মেইন ম্যেনু

চুলের যত্নে ফল ও সবজির রস

তাজা সবজি এবং ফল থেকে পাওয়া রস আপনার চুলের স্বাস্থ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্যের মধ্যে যে রস রয়েছে তা আপনার চুলের যত্নের চাহিদা মেটায়। তাজা ফল ও সবুজ শাক-সবজি শরীরের পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। রস থেকে আগত পুষ্টি দ্রুত আমাদের শরীরের মধ্যে শোষিত হয়। চুল বৃদ্ধির জন্য এমনই কয়েকটি কার্যকর রসের কথা নি¤েœ উল্লেখ করছি।

আমলকীর রস

আমলকী চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুশকির সমস্যা দূর করে ও চুল পাকা প্রতিরোধ করে।

স্ট্রবেরির রস

স্ট্রবেরির রসে আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ যা চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে ও চুলের প্রোটিনের অভাব পূরণ করে । মাথার ত্বকে স্ট্রবেরির রস নিয়মিত ব্যবহারে তা চুলের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে ।

গাজরের রস

গাজরের রস একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর রস। ভিটামিন ‘সি’যুক্ত এই রস চুলের জন্য খুবই উপকারী। গাজরের রসে আছে বিটাক্যারোটিন যা চুলের জেল্লা বাড়াতে ও চুলের প্রাকৃতিক রং বজায় রাখতে সাহায্য করে। চুলের গোড়া মজবুত করতে ও পুষ্টি যোগাতে এটি অনেক ভূমিকা পালন করে।

ধনে পাতার রস

ধনে পাতার রসে রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। বাজারে এখন এর দাম সহনীয় কাজেই আমরা যদি মাঝে মধ্যে খাবারের বা সালাদের সঙ্গে পরিমিত মাত্রায় এটি খেতে পারি তাহলে অনেক ধরনের রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হবে। ধনে পাতায় রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ ফলিক অ্যাসিড যা ত্বকের উপকারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই ভিটামিনগুলো প্রতিদিনের পুষ্টি জোগায়, ত্বক, চুলের ক্ষয়রোধ করে। সবুজ ধনে পাতার রস নিয়মিত চুলে লাগালে চুল পড়া বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজায়।

শসার রস

খনিজ উপাদানসমৃদ্ধ শসায় আছে সালফার ও সিলিকা নামের দুটি উপাদান, যা আমাদের চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। নিয়নিত শসার রস পান করলে শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের ব্যথা দূর হয়। শসার রস চুলের সঠিক বৃদ্ধির সহায়তা করে এবং চুলের মান উন্নত করে।

রসুনের রস

রসুনের রস ব্যবহার চিকিৎসা ক্ষেত্রে সেই ঐতিহাসিককাল থেকে চলে আসছে। রসুন চুলের মান বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং চুলে পুষ্টি যোগায়। মাথায় রক্ত সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এটি চুলের নি®প্রভতা দূর করে এবং চুল মসৃণ করে তোলে। রসুনের রস সপ্তাহে একদিন মাথার স্কাল্পে লাগালে কিছুদিনের মধ্যেই দেখবেন অনেক নতুন চুল গজিয়েছে।

পেয়ারার রস

পেয়ারাতে আছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, কালসিয়াম, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড। পেয়ারার রস ও খালি পেয়ারা যেকোনোভাবেই এটি গ্রহণ করা যেতে পারে। পেয়ারার পাতা ২০ মিনিট সেদ্ধ করে সেই জল চুলে প্রয়োগ করতে পারেন। এটি চুল পড়া প্রতিরোধ করে ।

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর রস

ঘৃতকুমারীর রসে উপস্থিত ভিটামিন চুলকে শক্তিশালী করে এবং চুলের ভঙ্গুর হওয়া থেকে সাহায্য করে। ঘৃতকুমারীর পুষ্টিকর ও ময়েশ্চারাইজিং রস মাথার খুশকির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করে। আপনার চুলে ঘৃতকুমারীর রস নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল হয়ে উঠবে চিকন ও নরম। এই রস চুল বৃদ্ধির জন্য সেরা রস। নতুন চুল গজানোর জন্য অ্যালভেরার রস নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসেজ করে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন, সপ্তাহে ২ বার করে এভাবে ২ মাস করুন। পরিবর্তন নিজেই লক্ষ করতে পারবেন।

পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজের রস সরাসরি মাথায় লাগানো যায় যা চুলের বৃদ্ধিতে ও চুলকে সাদা হতে বাধা দেয়। পেঁয়াজ সালফারের সমৃদ্ধ উৎস। চুল গজানোর জন্য এ উপাদানটি খুবই জরুরি। চুল পড়া রোধ ও নতুন চুল গজানোর সহায়তার জন্য এটা অনেক আগে থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। পেঁয়াজের রসে ২ চা চামচ মধু দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে চুলের গোড়ায় লাগাবেন। পুরো রাত এই হেয়ার মাস্কটি চুলে লাগিয়ে রাখুন। সকালে হালকা কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩/৪ বার ব্যবহারে দ্রুত ফল পাবেন।-সাপ্তাহিক এই সময়-এর সৌজন্যে।



« (পূর্বের সংবাদ)