মেইন ম্যেনু

ছাত্রদলের কমিটিতে ধর্ষণ মামলার আসামি!

ছাত্রদলের কমিটিতে জায়গা পেলেন সংগঠন থেকে ‘অবসরে’ যাওয়া, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরে জড়িত এমনকি ধর্ষণ মামলার আসামি। খোদ ছাত্রদলের নেতারা বলছেন, দল ও সংগঠনের সব ‘সিন্ডিকেট’-এর ভাগ মেটাতে গিয়ে অস্বাভাবিক কমিটি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন। পুনর্বাসিত করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক নিষ্ক্রিয় কর্মীকে। তবে গুম হওয়া নেতাদের কমিটিতে রাখায় দলীয় চেয়ারপারসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ছাত্রদলের কর্মীরা।

দীর্ঘ নাটকীয়তার পর শনিবার রাতে ছাত্রদলের ৭৩৬ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেন বেগম খালেদা জিয়া। এর আগে ২০১৪ সালের ১৪ অক্টাবর রাজিব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি দেয়া হয়েছিল। এবার কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে গিয়ে নতুন করে ৫৮৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

আগের কমিটিতে জায়গা না পেয়ে বিদ্রোহ হলেও এবার সেই সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করছেন ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তাদের ভাষ্য- সবাইকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কমিটিতে নেতার সংখ্যা বেড়ে গেছে।

যে কারণে ছাত্রদলের কমিটিতে এত নেতা

ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সবাইকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কমিটিতে নেতার সংখ্যা বেড়ে গেছে বললেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। জানা গেছে, আংশিক কমিটি গঠনের পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার‌্যালয়ের সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা। একপর্যায়ে ভাঙচুর করা হয় কেন্দ্রীয় কার‌্যালয়ে। জিয়াউর রহমানের মুর‌্যালও হামলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। মূলত অসন্তোষ দমাতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যথাসম্ভব বেশি নেতাকর্মীকে স্থান দেয়ার দিকে নজর রাখেন বিএনপির হাইকমান্ড। এ ছাড়া সামনে দলের ষষ্ঠ জাতীয সম্মেলন। কমিটি নিয়ে নতুন করে যাতে বিদ্রোহ বা ক্ষোভ না প্রকাশ পায়, সে জন্য মোটামুটি ‘বিদ্রোহী’ সবাইকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া আংশিক কমিটির মতো পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও একাধিক সিন্ডিকেটের আবদার রাখতে গিয়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কমিটি দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

রবিবার সকালে আক্ষেপ করে সংগঠনটির একজন সহসভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই যদি হয় রাজনীতি, তাহলে ফান বলবো কোনটাকে। সবার আবদার রাখার জন্য যদি বহুদিন আগে রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়া, সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়, ধর্ষণ মামলার আসামি, কার‌্যালয়ে হামলায় জড়িতদের নেতা বানানো হয়, তাহলে রাজনীতি কীভাবে হবে!”

কেউ কেউ বলছেন, ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে পরিচিত একাধিক সিন্ডিকেটের মধ্যে পদ ভাগাভাগি করতে গিয়ে নেতার সংখ্যা বেড়ে গেছে। পূর্ণাঙ্গ ও ইউনিট কমিটিতে সিন্ডিকেট সদস্যদের কেউ নিরাশ হয়নি বলেও আলোচনা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের পছন্দের প্রার্থী আল মেহেদীকে করা হয়েছে ঢাবির সভাপতি। আর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সহসম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর পছন্দের প্রার্থী আবুল বাশারকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক।

যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান ও আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের পছন্দের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকই হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে নিজ এলাকা নোয়াখালীর ওমর ফারুক কাওসার ছিলেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও শহীদ উদ্দিন এ্যানীর পছন্দের প্রার্থী। কিন্তু এ্যানীর পছন্দকে পাশ কাটিয়ে ওই পদ পেয়েছেন আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের প্রার্থী আসিফুর রহমান বিপ্লব।

প্রথমবারের মতো ঢাকা মহানগরে চার ভাগে বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টু, নাসির উদ্দিন পিন্টুর, পছন্দের প্রার্থীরা স্থান পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে অনেক দিন ধরে কারাগারে থাকা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানের অনুপস্থিতির সুযোগে তার অনুসারীদের কমিটি থেকে সরিয়ে দেয়ায় তার অনুসারী কমে গেছে বলেও জানা গেছে।

পদ পেয়েছেন ধর্ষণ মামলার আসামি!

শনিবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটির সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে ১৫টি শাখা কমিটি। এর মধ্যে আছে ঢাকা মহানগর কমিটিও। আগে ঢাকা মহানগরে উত্তর-দক্ষিণ নামে দুটি শাখা থাকলেও এবার ঢাকা পূর্ব ও পশ্চিম নামে আরও দুটো শাখা বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তরে সভাপতি হয়েছেন মিজানুর রহমান রাজ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন রুবেল। তবে রুবেলের বিরুদ্ধে স্কুলশিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় রুবেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর বাড্ডার চাইল্ডকেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একজন শিক্ষিকাকে ধর্ষণের মামলা হয়। বাড্ডা থানার ওই মামলায় (মামলা নং ৪৯) ২০০৫ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ওই অভিযোগে রুবেলকে সে সময়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ঢাকা মহানগর বিএনপির এক নেতার জোরালো সুপারিশে তাকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেশ একাধিক মাধ্যমে চেষ্টা করলেও রুবেলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ তালিকার কমিটিকে নেতিবাচক নয়,ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চান ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু। ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন,“দুঃসময়ে যাতে একজন জেলে গেলে অন্যজন নেতৃত্ব দিতে পারে, হয়তো সেই চিন্তা থেকে বড় কমিটি করা হয়েছে। তবে এটা ঠিক হলো কি না তা প্রমাণ হবে আবার আন্দোলন শুরু হলে।”

ধর্ষণ মামলার আসামির পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,“বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এটা গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ সত্য হলে তার পদে থাকার সুযোগ নেই।”