মেইন ম্যেনু

চিরিরবন্দরে ভুল অপারেশনে ছাত্রীর মৃত্যু॥ হাসপাতাল বন্ধ করে পালিয়েছে কর্তৃপক্ষ

মোঃ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর চিরিরবন্দরে রাণীরবন্দর পলিটেক প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল অপারেশনে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হওয়ায় হাসপাতাল বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে করে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে নশরতপুর ইউনিয়নের বাকালী পাড়ার মোঃ নজরুল ইসলামের মেয়ে নাছরিন আক্তার (১০) এর হার্নিয়া ব্যাথা হওয়ায় গত শুক্রবার বিকালে রাণীরবন্দর পলিটেক প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হার্নিয়া অপারেশন করার জন্য ৯ হাজার টাকা চুক্তিবদ্ধ হয়ে নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করে হাসপাতালের ম্যানেজার রেজা আলীর সাথে। পরে রেজা আলী কম টাকা দিয়ে ভাড়াটিয়া ডাক্তার মোঃ মাফি ও তার সহযোগী অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার পর অজ্ঞান না করেই অপারেশন শুরু করলে নাছরিন আক্তার পর পর তিন বার চিৎকার করে এবং তার শরীর থেকে প্রচুর পরিমান রক্তপরা শুরু হয়। রক্তপরা বন্ধ না হলে এক পর্যায়ে তার মৃত্যু ঘটে বলে পরিবারের লোকজন জানায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে উক্ত হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের অপারেশন করে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা।

গতকাল শনিবার সরজমিনে হাসপাতাল গেলে হাসপাতাল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এলাকাবাসী অনেকে জানিয়েছেন হাসপাতালের ম্যানেজার মোঃ রেজা আলী ও দেবেশ চন্দ্র রায় রাণীরবন্দর ওয়াজেদ ম্যানশন ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারী অনুমোদন ছাড়া হাসপাতাল এবং পলিটেক ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার বসিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে নিরীহ অসহায় মানুষের মোটা অংকের টাকা।

ডাক্তার মোঃ মাফি এর সাথে মুঠোফোন এ (০১৭২৫১৮০০৯০) যোগাযোগ করা হলে তিনি উক্ত নাম্বার ভুল বলে ফোন কেটে দেয়। নাছরিন আক্তার রাণীরবন্দর চাইল্ড কেয়ার স্কুল এর ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার রোল নং -১৪। স্কুল পরিচালক আবু তাহের তোজাম্মেল হক (রানা) জানায় সে নিয়মিত স্কুলে আসে এবং সে একজন ভাল ছাত্রী।এ দিকে স্কুল ছাত্রী নাছরিন আক্তারের অকাল মুত্যুতে এলাকার শোকের ছায়া নেমে আসে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল কৃর্তপক্ষ এলাকার স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিষায়টি মিমাংশার জন্য চলছে দফায় দফায় বৈঠক।