মেইন ম্যেনু

ছাত্রদের হলে রাত কাটালেন দুই তরুণী, অতঃপর…

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে রাত কাটালেন দুই বহিরাগত তরুণী ছাত্রী। তাদের নিয়েই হোস্টেলের মধ্যে চলেছে রাতভর মদ্যপান। ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠন করেছে।

মাস চারেক আগে মদের বোতল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকায় ১০ জন পড়ুয়াকে বহিষ্কার করেছিলো শিবপুরের আইআইইএসটি। তার পরেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কী ভাবে মদ-মাদকে ভেসে যায়, উঠছিল প্রশ্ন।

এ বার ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালঢেও ঘটলো তেমন কাণ্ড। ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে রাত কাটালেন দুই বহিরাগত তরুণী ছাত্রী। এবং তাদের নিয়েই হস্টেলের মধ্যে চলল অবাধ মদ্যপান। ওই দুই তরুণীর মধ্যে এক জন যাদবপুরের প্রাক্তনী!

এই ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পরেই হইচই শুরু হয়েছে প্রেসিডেন্সির অন্দরে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি ‘ডিসিপ্লিনারি কমিটি’ বা শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গড়ে পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষ।

প্রেসিডেন্সির পাঁচ পড়ুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্রী এবং স্কটিশ চার্চ কলেজের এক ছাত্রীকে নিয়ে রাতে হস্টেলে ঢুকেছিলেন। তার পরে হস্টেলের ক্যাম্পাসের ভিতরেই নেশা এবং নানাবিধ অশালীন কাজকর্ম করেন। পরে নিউ টাউন থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই পাঁচ পড়ুয়ার মধ্যে এক জন ওই হস্টেলেরই আবাসিক।

সম্প্রতি ঘেরাওয়ের নামে উপাচার্যের ঘরে ঢুকে কার্যত তাণ্ডব চালিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সির কিছু পড়ুয়া। উপাচার্যের ঘরেই চলেছিল ক্যানেস্তারা বাজানো, ধূমপান, এমনকী অশালীন আচরণও। সেই ঘটনায় আরও কালি ছিটিয়েছিল মহিলাদের অন্তর্বাস পরিহিত এক বহিরাগত তরুণের উপস্থিতি। এ বার বহিরাগতেরা হস্টেলে ঢুকে প্রকাশ্যে মদ্যপান করায় আরও এক বার প্রেসিডেন্সির মুখ পুড়ল বলেই মনে করছেন শিক্ষা শিবিরের একাংশ।

জানা গেছে, ৪ ডিসেম্বর রাত ১০টা নাগাদ এক আবাসিক প্রেসিডেন্সির অন্য চার পড়ুয়া এবং দুই তরুণীকে নিয়ে হস্টেলে ঢোকেন। অন্য আবাসিকেরা তৎক্ষণাৎ তাদের চলে যেতে বলেন। সে-কথায় কান না-দিয়ে তারা হস্টেলের করিডরে এবং মাঠে বসে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় অর্ধনগ্ন অবস্থায় মদ্যপান চালিয়ে যান। সঙ্গে সমানে চলতে থাকে হইহল্লা এবং অশালীন আচরণ। কয়েক জন আবাসিক সেই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ওই সাত জন মারমুখী হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে হস্টেলেরই কিছু আবাসিক নিউ টাউন থানায় ফোন করেন। পুলিশ এসে অবস্থা সামাল দেয়। ইতিমধ্যে অত্যন্ত বেশি মদ্যপানের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই ছাত্রী। হস্টেলের আবাসিকেরাই তাদের শুশ্রূষা করে পরের দিন সকালে বাড়ি পৌঁছে দেন।

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে হস্টেলের নিরাপত্তা নিয়ে। নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এত জন বহিরাগত কী ভাবে হস্টেলের ভিতরে ঢুকলেন? নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে কী ভাবেই বা তারা প্রকাশ্যে মদ্যপান চালিয়ে গেলেন?