মেইন ম্যেনু

চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে লড়েই হারল আমিরাত

এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে ফুরফুরে মেজাজেই ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু টুর্নামেন্টের মূলপর্বে এসেই তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে। ভয়ে বুক ধরপর করারই কথা আমিরাতের খেলোয়াড়দের। কিন্তু না, উল্টো আমিরাত অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ টস জিতেই চ্যাম্পিয়নদের হুমকি দিলেন। প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেভাগেই জাভেদ জানিয়ে রাখলেন, ‘শ্রীলঙ্কাকে ১৩০ রানের মধ্যেই আটকে ফেলবে আমিরাত।’ বাছাইপর্ব উতরে আসা দলটির অধিনায়কের হুংকারেই কি কেঁপে উঠলেন লঙ্কানরা? নইলে জাভেদের কথা কেনই বা বাস্তবে ধরা দেবে?

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ২০ ওভারই খেলেছে। কিন্তু ৮ উইকেটে চ্যাম্পিয়নদের ইনিংস থামে ১২৯ রানে! জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেট খুইয়ে আমিরাত করতে সক্ষম হয় ১১৫ রান। ফলে আমিরাতের বিপক্ষে ১৪ রানের জয় দিয়েই এশিয়া কাপে শুভ সূচনা করল শ্রীলঙ্কা। অপরদিকে চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে লড়াই করেই হারের স্বাদ নিল মধ্যপ্রাচ্যের দল আরব আমিরাত।

১৩০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা আমিরাতকে শুরু থেকেই পেয়ে বসেন লাসিথ মালিঙ্গা। প্রথম ওভারেই আমিরাতের দুই ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। আমিরাতের স্কোরশিটে কোনো রান যোগ না হতেই দারুণ ফর্মে থাকা রোহান মোস্তফাকে এলবিডল্ডিউর ফাঁদে ফেলেন মালিঙ্গা। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোহাম্মদ শাহজাদকেও (১) বোল্ড করেন তিনি। বল হাতে লঙ্কান অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দেন নুয়ান কুলাসেকারা। একে একে সাজঘরে ফেরান আমিরাতের মোহাম্মদ কালিম (৭) ও মোহাম্মদ উসমানকে (৬)। পঞ্চম উইকেটে ২২ রানের জুটি গড়ে আমিরাতকে ম্যাচে ফেরান সাইমন আনোয়ার ও স্বপ্নিল পাতিল।

সাইমন আনোয়ার ব্যক্তিগত ১৩ রানে হেরাথের শিকার হলে বিপদে পড়ে আমিরাত। সপ্তম উইকেটে অধিনায়ক আমজাদ জাভেদকে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়ে ফের ম্যাচের হাল ধরেন স্বপ্নিল। কিন্তু দলীয় ৮৫ রানে মালিঙ্গার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে স্বপ্নিল (৩৭) সাজঘরে ফিরলে ম্যাচ ফসকে যায় আমিরাতের হাত থেকে। অধিনায়ক জাভেদও বেশিক্ষণ থাকলেন না ক্রিজে। তার ব্যক্তিগত ইনিংসের যবনিকাপাত ঘটে ১৩ রানে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সেরা বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। ২৬ রানের বিনিময়ে লাভ করেছেন চার উইকেট। দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হন মালিঙ্গা।নুয়ান কুলাসেকারা পকেটে জমা করেন তিন উইকেট। রঙ্গনা হেরাথ সন্তুষ্ট ছিলেন ২ উইকেট নিয়ে।

এদিকে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কার শুরুটা অবশ্যই ভালোই ছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৮ রান আসে তাদের। লঙ্কান দুই ওপেনার তিলকরত্নে দিলশান ও দিনেশ চান্দিমাল শাসন করছিলেন আমিরাতের বোলারদের। আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদের আঘাতে লঙ্কান শাসনের অবসান ঘটে। ব্যক্তিগত ২৭ রানে বিদায় নেন দিলশান। তার ২৮ বলের ইনিংসটি চারটি বাউন্ডারিতে সমৃদ্ধ। কিন্তু দুর্দান্ত ফর্মে থাকা চান্দিমাল খুব সহজেই কি বিদায় নেবেন? ফিফটি করেই মাঠ ছেড়েছেন। করেছেন ঠিক ৫০ রান। ৩৯ বলে সাতটি চার ও একটি ছক্কায় মূল্যবান ইনিংসটি সাজান শ্রীলঙ্কার এই উইকেটরক্ষক। এটাই লঙ্কানদের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

এরপর শুরু হয় আমিরাতের বোলারদের শাসন। শ্রীলঙ্কার ভক্তরা একে দুঃশাসনই বলবেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই কড়া শাসন চলে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। আমজাদ-নাভিদদের বোলিং তাণ্ডবে একে একে বিদায় নেন শ্রীবর্ধনা (৮), ম্যাথুস (৬) ও জয়সুরিয় (১০)। বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আমিরাতের সেরা বোলার আমজাদ। ২১ রান খরচায় দুটি উইকেট নেন মোহাম্মদ শাহজাদ। দুটি উইকেট দখলে নেন আমিরাতের আরেক পেসার মোহাম্মদ নাভিদ। অলরাউন্ডার রোহান মোস্তফা ১৭ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন একটি উইকেট।