মেইন ম্যেনু

জলাবদ্ধতা, যানজট কমছেই না

চ্যালেঞ্জে তিন সিটি মেয়র

নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে চ্যালেঞ্জে পড়েছেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশনের মেয়র। যদিও চট্টগ্রামের নির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির এখনো দায়িত্ব বুঝে পাননি। তিনি আগামীতে দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু এরই মধ্যে ঢাকার দুই সিটি মেয়র রাজধানীর জলাবদ্ধতা, যানজট নিরসন, বর্জ্য অপসারণ, রাস্তাঘাট সংস্কারসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ প্রয়োজনীয় অর্থ বা ক্ষমতা কোনোটিই নেই মেয়রদের হাতে। বলা যায়, এক ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই অগ্রসর হতে হচ্ছে তিন মেয়রকে।

জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন চেষ্টা করছেন তার সিটি করপোরেশনের অর্থ সংকট দূর করতে। বর্তমানে তার অধীন সিটি করপোরেশন দেনাদার। সেখানকার রাজস্ব আদায়ের খাতগুলো অনেক দিন থেকেই বন্ধ। তাই দায়িত্ব নিয়েই সাঈদ খোকন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজস্ব আদায়ের খাতগুলো চিহ্নিত করেছেন। পদক্ষেপ নিয়েছেন আয় বাড়ানোর। অন্যদিকে আর্থিক দিক থেকে দক্ষিণের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আধুনিক স্বপ্নচারী মেয়র আনিসুল হক বৃহত্তর পরিসরে নগর পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন। তার স্বপ্ন, সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকাকে বদলে দেওয়া। ঢাকার উন্নয়নে জড়িত ৫৮টি দফতর-অধিদফতর কোনোটাই সিটি করপোরেশেনের আওতায় নয়। তার পরও তাদের নিয়েই কাজ করতে চান দুই সিটি মেয়র। মেয়ররা খতিয়ে দেখেছেন সড়কে থাকা রেলগেটগুলো ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ। এ জন্য রেলগেটের ওপর ছোট পরিসরে ওভারপাস তৈরি করা যায় কি না তা নিয়ে কথা বলবেন রেলমন্ত্রীর সঙ্গে। এ ব্যাপারে রেলমন্ত্রীর সহায়তা চাইবেন। রেল মন্ত্রণালয় সহায়তা না করলে ভবিষ্যতে সিটির অর্থে রেলগেটের ওপর যান চলাচলের ওভারপাস করা যায় কি না তার হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটির জন্যই আরেকটি বড় সমস্যা বর্জ্য অপসারণ। অথচ পাশের দেশ ভারতের কলকাতা সিটি করপোরেশনে ময়লা পোড়ানোর জন্য রয়েছে আধুনিক ব্যবস্থা। পরিবেশের ক্ষতি না করে ফুটপাথের পাশেই ছোট্ট ঘরের মধ্যেই কলকাতার ময়লা-আবর্জনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এ পদ্ধতি ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি গ্রহণ করতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

সূত্রমতে, নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করার পর ইতিমধ্যে অতিবাহিত এক মাসের কাজের মূল্যায়নও শুরু করেছেন ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন। এ এক মাসে প্রায় শতাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন দুই মেয়র। কিছু কাজও শুরু করেছেন। আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব না নিলেও বসে নেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির। এক মাসে মেয়রদের উপলব্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসনই হবে তাদের প্রথম অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ। এ ছাড়াও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে মূল্য তালিকা নির্ধারণ, রাস্তায় বাতি লাগানো, জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশান সনদ অনলাইনের আওতায় আনা, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য বাসাবাড়িতে বিনামূল্যে পলিথিন ব্যাগ পেঁৗছে দেওয়া অন্যতম।

এক মাসের কাজের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, এরই মধ্যে নগরীর দক্ষিণাংশের ৯৫ শতাংশ বাতি নতুন করে লাগানো হয়েছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশান সনদ অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে এর কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য বাসাবাড়িতে বিনামূল্যে পলিথিন ব্যাগ পৌছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে মহিলা কাউন্সিলরদের সহায়তায় কমিটি কাজ করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়াসার সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। কারণ জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নতি করতেই হবে। সাঈদ খোকন জানান, রমজান মাস উপলক্ষে হোল্ডিং ট্যাঙ্ ১৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পবিত্র রমজান মাসে প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা টানিয়ে দেওয়া হবে। দোকানিদের তালিকা অনুসারেই পণ্য বিক্রি করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বৈঠক হয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও। গুলিস্তান থেকে শুরু করে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচ থেকে ফুটপাথের দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। ডিএমপির সঙ্গে বৈঠক করে যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্মার্ট সিটি প্রোগ্রামের আওতায় ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। বিলবোর্ড সরানো হয়েছে। রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় ভবনধস ঝুঁকিমুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকার সদরঘাট, গুলিস্তান, শাহবাগ, কাপ্তানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আটটি মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভেজালমুক্ত খাদ্য বিক্রির জন্য ভাসমান দোকানিদের মধ্যে ৫০০ কার্ড বিতরণ করা হবে। ওয়াসার পানির পাম্প বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সাঈদ খোকন তার এলাকার হাতছাড়া ও বেদখল হয়ে থাকা খেলার মাঠগুলো নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দিতে তৎপর হয়েছেন। ইতিমধ্যে পুরান ঢাকার ধুপখোলা মাঠ দখলমুক্ত করা হয়েছে। মাঠগুলোকে জনগণের কাছে ছেড়ে দেওয়াই তার লক্ষ্য। তার এলাকার পার্কগুলোর সুযোগ-সুবিধা নিয়েও চিন্তা করছেন। এ সিটিতে থাকা দুই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কী ধরনের সহায়তা করতে পারেন সেগুলো নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বলেন, নগরীর বর্জ্য সরানোর কাজ চলছে এবং বিভিন্ন রাস্তায় বাতি লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। স্বল্পমেয়াদে সমস্যা সমাধান হবে না। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল দায়িত্ব ওয়াসার। নগরীর পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য বড় বড় ড্রেনগুলো নির্মাণ করে ওয়াসা। আর সিটি করপোরেশন বাসাবাড়ি থেকে পানি নিষ্কাশনে ছোট ছোট ড্রেন নির্মাণ করে। গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণ করার ফলে ওয়াসার অধিকাংশ ড্রেন বন্ধ হয়ে আছে। পানি সরছে না। এ বিষয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।



(পরের সংবাদ) »