মেইন ম্যেনু

চৌদ্দর কম বয়সী গৃহকর্মী রাখা যাবে না

এখন থেকে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গৃহকর্মী রাখা যাবে না। ১৪ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী গৃহকর্মী রাখা গেলেও তাদের দিয়ে ভারি কাজ করানো যাবে না বরং হাল্কা কাজ করাতে হবে। আর ১৮ বছর থেকে তার উপর বয়সী গৃহকর্মীকে দিয়ে হাল্কা ভারি সব ধরণের কাজ করা যাবে। এমন বিধান রেখে এই প্রথম গৃহকর্মীর সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয় বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

তিনি বলেন, ‘জেনেভা কনভেনশনের চুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশে এই প্রথম গৃহকর্মীর সুরক্ষায় আইন করা হয়েছে। গৃহকর্মকে শ্রম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে নতুন এ আইনে।’

সচিব আরো বলেন, ‘নতুন আইনে গৃহকর্মীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনে বলা আছে, গৃহকর্মীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। তাদের সঙ্গে অশারীন, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না। যদি কোনো গৃহকর্তা আইন ভঙ্গ করেন তাহলে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬- এর বিধি অনুযায়ী প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানের কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও প্যানাল কোডও রয়েছে।’

শফিউল আলম বলেন, গৃহকর্মী সুরক্ষা আইনের কারণে এখন থেকে গৃহকর্মীরা মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ বছরে চারমাস কিংবা ১৬ সপ্তাহ ছুটি ভোগ করতে পারবেন। তারা শ্রম কল্যাণ আইন অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

তিনি বলেন, গৃহকর্মীর বেতন ভাতা ও কর্মঘণ্টা নতুন নীতিমালা মেনে উভয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। তবে কর্মঘণ্টার ক্ষেত্রে গৃহকর্মীদের বিশ্রাম, খাওয়াদাওয়া ও বিশ্রাম নেওয়ার সময় থাকবে।

গৃহকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি সরকারিভাবে দেখাশোনা করবে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং শ্রম অধিদপ্তর। তাছাড়া তাদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সরকার একটি হেল্পলাইন চালু করবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এই নীতিমালার ফলে বাংলাদেশে এতদিন গৃহকর্মীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণে গৃহকর্তাদের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। এই আইনের ফলে গৃহকর্তাদের একটি অনুশাসনের আওতায় নিয়ে আসা হলো।