মেইন ম্যেনু

চুরি বন্ধে বন্দরেও বসছে ওজন মাপার যন্ত্র

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সমুদ্র ও নদী বন্দরে ওয়েব বেইজড ওজন মাপার যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সব বন্দরে ওজনে চুরি ও ফাঁকিবাজি বন্ধ হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা ও গোমতী সেতুতে টোল প্লাজা বেইজড মনিটরিংয়ের আওতায় আসায় দৈনিক গড়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় হচ্ছে। আগে দৈনিক গড় আদায় ছিল ৪০ থেকে ৫০ লাখ। ক্রমান্বয়ে রাজস্ব আদায়ের এ হার আরও বাড়বে বলে প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

বুধবার (১ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যানবাহনের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং মেঘনা সেতু ও গোমতী সেতুর ওয়েব বেইজড টোল মনিটরিং সিস্টেমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘দুটি সেতুর টোল প্লাজায় ওয়েব বেইজড মনিটরিংয়ের আগে পুকুরচুরি হতো। মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল প্লাজায় ৬টি করে মোট ১২টি ওয়েস্কেল বসানোর কাজ শেষ পর্যায়ে আছে। এতে নির্ধারিত ওজনের বেশি পণ্য বহনকারী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হবে।’

ওয়েব বেইজড পদ্ধতিতে টোল আদায়ের জন্য কম্পিউটার সিস্টেমস নেটওয়ার্ক (সিএনএস) লিমিটেডের সঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ৫ বছরের চুক্তি হয়েছে। সিএনএস লিমিটেডকে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ১৭.৭৫ শতাংশ প্রদান করা হবে বলে মন্ত্রী জানান।

মাত্রাতিরিক্ত পণ্য বহনকারী ট্রাক/লরি চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের সড়ক ও মহাসড়ক অকাল ক্ষতির হাত হতে রক্ষা করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডস্থ বড় দারোগার হাটের এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশনও উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত কম্পিউটারাইজড এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন দুটি কানাডার কারিগরি সহযোগিতায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান রেগনাম রিসোর্স লিমিটেডের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়।

ওই স্টেশনে স্থাপিত এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন ধীরগতির ও দ্রুত গতির ট্রাকের ওজন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে। এ ছাড়াও অত্র স্টেশনের সিস্টেমের Automatic Electronic Signal System, Auto Weight Display, Loop Sensor, Video Recording System, Auto Generation of Overload Truck Report, Auto Penalty Receipt ইত্যাদি সংযুক্ত থাকছে, যা বিশেষ ডিজাইনে তৈরিকৃত সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং Weight Calibration ও অন্যান্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া এ দুটি স্টেশনে মালামাল বহনকারী ট্রাক-লরি প্রবেশের শুরুতে ওজন পরিমাপ করা হয়। এতে মালবাহী ট্রাক-লরি ওজন নির্দিষ্ট সীমার মাঝে থাকলে তা বাইপাস লেন দিয়ে চলে যায়। এতে ট্রাক-লরির অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয় না।

কোনো ট্রাক-লরির ওজন নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম হলে উক্ত ট্রাকের ওজনসহ অন্যান্য তথ্যাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লাজার ভিতরের কম্পিউটারে দেখা যায়, প্রিন্ট হয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিদিনের ডাটা সংরক্ষণ হতে থাকে।

অতিরিক্ত ওজন বহনকারী ট্রাকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে উক্ত স্টেশন দুটিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন ওয়েব বেইজড ডাটা এবং ভিডিও মনিটরিং সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে।