মেইন ম্যেনু

চ্যাপলিন ও হিটলার, তারা কি যমজ ভাই?

মানবতাবাদী ও বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান পুরুষ স্যার চার্লি চ্যাপলিন এবং ক্ষমতার দম্ভে থাকা অন্ধ ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক হিটলার সম্পর্কে যারা জানেন, শিরোনাম দেখেই হয়তো তাদের অনেকের গা জ্বলে উঠছে! গা জ্বলে উঠাই স্বাভাবিক!

পৃথিবীর দুই প্রান্তের দু’জন মানুষ যাদের ধর্ম, দর্শন কিছুই মিল নেই। অথচ তাদেরকে ‘যমজ ভাই’ বলে ফেলার দৃষ্টতা দেখানো কি সহজ কথা! সত্যিই, চ্যাপলিন ও হিটলার পুরো বিপরীতমুখি দুটি চরিত্র। দর্শনগত বিচারে পুরো উল্টো দুজন চরিত্র। এতো বৈপরীত্য মানুষে মানুষে হতে পারে এটা তাদের কর্ম, দর্শন সম্পর্কে জানলেই পাওয়া যাবে। কিন্তু তাদের মধ্যে চেহারার এতো মিল ছিল যে, যে কারো তাদেরকে দেখে ‘যমজ ভাই’ বলাটা অসঙ্গতি নয়।

চ্যাপলিন ও হিটলারে মধ্যে এমন একটি যোগসূত্র মানুষ খোঁজে পায় ১৯৪০ সালে নির্মিত ইতিহাসের অনবদ্য ছবি ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’-এর মাধ্যমে। ছবিটির সবকিছু জুড়েই ছিলেন চ্যাপলিন, কিন্তু পুরো ছবিতে চ্যাপলিন যে মানুষটাকে নিজের ভেতর দিয়ে দেখিয়েছেন তিনি জার্মানের এক কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতা হিটলার।

এডলফ হিটলার

এডলফ হিটলার

‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ ছবিতে চ্যাপলিন তখনকার ক্ষমতার দম্ভে থাকা ফ্যাসিস্ট এডলফ হিটলারের খামখেয়ালীপনাকে সাঙ্গ করে ছবিটি নির্মাণ করলেন। যে হিটলার নিজের জাতীয়তাকে পবিত্রতম হিসেবে চিহ্নিত করতে লাখো মানুষকে হত্যা করেছে। যুদ্ধ বিরোধী একটা শক্ত অবস্থান নিতেই মূলত ‘দ্য ডিক্টেটর’ ছবিটি নির্মাণ করেন চ্যাপলিন। তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় ১৯৪৫ সালে হিটলারের যে পরিনতি হয়েছিলো, জীবনকে পর্যবেক্ষণ করা গুণীশিল্পী চ্যাপলিন তা ১৯৪০ সালেই তার ‘দ্য ডিক্টেটর’এর মধ্য দিয়ে তামাম বিশ্বকে দেখিয়ে ছিলেন।

‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ ছবিতে চার্লি চ্যাপলিন

‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ ছবিতে চার্লি চ্যাপলিন

চ্যাপলিন আর হিটলার মুখাবয়বে, উচ্চতায়, বডি স্ট্রাকচারে এতো মিল ছিলো যে, হিটলারের চরিত্রে অভিনয় করতে যেয়ে ছবিতে চ্যাপলিনকে একটুও নাকি ম্যাকাপ নিতে হয়নি। আকার আকৃতি ছাড়াও তাদের মিল ছিলো ব্যাপক। আরো কাকতাল ব্যাপার হচ্ছে ১৮৮৯ -এর এপ্রিলেই চ্যাপলিন ও হিটলার দুজনের জন্ম। মাত্র চারদিনের বড় ছোট চ্যাপলিন ও হিটলার। এই দুজনের বেড়ে উঠাও অতি দারিদ্র্যতার মধ্যে। কি অসাধারণ মিল এই দুই মানুষের মধ্যে! যদিও বাস্তব জীবনে পৃথিবী নামক পৃষ্ঠায় মোটা দাগ ফেলে যাওয়া দুজনের একজন দুঃখ-বেদনা আর কান্নাকে বাক্সোবন্দি করে পুরো পৃথিবীকে হাসিয়ে গেছেন, আর অন্যজন ক্ষমতার মোহে মানবতার মন্ত্র ভুলে হত্যাযজ্ঞে মেতেছেন!