মেইন ম্যেনু

‘ছদ্মবেশে’ তাবলীগ জামাতে, তবুও শেষ রক্ষা হলো না এক মানব পাচারকারীর

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে এক মানবপাচারকারী কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ছদ্মবেশে’ তাবলীগ জামাতের সঙ্গে যোগ দিয়ে মসজিদে মসজিদে অবস্থান করেছেন। কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয়নি, অবশেষে তাকে ধরা পড়তে হলো পুলিশের হাতে। তাও মসজিদ থেকেই।

আশরাফ ফকির (৪৫) নামের ওই মানবপাচারকারীর বাড়ি ফরিদপুর জেলায় হলেও তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বানারাই জামে মসজিদ থেকে। ফরিদপুর জেলার সালথা থানা পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজনগর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

আটক পাচারকারী আশরাফ ফকির সালথা থানার বিষ্ণুদি গ্রামের ইউসুফ ফকিরের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরেই তাবলীগ জামাতের সঙ্গে থেকে নিজেকে আত্মগোপনে রেখেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সালথা থানার বাতাগ্রামের আলতাব মাতব্বরের ছেলে মো. রাকিব মাতব্বরকে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য মানবপাচারকারী আশরাফ ফকির (৪৫) ১ লাখ টাকা নেন। গত ৩০ এপ্রিল রাকিব মাতব্বরকে মালোয়োশিয়া পাঠানোর জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে যায় পচারকারী আশরাফ। এরপর থেকে রাকিব মাতব্বরের আর কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছিলনা।

এদিকে আশরাফ ফকির আলতাব মাতব্বরকে জানায় তার ছেলে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে বন্দি আছে। তাকে মুক্ত করতে মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দিতে হবে। তিনি ওই টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এরপর ৩ মাস পেরিয়ে গেলে এখনও আলতাব মাতব্বর তার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না।

অবশেষে গত ৭ জুলাই নিখোঁজ মো. রাকিব মাতব্বরের বাবা আলতাব মাতব্বর মানবপাচারকারী আশরাফ ফকিরকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের বিরুদ্ধে সালথা থানায় মামলা করেন। সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিল্লুর রহমানের তথ্যের ভিত্তিতে রাজনগর থানার এসআই আবুল হোসেন বানারাই জামে মসজিদে তাবলীগ জামাতের সঙ্গে আত্মগোপনে থাকা আশরাফ ফকিরকে আটক করেন। পরে বুধবার দুপুরে রাজনগরে সালথা থানার এসআই মো. জিল্লুর রহমান এসে আসামিকে নিয়ে যান।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সালথা থানার এসআই মো. জিল্লুর রহমান জানান, মো. রাকিব মাতব্বর ৩ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার বাবার কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় আশরাফ ফকির। এ ব্যাপারে মামলা হলে তাকে রাজনগর থানা পুলিশের সহায়তায় আটক করা হয়।