মেইন ম্যেনু

চুয়াডাঙ্গার গবিন্দপুর গ্রামে ফকির তরিকাপন্থীদের আশ্রমের দুটি ঘরে আগুন

শামীম রেজা , চুয়াডাঙ্গার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে ফিরে: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে দুর্বৃত্তরা ফকির তরিকাপন্থী আশ্রমের দুটি ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। দু ফকিরকে তারা চুল কাটাসহ নির্যাতন করেছে। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে গোবিন্দপুরের ফকির জুলমত আলী (৫৫) এর আশ্রমে এ ঘটনা ঘটে।

ফকির জুলমত আলী জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টার পর ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৮-৯ জন যুবক ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আশ্রমে ঢুকে প্রথমে তাকে খোঁজ করে। এরপর তাঁকে পেয়ে আশ্রমের ভেতরে একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা এবং চোখ বেধে রাখে। এসময় তাঁর সঙ্গে থাকা স্ত্রী মোমেনা বেগম (৪৫) ও গুরুভাই চন্ডিপুর গ্রামের স্বর্গীয় রেনুপদ হালদারের ছেলে হরেন হালদার (৬৫) কেও হাত-পা এবং চোখ বেধে রাখা হয়।

তবে, আশ্রমে সেসময়ে থাকা আট বছর বয়সী নাতি ছেলে রাকিবকে দুর্বৃত্তরা কিছু বলেনি। হাত-পা-মুখ বেধে রাখার পাশাপাশি তার ও হরেন হালদারের চুল কেটে দেয় দুর্বত্তরা। এরপর তারা একে একে দুটি বসত ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। আগুনে নগদ ১৭ হাজার টাকা, বইপত্র, আসবাবপত্র, ২০০ টি কাঁথা ও বালিশ, এক বস্তা চাল, শ্যালো মেশিন পুড়ে যায়। অসংখ্য গাছপালা কেটে দেয়া হয়।

তিনি আরো জানায়, আক্রমনকারীরা শিক্ষিত। কারন তারা কোরন সম্বলিত একটি বই পোড়ায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আস্তানার একাংশের দুটি কাঁচা ঘর আগুনে পুড়ে ছাই ও ঘরের আশপাশের গাছপালাও পুড়ে গেছে। ফকির জুলমত আলীর আস্তানা অত্যান্ত নির্জন এলাকায় অবস্থিত। আস্তানার পূর্বে লোকনাথপুর, পশ্চিমে মাথাভাঙ্গা নদী. উত্তরে গোবিন্দপুর গ্রাম ও দক্ষিনে রুদ্রনগর গ্রাম।

আস্তানায় সৌর ও জেনারেটর ব্যবহার করে কিদ্যুৎ ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিলো। মরহুম খোয়াজ আলীর ছেলে জুলমত আলীর বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে। সেখানে চাষাবাদ ফেলে এসে সে তার নিজের জমির ওপর কুস্টিয়া মীরপুর উপজেলার ভেড়ামারা গোলাপশাহর সলেমান শাহ নেঙটা ফকিরের তরিকায় আস্তানা গড়ে তোলা হয়। একটি পাকা ও দুটি কাঁচা ঘর ছিলো সেখানে।

ফকির জুলমত আলীর স্ত্রী মমেনা বেগম (৪৫) আক্রমনের ঘটনাটি জানাতে গিয়ে বলেন, ৮-৯ জন মুখোশধারী ছেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমন চালায়। তাদের ১ জনের পরোনে লুঙ্গি ও ২ জনের ট্রাউজার পরা ছিলো। বাকীদের পরোনে ছিলো ফুলপ্যান্ট। ওদেরকে শিক্ষিত বলে মনে হয়েছে।

আক্রমনের সময় তারা তার স্বামীকে মেরে ফেলার কথা বলছিলো বার বার। তবে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার স্বামী পালিয়ে গেলে সে রেহায় পায়। দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা বেঁধে রেখে চুপ থাকতে বলে। আগুন দিয়ে ঘর দুটি পুড়িয়ে দিয়ে তারা চলে যায়।

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামের মরহুম মুনসেদ আলী গাইনের ছেলে পীর ভাই ইদ্রিস ( ৩৮) বলেন, এ ধরনের আক্রমনের ঘটনা শুনে সে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছে। এ ধরনে জঘন্য আক্রমনের ঘটনাটিকে তিনি ঘৃনা করে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আসাদুলের স্ত্রী খোদে (৪৪) জানান, আস্তানায় আক্রমনের ঘটনা শুনে তিনি আতস্কিত হয়ে পড়েছে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল্লার ছেলে সাহেব আলী (৪২) বলেন, এ ঘটনায় তিনি নিন্দা জানান। তিনি এ আক্রমনের বিচার চান

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই এলাকার কয়েকজন সচেতন বাসিন্দা জানান, ফকিরের তন্ত্রের নামে ওখানে জুলমত আলীসহ কিছু ব্যাক্তি গাঁজা সেবন ও পাইকারী দরে তা বিক্রি করে আসছিলো। এ কারনে কিছু বাসিন্দা তার প্রতি দারুনভাবে ক্ষুব্দ ছিলো। ফকির তন্ত্রের নামে মেয়েদের নিয়ে সেখানে চলছিলো অনৈতিক কাজ। এ ধরনের অপকর্মে অতিষ্টি হয়ে উঠেছিলো এলাকার বাসিন্দারা। তারা জানান, কারা কি কারনে আস্তানায় আক্রমন করেছে তা তাদের জানা নেই।

এ ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, আক্রমনের বিষয়টি ব্যাপারে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা হলে তদন্ত করে বলা যাবে; ঘটনাটি কি ছিলো।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, গোবিন্দপুর গ্রামে ফকিরের আস্তানায় আক্রমনের পর সেখানকার দুটি কাচা ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। খবর পেয়ে তিনি নিজে ও পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল খালেক আজ শনিবার বেলা ১০ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন । ক্ষতিগ্রস্থদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফকির জুলমত আলী বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় ৮-৯ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের কথা উল্লেখ করে মামলা করেছে। মামলা নম্বর-৫৪। তারিখ: ৩০.০৭.২০১৬।