মেইন ম্যেনু

চেহারা দেখাতে পরিকল্পনামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন : ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা

শুধু চেহারা দেখাতে টেলিভিশন সাংবাদিকদের নিয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যেখানে কোনো জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সাংবাদিকদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এতে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনামন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট বিটের নিয়মিত সংবাদকর্মীরা অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে শুধু টিভি সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়। খোদ পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক নয়া দিগন্তের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হামিদ সরকার বলেন, এই আচরণ বৈষম্যমূলক। স্বাধীন সাংবাদিকতায় এটা এক ধরনের হতাশাব্যঞ্জক আচরণ। মন্ত্রী কিছু সাংবাদিককে ডাকবেন আর কাউকে ডাকবেন না এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে আমরা এমনটি আর দেখতে চাই না।

বিডিনিউজ২৪ডটকমের প্রতিবেদক জাফর আহমেদ বলেন, আমরা যারা নিয়মিত এই বিট কভার করি, তাদের বাদ দিয়ে শুধু টিভি সাংবাদিকদের নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করায় আমরা বিস্মিত। এতে আমরা ক্ষুব্ধ।

সমকালের প্রতিবেদক খান এ মামুন বলেন, ‘এই ঘটনায় আমি চরমভাবে ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও দুঃখিত। পরিকল্পনামন্ত্রী সব সময় সাংবাদিকবান্ধব বলে জানতাম। কিন্তু তার এই আচরণে আমি চরমভাবে হতাশ হয়েছি।’

মানবকণ্ঠের প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মন্ত্রীর চেহারা দেখাতে পারবো না বলে সংবাদ সম্মেলনে আমাদের রাখা হয়নি। এটা ঠিক না, আমি এর প্রতিবাদ জানাই।

সম্প্রতি জঙ্গি হামলা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি ও উন্নয়ন সহযোগীদের মনোভাব নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মন্ত্রী। এর আগে এডিপি সংক্রান্ত রিপোর্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু টিভি মিডিয়া সেভাবে কভারেজ পায়নি বলে জানান পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা। তাই শুধু টিভি মিডিয়ায় কভারেজ পেতেই পরিকল্পনামন্ত্রী এই বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শেফায়েত হোসেন বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে দেশের সিলেকটিভ কয়েকটি টিভি সাংবাদিকদের ডেকেছি। এখানে বিটিভিও ছিল।

বিষয়টি বৈষম্যমূলক কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বৈষম্যের কোনো বিষয় না, এডিপি সংক্রান্ত রিপোর্ট পত্রিকা ও অনলাইনে চলে এসেছে। তাই তাদের ডাকা হয়নি। তবে মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমি কাজ করেছি। এখানে আমার করার কিছু ছিল না।

এদিকে বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে জানিয়েছে উন্নয়ন সাংবাদিকদের সংগঠন ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি)।

সংগঠনের সভাপতি ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির বলেন, এই বিট কভার করার জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর সহযোগিতা একান্ত জরুরি। আমরা সব সময়ই মন্ত্রীর কর্মসূচি কভার করে আসছি এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জাতিকে অবহিত করে আসছি। টিভি, অনলাইন ও দৈনিকের সবাই মিলেমিশেই একসঙ্গে কাজ করে আসছি। কিন্তু এক অংশের জন্য বিশেষ সংবাদ সম্মেলন চরম হতাশাজনক ও বৈষম্যমূলক।

ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ না করার জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।