মেইন ম্যেনু

চুরি করে জাতীয় বীর!

পাঠক আমি ধরেই নিচ্ছি, প্যারিসের বিশ্বখ্যাত ল্যুভর মিউজিয়ামের কথা আপনি জানেন। মিউজিয়ামটি ১৭৯৩ সালের ১০ আগস্ট ৫৩৭টি চিত্রশিল্প নিয়ে এক প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেই থেকে মিউজিয়ামটি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ও সমৃদ্ধ শিল্পকলা জাদুঘর। প্রতিবছর প্রায় ৮ মিলিয়ন দর্শনার্থী জাদুঘরটি দেখতে আসেন। ১২০০ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি সম্রাট দ্বিতীয় ফিলিপের প্রাসাদ হিসেবে স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। রাজা প্রথম ফ্রান্সিসের শাসনকালে ১৫৪৬ সালে এই প্রাসাদেই শিল্প সংগ্রহশালা হিসেবে মিউজিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

দর্শকের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর মিউজিয়ামটি পুনরায় সংস্কারের জন্য ১৭৯৬ সালের মে মাসে বন্ধ করে দেওয়া হলেও ১৮০১ সালের ১৪ জুলাই এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিউজিয়ামের যাবতীয় সংগ্রহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। মিউজিয়ামটিতে বর্তমানে ছয়টি প্রশাসনিক বিভাগসহ পৃথক গ্যালারিতে গ্রিক, রোমান, মিসরীয় ও প্রাচ্যদেশীয় অসংখ্য শিল্প নিদর্শন রয়েছে। এর পাশাপাশি সংরক্ষিত রয়েছে মধ্যযুগ, রেনেসাঁ ও আধুনিক কালের বহু বিখ্যাত শিল্পী ও ভাস্করের শিল্পকর্মসমূহ।

এতটুকু পড়ে পাঠকের মনে হতে পারে ধান ভানতে বুঝি শিবের গীত গাইছি। আসলে তা নয়। যাকে নিয়ে এই লেখা তার সঙ্গে এই মিউজিয়ামটি জড়িত। তাহলে আসল কথায় আসা যাক। এখানেই লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির আঁকা বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা ছিল। এবং এখান থেকেই সেটি চুরি হয়ে যায় ১৯১১ সালে। সত্যি বলতে ১৯১১ সালে মোনালিসা চুরি হওয়ার আগে ছবিটির প্রতি সাধারণের তেমন আগ্রহ ছিল না। অথচ চুরি হওয়া মোনালিসাকে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ল্যুভর মিউজিয়ামে রাখা হলে প্রথম দুই দিনে প্রায় এক লাখ দর্শনার্থী ছবিটি দেখতে এসেছিল।

এই চুরির পেছনে তিনজন থাকলেও নেতৃত্বে ছিলেন ইতালির নাগরিক ভিনসেনজো পেরুজিয়া। তিনি ল্যুভরেই নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। ফলে কেউ তাকে সন্দেহ করেনি। এদিকে চুরির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুধু প্যারিসেই নয় পৃথিবীজুড়েই শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশ তদন্তে নামে। গ্রেফতার হন কবি অ্যাপোলিনায়ের। কবির ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পাবলো পিকাসোকেও!

১৯১৩ সালের ডিসেম্বরে ট্রেনে চেপে প্যারিস থেকে ফ্লোরেন্স চলে আসেন পেরুজিয়া। সেখানেই এক আর্ট গ্যালারিতে মোনালিসা বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি। আদালতে পেরুজিয়া দাবি করেন, ফ্রান্সই ইতালির এই বিখ্যাত চিত্রকর্ম চুরি করেছিল। নিজের দেশের সম্পদ তিনি ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। পেরুজিয়ার এ বক্তব্য ইতালিতে তাকে জাতীয় বীরে পরিণত করে। মাত্র ছয় মাসের জেল হয় তার।