরবন্দরে অনেক পাটচাষি বিপাকে পড়েছেন।

তবে, কেউ কেউ পাট কেটে জমিতে কিংবা নিচু জায়গায় স্তূপ করে রাখায় তা শুকিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে পাটের গুণগতমান ও উৎপাদন কমে যাবে বলে জানায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

তবে এই মৌসুমে বৃষ্টিপাত হলেও কিছু ডোবায় পানি থাকলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হাওয়ায় জায়গার আভাব দেখা দিয়েছে। দুই একর জমিতে পাট চাষ করেছেন চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের মাষ্টার পাড়া গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, “জাগ দেওয়ার পানি নেই, তবে যেখানে পানি আছে সেখানে পাট জাগ দেওয়ার মত জায়গা নেই তাই কাটা পাট পালা (স্তূপ) করে রাখছি রোদে তা শুকিয়ে যাচ্ছে।”

উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন বলেন, “চার একর জমিতে পাট লাগিয়েছি। তা ইছামতি নদীতে দুই একরের পাট জাগ দিচি। তবে নদীতে বেশী গভীরে পাট জাগ দিলে তা ভাসিয়ে নেওয়ার সম্ভবনা আছে। তাই আর দুই একর জমির পাট ভেজানোর জন্য পানি ও জায়গা কোনটাই পাচ্ছি না।

সাতনালা ইউনিয়নের নালী গ্রামের কৃষক মুকুল হোসেন বলেন, “এক একর জমির পাট ভ্যানে করে ৩ কিলোমিটার দূরে ইছামতি নদীতে নিয়ে জাগ দিয়েছি। কিন্তু সেখানেও জায়গা সংঙ্কুলান দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে।” তিনি আরো বলেন, সময় মত পাট জাগ না দিতে পারলে পাটের মান নষ্ট হবে ও আমন ধান রোপন পিছয়ে যাবে।

উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহামুদুল হাসান জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১২ শত ৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার সম্ভাব্য উৎপাদন অর্জিত হয়েছে ১৫ শত ১০ হেক্টর জমিতে।