মেইন ম্যেনু

চিরিরবন্দর গ্রামীনশহর রাণীরবন্দরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

মোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : চিরিরবন্দরে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। ক্রেতা সমাগমে জমজমাট হয়ে উঠেছে গ্রামীন শহরের প্রতিটি দোকান ও বিপনী বিতান। ঈদের দিন যতোই এগিয়ে আসছে মার্কেট গুলোতে ক্রেতাদের ভীড় ততই বাড়ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুরে রানীরবন্দর গ্রামীনশহরে পাইকারি বিক্রেতা রুস্তম সন্স, মমতাজ সন্স চিরিরবন্দর উপজেলা রোড, খানসামা রোড মার্কেট, আফজাল মার্কেট ও ছোট ছোট খুচরা দোকান সহ বিভিন্ন স্থানের দোকান ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। দোকান গুলোতে কোথাও ফাঁকা নেই। ক্রেতা সমাগমে মূখর হয়ে উঠেছে। সব দোকানেই মহিলাদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত।

গত সপ্তাহ গ্রামীন শহরে বিক্রি তেমনটা লক্ষ করা না গেলেও ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতা সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে। দোকানীরা ক্রেতা আর্কষণ করতে বাহারি পোশাক আর নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

তবে বরাবরে মত এবারো দেশী পোশাকের চেয়ে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। তবে এবারে যোগ হয়েছে পাকিস্থানী কিছু থ্রী-পিস। পাকিস্তানী থ্রী-পিসের ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের আকৃষ্ট করে এমন নাম নিয়ে এবারও বাজারে এসেছে আর্কষণীয় ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ, শার্ট, প্যান্ট, টি শার্ট। গ্রহিনীদের জন্য পিওর সূতী, সাউথ, কানজিবরন, কাতান বেনারশী, জামদানী।

কেনাকাটায় মহিলারা ঈদ বাজারকে প্রানবন্ত করেছে তুলেছে। সব দোকানে মহিলা ও তুরুনীদের ভীড় বেশী চোখে পড়ে। তরুনীরা ঝুঁকছে ভারতীয় কিছু আইটেমের দিকে। বাজিরাও মাস্তানী, সাহারা, দিল ওয়ালে, কালা পানি, পাংকা, লেহেঙ্গা, পাখি, দুপাট্টা, শেরওয়ানী, তুমি আসবে বলে, পাকিস্তানি কোটি, পাতাবালিসহ বিভিন্ন ডিজাইনের পোষাক তরুনীদেরকে আকৃষ্ট করেছে।

তবে গত বছরের মত এবার কিরনমালার মাতামাতি খানিকটা মান হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের প্রথম দিকে ছিট কাপড়ের দোকানে বেচাকেনা কম থাকলেও বর্তমানে ছিট দোকানে প্রচুর ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ক্রেতাদের ভীড় সামাল দিতে অনেক দোকানিদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। ঈদ মার্কেটে ক্রেতাদের মধ্যে সিংহভাগ নারী। মেয়েরা যাচাই-বাছাই করে তবেই তাদের পছন্দের জিনিষটি কিনছেন। কেইবা ভীড় এড়াতে আগে ভাগেই পছন্দের কাপড় কিনে রাখছেন। অনেকেই আবার পছন্দের পোষাকটি কিনতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে।

শহরের চাউলিয়াপট্টি থেকে আসা ক্রেতা সোহেল আরমান রাকিব, আফতাব উদ্দিনসহ আরো কয়েক ক্রেতা জানান, আমরা পরিবারের সবার জন্য পোশাক কিনেছি। তবে গত বারের তুলনায় এবারে কাপড়ের দাম অনেক বেশী। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, দাম বেশী হলেও বেচাকেনা ভালই হচ্ছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত এরকম ভীড় থাকবে বলেও বিক্রেতারা জানান।

রানীরবন্দরের ব্যবসায়ী জিয়া জানান, রমজানে প্রথম দিকে তেমন বেচাকেনা হয়নি। তবে গত এক সপ্তাহ থেকে বেচাকেনা ভালই হচ্ছে। তিনি জানান, ভারতীয় বাজিরাও মাস্তানী, সাহারা, দিল ওয়ালে, কালা পানিসহ অন্যান্য পোষাক বেশী বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তানী পোষাকের চাহিদাও রয়েছে।

এদিকে আরেক ব্যবসায়ীক বলেন, প্রচন্ড গরমের কারণে এবারে ক্রেতাদের সুতি পোষাকই বেশী পছন্দ। তবে প্রতিদিন ক্রেতা বাড়ছে। বেচাকেনাও ভালই হচ্ছে বলে তিনি জানান।