মেইন ম্যেনু

চীনা রাষ্ট্রপতির সফরে গুরুত্ব পেতে পারে ‘কানেকটিভিটি’

শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসছেন চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। চীনা রাষ্ট্রপতির সফরে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে তা অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই সফর শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয় বরং এশিয়া ও দক্ষিণ-এশিয়ায় বাংলাদেশের গুরুত্বের বিষয়টিও ইঙ্গিত করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। চীনা রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরকালে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ‘কানেকটিভিটি’ গড়ে তোলার বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন তারা, যা এশিয়া এবং বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্বের ইঙ্গিত বহন করে।খবর জাগো নিউজের।

আগামী শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) দুদিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন চীনের রাষ্ট্রপতি। ৩০ বছরে এটিই কোনো চীনা রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম বাংলাদেশ সফর। চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংকে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান জানাবে বাংলাদেশ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার এবং তোপধ্বনির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হবে। সফরকালে তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে অন্তত ২০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘চীনের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফর খুবই উল্লেখযোগ্য একটা সফর। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কত মজবুত সেটা যেমন প্রমাণ করে, সেই সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেটারও একটা প্রমাণ। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার একটা উল্লেখযোগ্য প্রমাণ চীনা রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফর।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত এবং ভুটানের মধ্যে একটা ইকনোমিক করিডোর আছে। কুনমিং থেকে মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে করিডোর। ট্রান্স-এশিয়ান রোড এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে আমরা কিন্তু অনুমোদন দিয়েছি। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারত এবং মিয়ানমার হয়ে চীন যাবে। একটা আলাদা কর্তৃপক্ষ হলে এটেনশনটা আরো ফোকাস হবে। কর্তৃপক্ষ হলে নিশ্চই ভালো হবে। এবার নিশ্চই কিছুটা আলাপ-আলোচনা হয়েছে এবং আমি আশা করি এটা বাস্তবায়ন হলে আমাদের এই প্রজেক্টগুলো আরো ত্বরান্বিত হবে।’

এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় কানেকটিভিটি গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে এই সফরকে কেন্দ্র করে। গত বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশে ভুটানের নতুন রাষ্ট্রদূত সোনাম টি রাবগাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে ১৯৯৭ সালে গঠিত বিবিআইএন ও বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান নিয়ে গঠিত হয় বিমসটেক জোট কার্যকর সংক্রান্ত আলোচনাও হতে পারে। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘চীনের সঙ্গে এই মুহূর্তে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টা অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। যখনই আমরা দ্বিপাক্ষিকের বাইরে যাই তখনই অন্যান্য প্রতিবেশীর দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থানের কারণে এ ধরনের বহুপাক্ষিক ফোরাম কাজ করে না। যদিও বিবিআইএনের একটা সম্ভাবনা আছে। তবে সেক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কানেকটিভিটি সংক্রান্ত বিষয়গুলো একটা প্যারালাল প্রক্রিয়ায় চলতে পারে।’

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে যে ধরনের বোঝাপড়া আছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে এটা প্রত্যাশিত। বিবিআইএনের প্রস্তাবনা তো আছেই। বাংলাদেশ এটাকে জোড়ালোভাবে সমর্থন করে, চীনও করে। সেখানে আরো দুই অংশীদার ভারত ও মিয়ানমারের ভূমিকা আছে। বাংলাদেশ এবং চীন যদি জোড়ালোভাবে দাঁড়ায় তাহলে আমরা আশা করতে পারি অন্যান্য অংশীদার বিষয়টার গুরুত্ব উপলব্ধি করবে। সেই বিসিআইএনের কাঠামোটা যদি সক্রিয় হয় তবেই প্রধানমন্ত্রীর আশা বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। কানেকটিভিটি কাঠামো না থাকলে এই ধরনের উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখে না।’

তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা চাই, সেই কাঠামোটা তৈরি হোক। চীন, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যে উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমরা নিজেরাও উন্নত হবো সেটাই আমরা চাই। এ ক্ষেত্রে চীনা রাষ্ট্রপতির সফর একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে মনে করি।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘একজন ভিভিআইপির সফর চূড়ান্ত হলে আমরা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে সব বিষয়ে জানিয়ে দেই। তাই চীনা রাষ্ট্রপতির সফরের বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না।’



« (পূর্বের সংবাদ)