মেইন ম্যেনু

ছাত্রলীগই আমার আবেগ উচ্ছ্বাস নির্ভরতার ঠিকানা

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যখন ছাত্রলীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল তখনও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আল নাহিয়ান খান জয়। সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল ও কর্মীবান্ধব এ নেতা ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের কারণে ছাত্র-শিক্ষকসহ সব মহলে হয়েছেন জনপ্রিয়। সদ্য ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাকে আইন বিষয়ক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে তিনি শহীদ সার্জেট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরই হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পান তিনি। সম্প্রতি একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে তার ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

কেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের এই তরুণ নেতা বলেন, এটা অনেক লম্বা ইতিহাস। আমার দাদা মোশাররফ হোসেন খান ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। ছোট বেলায় দাদার কোলে বসেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা শুনতাম। সেই ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ত্যাগ-তিতীক্ষার কথা দাদা আমাকে প্রায় শোনাতেন। বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম ও সাহসী গল্পগুলো শুনে অধীর আগ্রহে আরো শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে যেতাম। পরবর্তীতে আমার চাচা আবদুল হালিম খান ও বাবা আবদুল আলীম খানের কাছে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের অনেক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথাও শোনার সুযোগ আমার হয়েছে। তারা সবাই পরামর্শ দিয়েছিলেন, রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর আদর্শই যেন লালন করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু জানিয়ে জয় বলেন, তারপর থেকে দলের সঙ্কটে, সুসময়ে ও দুঃসময় সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মূল্যায়নও পেয়েছি। সর্বশেষ ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটিতে আইন সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমাকে। আমি বিশ্বাস করি জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ মেধা পরিশ্রম দিয়ে এই সংগঠনের জন্য কাজ করে যাবো।

রাজনীতিতে আপনার পরিবারের কী স্বর্ণালী ইতিহাস রয়েছে? এমন জিজ্ঞাসার প্রতিউত্তরে তিনি জানান, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় থেকেই তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিল। মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন তার দাদা মোশাররফ হোসেন খান। তিনি ভোলার মনপুরা-তজুমদ্দিন থানার রেভিনিউ সার্কেল অফিসার ছিলেন। বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী এ ব্যক্তি স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, গৌরনদী ও মুলাদী থানার মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের একজন অন্যতম অর্থদাতা ছিলেন।

পরিবারের রাজনীতি সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানাতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, আমার বাবা আবদুল আলীম খান বিশিষ্ট সমাজ সেবক, বরিশাল বিভাগের গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৩ সাল থেকে উপ-বৃত্তি প্রদান করে আসছেন। তিনি আশির দশকে ঢাকার বৃহত্তর বরিশাল ছাত্র সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাও ছিলেন। বরিশাল থাকা অবস্থায় আমার বাবা ছাত্রলীগ স্কুল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। আমার চাচা মৃত আবদুল হালিম খানও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি আগরপুর ইউনিয়ন পরিষদ (বর্তমান জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন) থেকে চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন, থানা আ.লীগের আমৃত্যু সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে তিনি পটুয়াখালী ও বরিশাল উত্তর মহকুমার মুজিব বাহিনীর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

বাবা-দাদা-চাচার মতো আল নাহিয়ান খান জয়ের ফুফুও সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফুফুর বিষয়ে জয় বলেন, আমার বড় ফুফু মৃত কহিনুর বেগম। তিনি একজন শিক্ষানুরাগী, বাবুগঞ্জ ও মুলাদী থানার মহিলা আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট সংগঠক ছিলেন। তার স্বামী মরহুম মোসলেম উদ্দীন খান মুলাদী মাহামুদজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং মেজ ফুফু বিলকিস বেগম গোলেনুর আওয়ামী লীগের মনোনীত বাবুগঞ্জ থানা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবুগঞ্জ থানা মহিলা আ.লীগের বিশিষ্ট সংগঠকও ছিলেন তিনি। তবে বিশেষভাবে একটা কথা উল্লেখ করার মতো। তা হলো, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নবম সেক্টরের কন্ট্রোল রুম ছিল আমাদের ঘরে। কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে ছিলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত মরহুম ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক।

ঢাবির ঐতিহ্যবাহী একটি হলের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, সফলতা-ব্যর্থতা কীভাবে মূল্যায়ণ করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শহীদ সার্জেট জহুরুল হক হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় হল। আইন বিভাগে ভর্তি হলেও শুরু থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছি। ধরে নিতে পারেন রাজনীতির মাঠে প্রাথমিক সফলতার কারণে আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে অব্যাহতভাবে কাজ করেছি। হলের উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে প্রশাসনের সঙ্গে থেকে কাজ করেছি। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কী করেছি তার মূল্যায়ন সাধারণ শিক্ষার্থীরাই দিতে পারবেন। হলের দায়িত্বে থাকাকালীন ডিবেট অনুষ্ঠান, ক্রীড়া অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করেছি। হল মিলনায়তনে বড় অনুষ্ঠান করে বীরাঙ্গনাদের দুইবার সন্মানিত করেছি। আমরা দায়িত্বপালনকালে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছি।

ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে কী ভাবছেন, এরকম জিজ্ঞাসার উত্তরে নাহিয়ান জয় বলেন, পারিবারিক ঐতিহ্যগত কারণেই ছাত্রলীগের মতো আদর্শিক একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে জীবন শুরু করতে পেরেছি। আশা করি, মৃত্যু পর্যন্ত এই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবো না। তবে রাজনীতিতে অপপ্রচার থাকবেই। ব্যক্তি স্বার্থেই অনেকেই নানাভাবে গতি থামিয়ে দেয়ার জন্য অপচেষ্টা চালান। তাছাড়া মুখোশধারী বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরাও এই প্রপাগান্ডায় সামিল হন। তবুও আমি বলবো, আমার অন্তর্যামীর শপথ! আমার যৌবনের ভালোবাসা, আবেগ-উচ্ছ্বাস আর পরম নির্ভরতার ঠিকানা, প্রাণের প্রতিষ্ঠান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসেই এবং আমৃত্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে রাজনীতি করতে চাই।

ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে কোথায় দেখতে চান- জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাওয়া-পাওয়ার হিসেব কষে রাজনীতিতে যুক্ত হইনি। বঙ্গবন্ধু আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই কিন্তু ছাত্রলীগের ছায়াতলে এসেছি। এই আদর্শ বুকে নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই। দলের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করার শপথ নিয়েছি। সর্বোচ্চ করে যাবো। প্রিয় নেত্রী যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন পরবর্তীতে অন্য কোথাও দায়িত্ব দেন সেটাও যথার্থভাবে পালন করতে কার্পণ্য করবো না। পাশাপাশি রাজনীতিতে থেকে দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্নও আমার রয়েছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ণের লক্ষ্যেও আমি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। আশা করছি শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা পেলে দল ও দেশের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করে দেখাতে পারবো।

রাজনীতিতে অর্জন কী রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা হরতাল ও অবরোধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বোমাবাজদের ধরিয়ে দেয়ার কারণে পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে ডিএমপি পুরস্কার পেয়েছি। এছাড়া, শেরে বাংলা স্মৃতি পদক ২০১৪ পাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতা স্মৃতি পদক ২০১৫ পাওয়ার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে।

তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে মূল্যায়ন করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার অসাধারণ নেতৃত্বের কারণে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যেভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে করে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কদর বাড়াতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। সেই ভিশন বাস্তবায়নে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।  জাগো নিউজ।