মেইন ম্যেনু

ছাগলে উন্নয়ন হলেও আমাদের গরুর অভাব

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘দেশে চতুষ্পদ জন্তু ছাগলের ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নয়ন হলেও আমাদের গরুর অভাব রয়েছে। বিশেষ করে গরুর দুধের যে চাহিদা আমরা তা পূরণ করতে পারছি না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী তৃতীয় ডেইরি, মৎস ও পোষাপ্রাণি মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিন বছরের মধ্যে দুধ সরবরাহ ও আমিষ-খাদ্য উৎপাদনের আমূল পরিবর্তন আনার জন্য গো-খামারী, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের অঙ্গীকার করার আহ্বান জানাই, আগামী ৩ বছরের মধ্যে গরুর যে অভাব আছে তা পূরণ করার চেষ্টা করেন। যাতে দুধ ও আমিষের সরবরাহ তিনগুণ বাড়াতে পারি।’ এ সময়ের মধ্যে শিশুখাদ্যের ৫০ শতাংশ পূরণ করারও আহ্বান জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা আমূল পরিবর্তন করেছি। ৪৫ বছরে ১০ লাখ টন থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন শস্য উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। মৎস উৎপাদনেও ১০-১২ বছরে অনেক উন্নতি সাধন করেছি। তবে চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে ৪৫ বছর আগে যে অবস্থানে আছি এখনও সেখানেই আছি। এখানে আমরা উন্নতি করতে পারি নাই। আমাদের যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে এটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের গো-সম্পদ উন্নয়ন করতে হবে।’

উন্নতমানের গরু উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘৩ বছরের মধ্যে আমাদের উন্নত মানের গরু উৎপাদন করতে হবে। গরু উৎপাদনে ভ্যারাইটি থাকতে হবে, সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নির্দেশ দেয়া হবে। তিন বছরে এই কার্যক্রমগুলো হাতে নেয়ার চেষ্টা করেন। সজহ শর্তে গরুতে যে ঋণ দেয়া হচ্ছে তা গ্রহণ করলে এ পরিবর্তন সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, এফবিসিসিআইর সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমদ প্রমুখ।

১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত চলবে এ মেলা। মেলায় দেশের ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতনামা দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানসহ ৫৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। মেলায় অ্যানিমেল হেলথ সেক্টরে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য ও উপকরণ প্রর্দশন করা হবে। এসবের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং আহরিত
জ্ঞান দ্বারা উদ্যোক্তা এবং খামারীরা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলা চলাকালীন ডেইরি মৎস ও পোষা প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সাতটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন দেশি-বিদেশি ডেইরি, মৎস ও পোষা প্রাণিবিজ্ঞানীরা এ সেমিনারে অংশ নেবেন। এতে ৪৬টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।