মেইন ম্যেনু

চুপ করুন, ভারত ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না: শাহরুখ

ভারতে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে একজনকে পিটিয়ে হত্যা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের উসকানি, মুক্তবুদ্ধির লেখক বুদ্ধিজীবী কালবুর্গি হত্যার প্রতিবাদ এবং ভারতের ফিল্ম ও টেলিভিশন মিডিয়া ছাত্রদের চলমান আন্দলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে একের পর এক সরকারি সম্মাননা ফিরিয়ে দিচ্ছেন সিনেমা নির্মাতা, বৈজ্ঞানিক ও মুক্তিবুদ্ধির লেখকরা। আর দেশে চলমান এইসব বিষয় নিয়েই নিজের পঞ্চাশতম জন্মদিনে মুখ খুলেছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘অসহিষ্ণু’ বলে মন্তব্যও করেছিলেন। কিন্তু তার এই মন্তব্যের পর থেকেই তাকে ‘মুসলমান’ ট্যাগ দিয়ে ভারত থেকে বিতাড়িত করার দাবী জানান কট্টরপন্থি ধর্মীয় দল শিব সেনাসহ বর্তমান বিজেপির অনেক সংসদ সদস্যও। যদিও শাহরুখের বিরুদ্ধে এমন সমালোচনায় সহমর্মিতা জানিয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির অনেক রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রী ও নির্মাতারাও। তবে মূল কাজটি করলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ নিজেই।

শাহরুখকে নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন শাহরুখ নিজেই। মেরুদণ্ড সোজা করে বললেন নিজের দেশপ্রেমের কথা, বললেন এই ভারত তার জন্মভূমি। যত প্রশ্নই উঠুক, তিনি দেশ ছেড়ে যাবেন না। তাছাড়া এই দেশে বাস করার অধিকার সবচেয়ে বেশী তারই বলেও মন্তব্য করেন শাহরুখ। যারা তাকে নিয়ে মাতামাতি শুরু করেছেন, তাদেরকে চুপ থাকতেও বলেছেন তিনি। ধর্ম নিয়েও চমৎকার কথা বলেছেন, বলেছেন রোমান্স নিয়েও। নিজের সম্পর্কে খুবই খোলাখুলি কথা বললেন শাহরুখ খান। তার চুম্বক অংশ বাংলামেইল২৪-এর পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হল:

১. পশ্চিশে অন্যের মতামতকে খুব সম্মান জানালেও, আমাদের দেশে অন্যের মতকে খুব একটা পাত্তাতো দেয়া হয়ই না, বরং খুব খারাপভাবে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।

২.বেশীর ভাগ সময়ে আমি আমার মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারি না, ইচ্ছা থাকা সত্বেও। কারণ আমাকে আমার সিনেমার বাজার নিয়েও ভাবতে হয়।

৩. সৃষ্টিশীল মানুষের বিরুদ্ধে যারা লাগামহীন কথা বলছেন, তারা ঘৃণিত হবেনই।

৪. গরুর মাংস খাওয়ার বিষয়টিকে দিয়ে ধর্মকে সজ্ঞায়িত করা যায় না।

৫. আমার ঘরে ধর্ম বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধ্যকতা নেই। যে যার মত খুশি ধর্ম মান্য করতে পারেন। আমার সন্তানরা প্রায় সময় সংশয়ে থাকে যে তারা হিন্দু নাকি মুসলিম? আমি তাদের বলি, তোমরা নিজেদের খ্রিস্টানও ভাবতে পারো। পৃথিবীর সব ধর্মকে মান্য করতে বলি তাদের।

৬. শুধু ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নয়, বরং সব ধরণের অসহিষ্ণু মনোভাব ভয়ঙ্কর। যা একটা জাতিকে অন্ধত্বের দিকেই ঠেলে দিবে।

৭. যে তার দেশকে ভালোবাসে, তার নিশ্চিত ভাবে সামগ্রিক কারণেই দেশের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে। সে ধর্ম কিংবা গোত্র হিসেব করে দেশকে ভালোবাসে না।

৮. যারা অ্যাওয়ার্ড ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমিতো মনে করি তারা বীরত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি তাদের সাথে আছি। তারা যদি আমাকে ডাকে, এবং তাদের সাথে এই প্রতিবাদে আমাকেও একজন মনে করেন তাহলে আমি প্রস্তুত।

৯. ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ডিপার্টমেন্টের ছাত্ররা যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, আমি তাদের সমর্থন করি। এবং মনে করি তারা ঠিক কাজটিই করছে। যদিও তাদের থেকে কখনো সখনো কিছু ভুলভাল পদক্ষেপ নেয়ার কথা শুনা যায়। কিন্তু তারপরেও ছাত্রদের এই ন্যায্য আন্দোলনকে আমি সমর্থন করি।

১০. মানুষের পরম ভালোবাসাই আমার প্রধান অস্ত্র। যদি আমার বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়িয়ে যায়, আমি বিশ্বাস করি আমাকে ভালোবেসে আমার পক্ষেও প্রচুর মানুষ দাঁড়িয়ে যাবেন। কারণ সত্যিই তারা আমাকে ভালেবাসেন, আমি তাদের মাঝেই বেঁচে থাকি।

১১. আমি কিছুটা স্বার্থপর, কিন্তু কখনো ভিতু নই। তবে আমাকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন অমূলক কথাবার্তাকে ভয় পাই, এবং এগুলা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।

১২. এটা খুবই ভয়ঙ্কর আর নীচু মানসিকতা যে, নিজের দেশের একজন সাচ্চা নাগরিক হওয়ার পরও ‘দেশপ্রেম’ প্রমান করার প্রশ্ন উঠে।

১৩.এই দেশে বাস করার জন্য আমার চেয়ে বেশীঅধিকার আর কারোরই নেই। এই দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না। সুতরাং, আমাকে নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করুন…