মেইন ম্যেনু

চেনা যায় কি?

ছোট ছোট কয়েকটি হাড়ের উপর সামান্য পরিমাণ চামড়া লেগে ছিল। ক্ষুধার্ত পেটে আধমরা শরীরে চোখে-মুখে শুধু কয়েকফোটা পানির প্রত্যাশা ছিল। শুধু মাত্র আট সপ্তাহ পার হয়েছে। তাকে দেখলে এখন আর চেনার উপায় নেই। সত্যিই আনন্দে চোখে জল আশার মত উন্নতি।

আশাতীত উন্নতি হয়েছে নাইজেরিয়ার সেই ‘মিরাকল শিশু’র। একদিন বাবা মা জাদুকর অপবাদ দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল দুই বছর বয়সী ওই শিশুকে। রাস্তা থেকে কুড়িয়ে খাবার খেয়ে কোনো রকমে দেহে প্রাণ নিয়ে বেঁচেছিল ‘হোপ’। পরবর্তীতে আফ্রিকায় বসবাসরত ড্যানিশ নাগরিক ও কেয়ারের কর্মী আনজা রিনগ্রেন লোভেন শিশুটিকে উদ্ধার করে তাকে নিয়ে আসেন। তিনিই তার নাম রাখেন ‘হোপ’।

জানুয়ারির শেষ নাগাদ লোভেন শিশুটির কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মর্মস্পর্শী ওই ছবি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এরপর থেকেই শুরু হয় হোপের নতুন জীবন। লোভেনের সেবাযত্ন ও তত্ত্বাবধানে মাত্র আট সপ্তাহেই অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে হোপের। লোভেন আবারো হোপের ছবি পোস্ট করে লেখেন, সে সত্যিই তার জীবন উপভোগ করছে।

download

লোভেন বলেন, আট সপ্তাহ পরের হোপকে চেনাই যাচ্ছে না। ছবি তোলার সময় এখন হোপ হাসে এবং অন্যান্য শিশুর সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নেয়।

এখন তার ৩৫ জন ভাই ও বোন রয়েছে। তাদের সঙ্গে সে খেলে, পড়ে ও মজা করে। তারাও হোপের খেয়াল রাখে, তাকে নিরাপদে রাখে। তাদের ভালোবাসায় এখন জীবনকে উপভোগ করছে হোপ।

লোভেন জানান, হোপকে উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রথমে তার পেটে থেকে কৃমি দূর করার ওষুধ দেন চিকিৎসক। এছাড়া তার শরীরে রক্তের লোহিত কণিকাগুলো আরো একীভূত করতে প্রতিদিন রক্ত পরিবর্তন করা হতো।

download (1)

কিন্তু জন্মগতভাবেই হোপের মুত্রথলিতে একটি সমস্যা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে লোভেন লেখেন, সামনের সপ্তাহে হোপের সার্জারি করা হবে আর এটা কোনো জটিল অপারেশন নয়। এ ধরনের অপারেশন এর আগে অনেকবার হয়েছে। তাই হোপ ভালো থাকবে।

লোভেন তাকে উদ্ধারের দুইদিন পর হোপের চিকিৎসা খরচ ও হাসপাতাল বিলের জন্য সহযোগিতা চান জনগণের কাছে। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এক মিলিয়ন ডলার সহায়তা পান।

আফ্রিকান চিলড্রেনস এইড এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা লোভেন। তিনি এটা তিন বছর আগে চালু করেছেন।এছাড়া তার স্বামী ডেভিড ইমানুয়েল উমেম ও তিনি আরেকটি এতিমখানা চালু করেছেন।