মেইন ম্যেনু

চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রথম মহড়া আজ

হিলারি ক্লিনটন না ডোনাল্ড ট্রাম্প? কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট? বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটির ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ও ৪৮তম ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াই অনুষ্ঠিত হবে ৮ নভেম্বর।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, চূড়ান্ত এই লড়াইয়ের আগে প্রতিদ্বন্দ্বীরা একমঞ্চে দাঁড়িয়ে তুমুল বিতর্কে অংশ নেন; যাকে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক বলা হয়।

এ রকম মোট তিনটি বিতর্কে অংশ নেবেন হিলারি ও ট্রাম্প। এর প্রথমটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায়। বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হফস্ট্রা বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে। বিতর্কের সঞ্চালনায় থাকবেন এনবিসি টেলিভিশনের সাংবাদিক লেস্টার হোল্ট। মোট সময় থাকবে দেড় ঘণ্টা। একেকটি পর্ব হবে ১৫ মিনিটের।

যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই গোটা বিশ্ব এ বিতর্কের দিকে চেয়ে থাকবে এটি বুঝতে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন কে?

ওবামা যেমন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট তেমনি এই নির্বাচনে হিলারি যদি জেতেন তবে তিনি হবেন দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

এই হিলারি ক্লিনটনের জন্য এবারের নির্বাচন আলাদা মাত্রা তো পেয়েছেই, তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে যিনি রয়েছেন, সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পও নানা কৌশলে আলোচনায় থাকতে পেরেছেন সমানে সমানে।

বেসামাল স্বভাবের বলে পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প কীভাবে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাস্ত করার চেষ্টা করবেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে। গণমাধ্যমগুলোও সেক্ষেত্রে রসদ যুগিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন, প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ ভোটার এখন নির্ধারণ করতে পারেননি তারা কাকে ভোট দেবেন। এ জন্য সেই ভোটারদের নিজের দিকে টানতে এ বিতর্কের একটা আলাদা গুরুত্ব আছে। এই ভোটারদের আবার বেশির ভাগই নারী। এখন দেখার বিষয়, নারী বলে তারা হিলারিকেই বেছে নেন কি না। অবশ্য স্রেফ নারী বলে নারী হয়ে কাউকে ভোট দিতে হবে- এমন ভাবনাকে সেকেলে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নারী।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধনকুবের ব্যবসায়ী, টিভিব্যক্তিত্ব রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের আজকের এ বিতর্ক বিশ্বের ১০ কোটি মানুষ উপভোগ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিতর্কের মূলবিন্দু থাকবে-জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি।

অনেকের ধারণা, ট্রাম্প হয়তো বিতর্কে নেমে হিলারিকে কুটিল, মিথ্যাবাদী ইত্যাদি বলতে পারেন। তার হয়তো চেষ্টা থাকবে হিলারিকে অনাস্থাভাজন হিসেবে উপস্থাপন করা। সেই সঙ্গে মানুষকে দেখানো যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য হিলারি নয়, তিনিই যোগ্য প্রার্থী।

অবশ্য থেমে নেই হিলারিও। সাবের্ক এই ফার্স্ট লেডির যুক্তির ভাণ্ডার বেশ সমৃদ্ধ। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি বিতর্কে অংশ নিয়ে ফেলেছেন।